বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লালমনিরহাটে যুবককে মধ্যযুগীয় কায়দায়  নির্যাতনের অভিযোগ 

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে সুমন মিয়া নামে এক যুবককে বিবস্ত্র করে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবেশী দেশ থেকে আনা মাদকের চালান র‍্যাবের হাতে ধরিয়ে দেবে সন্দেহে তাকে বেধড়ক পেটানো হয়। গত ২৫ জুলাই নির্যাতনের ওই ঘটনা ঘটলেও গতকাল রবিবার নির্যাতনের দৃশ্যের একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে জেলা জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
নির্যাতনের শিকার সুমন মিয়া কালীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের লতাবর গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে। আর যাদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তারা হলো- একই গ্রামের জমশের আলীর ছেলে মিলন মিয়া ও তার চাচাতো ভাই লিমন মিয়া এবং পাশের জেলা রংপুরের দুই ব্যক্তি। তারা সবাই মাদক কারবারে জড়িত বলে দাবি নির্যাতনের শিকার ওই যুবকের।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, একটি কক্ষে আটকে দুজন লোহার রড এবং হাত-পা দিয়ে বেধড়ক মারধর করছে সুমনকে। একপর্যায়ে তাকে নগ্ন করে পুরুষাঙ্গে পানির বোতল ঝুলিয়ে নির্যাতন করা হয়। এ সময় সুমন কান ধরে বারবার মাফ চাইলেও নির্যাতন অব্যাহত থাকে।
নির্যাতনের শিকার সুমন মিয়া জানান, গত ২৫ জুলাই রাত ১১টার দিকে লতাবর গ্রামে নিজ বাড়ির কাছ থেকে কয়েকজন মিলে তাকে উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে রংপুরের একটি বাসায় নির্যাতন করে। এ ঘটনায় কালীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। থানায় দেওয়া সুমন মিয়ার লিখিত অভিযোগের তথ্য এবং এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুই-তিন মাস আগে থেকে একই এলাকার মাদক কারবারি মিলন মিয়া ও তার তিন সহযোগী লিমন, রবিউল ও মিস্টার মাদক পরিবহনের জন্য ভারী (বহনকারী) হিসেবে কাজ করতে সুমনকে প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে মিলনের সঙ্গে সুমনের কথা-কাটাকাটি হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মিলন ও তার সহযোগীরা সুমনকে লতাবর এলাকার মোন্দাদীঘিরপাড় এলাকা থেকে তুলে নিয়ে যায়। পরে মিলন ও তার তিন সহযোগী মিলে সুমনকে বিবস্ত্র করে হাত-পা বেঁধে তার পুরুষাঙ্গে পানির বোতল বেঁধে দিয়ে লোহার পাইপ দিয়ে পেটাতে থাকে। একই সঙ্গে বিভিন্ন হুমকি দেয়। তারা নির্যাতনের দৃশ্যের ভিডিওচিত্র ধারণ করে নির্যাতনের কথা কাউকে জানালে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।
সুমন মিয়া বলেন, ‘মিলন মাদকের গডফাদার। সে প্রতিদিন এক হাজার বোতল ফেনসিডিল বিভিন্ন ভারী (বহনকারী) ব্যবহার করে বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছে দেয়। এসব মাদক গোড়ল বলাইরহাট এলাকা দিয়ে প্রতিদিন রাত ২টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে মিলনের কাছে এসে পৌঁছে। এ ছাড়া সে ভারতীয় চোরাই মোটরসাইকেলসহ নানা অপরাধের সঙ্গে যুক্ত। মিলন আমাকে প্রতিনিয়ত তুলে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। আমি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’ নির্যাতনের ঘটনায় গত ২৭ জুলাই কালীগঞ্জ থানায় লিখিত এজাহার জমা দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। সীমান্ত এলাকার একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, কিছুদিন আগেও মিলনের সম্পদ বলতে কিছুই ছিল না। কিন্তু গত কয়েক বছরে মাদকের কারবার করে গাড়ি- বাড়ির মালিক হয়েছে তিনি। প্রশাসন দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় দিনে দিনে শীর্ষ মাদক কারবারিতে পরিণত হয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নিজেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের ভুয়া পরিচয় দিয়ে মিলন মিয়া বলেন, ‘সে (সুমন মিয়া) আমার আপন চাচাতো ভাই, তাই আমি তাকে শাসন করেছি। নিউজটি না করলে হয় না। সে অন্যের প্ররোচনায় আমাকে ফাঁসাতে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ক্লিপ প্রসঙ্গে মিলন বলেন, ‘ওই ভিডিও এডিট করে আমার মাথা বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। কালীগঞ্জ থানার ওসি ইমতিয়াজ কবির বলেন, ‘এ বিষয়ে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে। মামলা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলছে।’

