লালমনিরহাট জেলার ৫টি উপজেলায় ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন প্রশাসন পুরো পুরি বন্ধ করতে পারছে না,তিস্তা ও ধরলা নদীতে ড্রেজার মেশিনের পাশাপাশি রাতের আঁধারে ট্রাক দিয়ে বালু লুট পাট চলছে প্রতিনিয়ত।অবৈধ বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত ইউনিয়ন ভুমি অফিসের কিছু দূর্নিতীবাজ কর্মচারী রাজনৈতিক দলের কর্মী,জনপ্রতিনিধি,এবং সাংবাদিক পরিচয় ধারী কিছু ব্যাক্তির সম্পৃক্ত থাকার প্রমান পাওয়া গিয়েছে।
লালমনিরহাট জেলায় সরকার অনুমোদিত বালু মহাল না থাকায় রাস্তা, ঘাট,স্কুল,কলেজ সহ অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাবহৃত বালু ও ভিটমাটির বৃহত অংশের যোগান তিস্তা ও ধরলা নদীর জেগে উঠা চর থেকে আসে,ফলে অসাধু বালু ব্যাবসায়ীরা রাতের আধাঁরে এই দুই নদী থেকে প্রতি নিয়ত বালূ তুলে নিয়ে বিক্রি করছে,স্থানীয় চাহিদা বেশী থাকায় কখনো কখনো অসাধু বালু ব্যাবসায়ীরা ফসলি জমি, পুকুর নালা বা খাল থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু তুলে বিক্রি করে আসছে।অবৈধ বালু ব্যাবসায়ীদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা,ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে মেশিন জব্দ,অর্থ জরিমানা করে কোন প্রতিকার পাচ্ছে না।
অভিযান পরিচালনা করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফিরে আসার পরেই আবার বালু উত্তোলন কারীরা সক্রিয় হয়ে উঠে।ফলে জেলার বৃহৎ দূটি নদী ধরলা ও তিস্তা থেকে যত্র তত্র বালু উত্তোলন করায়,প্রতিবছর ধরলা ও তিস্তা পারের মানুষ তীব্র নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ছে,এতে হাজার হাজার মানুষ বসত বাড়ি ফসলি জমি হারাচ্ছে।গত বছর তিস্তা নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালু তুলে বিক্রি করায় খুনিয়াগাছ ইউনিয়নে কালমাটি দীঘল টারী এলাকায় ভয়াবহ নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে,এতে শত শত বসত ভিটা ফসলি জমি একটি মসজিদ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়,অন্যদিকে ফসলি জমি থেকে বালু ও মাটি তুলে বিক্রি করায় জমির উর্বরতা হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি ফসলি জমি কমে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।
লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলায় অর্ধশতাধিক ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু ও পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে , এতে ধরলা নদীর ভাঙ্গন সহ নদীর গতিপথ পরিবর্তনের আশংকা দেখা দিয়েছে। হাতিবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান,গড্ডিমারি ইউনিয়নে অবৈধ ভাবে একাধিক জায়গায় বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। কালিগঞ্জ উপজেলার তিস্তা নদী থেকে দিনে রাতে বালু লুটপাট চলছে,আদিতমারি উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের একাধিক জায়গায় ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।আদিতমারি উপজেলা প্রশাসন প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা করে এর প্রতিকার পাচ্ছে না।
লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট ধরলা নদীর সেতুর পাশ থেকে প্রতিদিন সন্ধ্য থেকে ভোর রাত প্রযন্ত শত শত ট্রাক বালু উত্তোলন করে বিক্রি করা হচ্ছে।লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার শেষ সীমানা হবার সুবাদে সিন্ডিকেট করে এই বালু উত্তোলন ও বিক্রি হচ্ছে।এর পাশাপাশি ওয়াবদা বাজারে একাধিক ড্রেজার মেশিনে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে একটি চক্র।মোগলহাট ইউনিয়নের দুরাকুটি, মেঘারামে বালু উত্তোলনকারীরা সক্রিয়। এছাড়া রাজপুর খুনিয়াগাছ,মহেন্দ্রনগর,হারাটি ইউনিয়নে একাধিক জন প্রতিনিধির যোগসাজসে অবৈধ ভাবে ড্রেজার মেশিনে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
এছাড়া তিস্তা টোল প্লাজার পাশে প্রতি রাতে শত শত ট্রাক বালু তুলে বিক্রি করছে গোকুন্ডা ইউনিয়নের দুইজন ইউপি সদস্য ও সরকারি দলের নেতা কর্মী পরিচয়ধারীরা এদিকে প্রশাসন বালু উত্তোলনের লাগাম টানার জন্য ঘন ঘন ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে তখন জেলার অবকাঠামো উন্নয়ন বালুর উৎসের অভাবে তা ব্যাহত হয়, ফলে জেলার নির্মান শ্রমিক, ট্রাক্টর মালিক ও ঠিকাদার সমিতি মনববন্ধন ও জেলা প্রশাসক বরাবরে ইতিপূর্বে স্মারকলিপি প্রদান করে,তারা লালমনিরহাট সদরে খুনিয়াগাছ তিস্তার চর,কুলাঘাট ধরলার নদীর চর, মোগলহাট ধরলা নদীর চর এলাকায় সরকারি বালু মহল বন্দোবস্তের দাবী জানান। লালমনিরহাট জেলা ঠিকাদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান প্লাবন বলেন,লালমনিরহাট সদর উপজেলা কোথাও বালু মহাল না থাকায় ঠিকাদার গন সরকারের অবকাঠামো উন্নয়নে যেসকল কাজ হাতে নিয়েছেন তা সময় মতো নির্মান শেষে হস্তান্তর করতে পারছেনা।এতে সরকারের উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে।
লালমনিরহাট জেলা ট্রাক্টর মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক রাসেদুল হাসান রাসেদ বলেন,বালুর উৎস না থাকায় যেখানে বালু পাওয়া যায় আমাদের ট্রাক্টর ড্রাইভার সেখান থেকে বালু নিয়ে ভাড়ায় গ্রাহককে পৌছায় দেন, কিন্তু ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গন সেটা অনেক সময় না বুঝে ট্রাক্টর মালিকদের জরিমানা করেন, লক্ষ লক্ষ টাকা দিয়ে গাড়ী কিনে জরিমানার ভয়ে গাড়ী বসিয়ে রাখতে পারিনা,তাই সরকার বালু মহাল ঘোষনা করলে এই সমস্যা দূর হবে। লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন,বালু উত্তোলন এবং নদী থেকে বালু তুলে বিক্রি বন্ধ করতে সরকারের কঠোর নির্দেশনা এসেছে।লালমনিরহাট সদর উপজেলা সহ জেলার কয়েকটি স্থানে সরকারি খাস জমি বালু মহাল ঘোষনার পক্রিয়া চলছে।অবৈধ বালু উত্তোলন কারীদের বিরুদ্ধে আমাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
শাহজাহান সাজু , ডিসট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, লালমনিরহাট 


















