গাইবান্ধা সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে কর্মরত আয়া মোছা. জুলেখা খাতুনের জাতীয় পরিচয়পত্রে ভুল বয়স অন্তর্ভূক্ত করা হয়। এ কারণে ১০ মাস ধরে বেতন-ভাতা বন্ধ হয়েছে তার। যার ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৮ আগস্ট) দুপুরে প্রেসক্লাব গাইবান্ধায় ভুক্তভোগী জুলেখা বেগম তার পরিবারের লোকজন সঙ্গে নিয়ে এমন অভিযোগ ও বেতন-ভাতা চালুর দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেন।
এসময় জুলেখা খাতুন বলেন , অষ্টম শ্রেণির সনদ দিয়ে আমি ১৯৯৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারিতে রামচন্দ্রপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ঝাড়ুদার কাম আয়া পদে যোগদান করি। পরবর্তীত্বে ২০০২ সালে এমপিও ভুক্ত হই। সেই থেকে বিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক বেতন-ভাতা উত্তোলন করে আসছি। এরই মধ্যে ২০০৭ সালে জাতীয় পরিচয়পত্র (ভোটার তালিকা হালনাগাদে) তথ্য সংগ্রহকারি আমার আনুমানিক একটি জন্ম তারিখ লিখে দেন। পরবর্তীত্বে জাতীয় পরিচয়পত্র হাতে পেয়ে বয়সের অসংগতি দেখতে পাই এবং আমার স্কুল সাফিকেটের সাথে জন্ম তারিখের অমিল পরিলক্ষিত হয়। পরে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের জন্য আমি নির্বাচন অফিসে আবেদন করি। জাতীয় পরিচয় পত্রের এমন জটিলতাকে পুঁজি করে বিদ্যালয় কতৃপক্ষ আমাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি প্রদানের পায়তারা শুরু করে।
এদিকে, জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের কথা বলে অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমার কাছ থেকে প্রথমে ২০ হাজার ও পরে অডিটের নামে করে ৫০ হাজার টাকা নেন। এরপর প্রধান শিক্ষক আমাকে কৌশলে ২০২২ সালের ২৫ অক্টোবর জাতীয় পরিচয়পত্র কেন সংশোধন করা হয়নি এই মর্মে একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন।
সংবাদ সম্মেলনে জুলেখা খাতুন আরও বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্রের ভুল সংশোধন না করে স্কুলের প্রধান শিক্ষক বেতন-ভাতা বন্ধ করে দেয়। র্দীঘ ১০ মাস থেকে বেতন বন্ধ থাকায় পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি।
অপরদিকে, বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক শের আলম ও বিদ্যালয়ের সভাপতি রেজাউল করিম তাজু আমার ওই পদে অন্য কাউকে নিয়োগের পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সাথে চাকরি থেকে রিজাইন দিতে তারা নানা ভাবে আমাকে ভয়ভীতিসহ হুমকি দিয়ে আসছে। সম্প্রতি প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয় থেকে আমাকে বের করে দিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে নিষেধ করে দেন।
এ বিষয়ে রামচন্দ্রপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক শের আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, গাইবান্ধা 


















