শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:৫২ পূর্বাহ্ন

সাইকেল চালিয়ে স্কুলে ছুটে বালিকারা

তোফায়েল হোসেন জাকির
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২২

তোফায়েল হোসেন জাকির: ইভা, জান্নাতি ও হিয়া মনি। আরো রয়েছে শতাধিক বালিকা। সবার কাছে বাইসাইকেল। ব্যাগভর্তি পাঠ্যবই নিয়ে দলবেঁধে যায় স্কুলে। পাঠগ্রহণ শেষে একই সঙ্গে প্যাডেল চালিয়ে আবার ফিরে বাড়িতে। কতিপয় বখাটেদের উত্যাক্ত ও নির্যাতনকে পরোয়া না করে দুর্বার গতিতে এভাবে বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসা করছে তারা।

সম্প্রতি এমনি এক চিত্র দেখা গেছে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার বাসুদেবপুর চন্দ্র কিশোর স্কুল এন্ড কলেজে। এ প্রতিষ্ঠানটির শতাধিক বালিকা দলবদ্ধভাবে বাইসাইকেল চালিয়ে পাঠগ্রহণে আসে আবার ছুটির ঘন্টা বাজলেই নিরাপদে ফিরে নিজ নিজ বাড়িতে।

জানা যায়, বাসুদেবপুর চন্দ্র কিশোর  স্কুল এন্ড কলেজের লেখাপড়ার মান ভালো হওয়ায় দূর- দূরান্ত থেকে বালিকারা এখানে এসে ভর্তি হচ্ছে। গ্রামের এসব জায়গা থেকে স্কুলে আসতে তাদের অনেক বেগ পেতে হয়। বর্ষাকালে কাঁদা-পানি মাড়িয়ে আসতে আরো অনেক কষ্ট হয়। সময় মত রাস্তায় যানবাহন পাওয়া যায় না। কখনো পাওয়া গেলেও ভাড়া বেশি নেয় চালকরা। একই সঙ্গে বখাটেদের উত্যাক্তের শিকার হওয়ারও আশঙ্কা করা হয়। ফলে দলবেঁধে সাইকেল নিয়ে স্কুলে যাওয়া-আসায় নিরাপত্তা বেশি থাকে। এসব কথা চিন্তা করে স্কুলের শিক্ষক ও অভিভাবকরা মিলে ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও সাইকেল নিয়ে স্কুলে আসবে এমন সিদ্ধান্তের পর বতর্মানে শতাধিক ছাত্রী নিয়মিত সাইকেল নিয়ে স্কুলে যাতায়াত করছে।

অস্টম শ্রেণির ছাত্রী ইভা আক্তার বলে, আমার বাড়ি দুই কিলোমিটার দূরে।  প্রতিদিন বাইসাইকেল চালিয়ে স্কুলে যাতায়াত করি। প্রথম প্রথম একটু সমস্যা হতো। কিন্তু এখন কোনো সমস্যা হয় না। আগে হেঁটে স্কুলে আসতে অনেক সময় লাগত। তাই নিয়মিত স্কুলে আসা-যাওয়া হতো না। এখন বাইসাইকেল নিয়ে আসার কারণে অনেক সময় বেঁচে যায়।

হিয়া মনি নামের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী জানায়, বাইসাইকেল চালিয়ে স্কুলে যাওয়া-আসা করতে সময় ও অর্থ দুটোই বাঁচে। এছাড়া কোন ইভটিজিংয়ের শঙ্কা থাকে না। তাই আমরা বান্ধবীরা একখানে হয়ে দলবেঁধে স্কুলে যাই। পাঠগ্রহণ শেষে আবার বাসায় ফিরি।

আব্দুর রহিম নামের এক অভিভাক জানান, তার মেয়ে ষষ্ঠ শেণিতে পড়ে। সময়-অর্থ বাঁচাতে এবং নিরাপদে স্কুলে যাতায়াত করতে মেয়েকে বাইসাইকেল কিনে দিয়েছে। বান্ধবীদের সঙ্গে একত্রে হয়ে বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসা করে। এতে করে নিজেও চিন্তামুক্ত থাকেন।

বাসুদেবপুর চন্দ্র কিশোর স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ একেএম আব্দুর নূর বলেন, শিক্ষায় মেয়েদের উদ্বুদ্ধ করতে অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে তাদের বাইসাইকেলের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। এখন আমার স্কুলের মেয়েরা দলবেঁধে সময় মতো বাইসাইকেল চালিয়ে স্কুলে আসে। আমরাও সাইকেলে আসতে ওদের উৎসাহিত করি। এক সঙ্গে দলবেঁধে এলে নিরাপত্তা নিয়ে ভয় থাকে না।

পলাশবাড়ী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহতাব হোসেন জানান, আগের চেয়ে নারী শিক্ষার হার বেড়েছে। তাদের স্কুলে আসতে উৎসাহিত করতে উপবৃত্তিসহ বিভিন্ন প্রকার সরকারি সুযোগ সুবিধা অব্যাহত রয়েছে । সেই সঙ্গে ওই বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা দলবেঁধে বাইসাইকেল চালিয়ে পাঠগ্রহণ করতে যায়, এটা খুবই ভালো দিক।

 

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | জাগো২৪.নেট

কারিগরি সহায়তায় : শাহরিয়ার হোসাইন