লালমনিরহাটে যুবককে মধ্যযুগীয় কায়দায়  নির্যাতনের অভিযোগ 

প্রকাশের সময়: ০৭:০৪:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ জুলাই ২০২৩
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে সুমন মিয়া নামে এক যুবককে বিবস্ত্র করে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবেশী দেশ থেকে আনা মাদকের চালান র‍্যাবের হাতে ধরিয়ে দেবে সন্দেহে তাকে বেধড়ক পেটানো হয়। গত ২৫ জুলাই নির্যাতনের ওই ঘটনা ঘটলেও গতকাল রবিবার নির্যাতনের দৃশ্যের একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে জেলা জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
নির্যাতনের শিকার সুমন মিয়া কালীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের লতাবর গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে। আর যাদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তারা হলো- একই গ্রামের জমশের আলীর ছেলে মিলন মিয়া ও তার চাচাতো ভাই লিমন মিয়া এবং পাশের জেলা রংপুরের দুই ব্যক্তি। তারা সবাই মাদক কারবারে জড়িত বলে দাবি নির্যাতনের শিকার ওই যুবকের।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, একটি কক্ষে আটকে দুজন লোহার রড এবং হাত-পা দিয়ে বেধড়ক মারধর করছে সুমনকে। একপর্যায়ে তাকে নগ্ন করে পুরুষাঙ্গে পানির বোতল ঝুলিয়ে নির্যাতন করা হয়। এ সময় সুমন কান ধরে বারবার মাফ চাইলেও নির্যাতন অব্যাহত থাকে।
নির্যাতনের শিকার সুমন মিয়া জানান, গত ২৫ জুলাই রাত ১১টার দিকে লতাবর গ্রামে নিজ বাড়ির কাছ থেকে কয়েকজন মিলে তাকে উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে রংপুরের একটি বাসায় নির্যাতন করে। এ ঘটনায় কালীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। থানায় দেওয়া সুমন মিয়ার লিখিত অভিযোগের তথ্য এবং এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুই-তিন মাস আগে থেকে একই এলাকার মাদক কারবারি মিলন মিয়া ও তার তিন সহযোগী লিমন, রবিউল ও মিস্টার মাদক পরিবহনের জন্য ভারী (বহনকারী) হিসেবে কাজ করতে সুমনকে প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে মিলনের সঙ্গে সুমনের কথা-কাটাকাটি হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মিলন ও তার সহযোগীরা সুমনকে লতাবর এলাকার মোন্দাদীঘিরপাড় এলাকা থেকে তুলে নিয়ে যায়। পরে মিলন ও তার তিন সহযোগী মিলে সুমনকে বিবস্ত্র করে হাত-পা বেঁধে তার পুরুষাঙ্গে পানির বোতল বেঁধে দিয়ে লোহার পাইপ দিয়ে পেটাতে থাকে। একই সঙ্গে বিভিন্ন হুমকি দেয়। তারা নির্যাতনের দৃশ্যের ভিডিওচিত্র ধারণ করে নির্যাতনের কথা কাউকে জানালে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়।
সুমন মিয়া বলেন, ‘মিলন মাদকের গডফাদার। সে প্রতিদিন এক হাজার বোতল ফেনসিডিল বিভিন্ন ভারী (বহনকারী) ব্যবহার করে বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছে দেয়। এসব মাদক গোড়ল বলাইরহাট এলাকা দিয়ে প্রতিদিন রাত ২টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে মিলনের কাছে এসে পৌঁছে। এ ছাড়া সে ভারতীয় চোরাই মোটরসাইকেলসহ নানা অপরাধের সঙ্গে যুক্ত। মিলন আমাকে প্রতিনিয়ত তুলে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। আমি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’ নির্যাতনের ঘটনায় গত ২৭ জুলাই কালীগঞ্জ থানায় লিখিত এজাহার জমা দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। সীমান্ত এলাকার একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, কিছুদিন আগেও মিলনের সম্পদ বলতে কিছুই ছিল না। কিন্তু গত কয়েক বছরে মাদকের কারবার করে গাড়ি- বাড়ির মালিক হয়েছে তিনি। প্রশাসন দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় দিনে দিনে শীর্ষ মাদক কারবারিতে পরিণত হয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নিজেকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের ভুয়া পরিচয় দিয়ে মিলন মিয়া বলেন, ‘সে (সুমন মিয়া) আমার আপন চাচাতো ভাই, তাই আমি তাকে শাসন করেছি। নিউজটি না করলে হয় না। সে অন্যের প্ররোচনায় আমাকে ফাঁসাতে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ক্লিপ প্রসঙ্গে মিলন বলেন, ‘ওই ভিডিও এডিট করে আমার মাথা বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। কালীগঞ্জ থানার ওসি ইমতিয়াজ কবির বলেন, ‘এ বিষয়ে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে। মামলা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলছে।’