দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার কুমড়িয়া দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সুলতানা বেগমকে ওমরা হজ্ব পালনে বাঁধা প্রদান ও ছুঁটি মঞ্জুর করতে হয়রানির অভিযোগ এবং ছুটির বদলে আগস্ট মাস উপলক্ষে কালোব্যাজ না পরায় শোকজ করায় প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মো. মোকছেদ আলীর অপসারণের দাবিতে মানববন্ধনের ডাক দেন এলাকাবাসী।
পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মারুফ হাসান, ওসি চিত্তরঞ্জন রায় ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মনজুরুল হক ঘটনাস্থলে এসে ছুঁটি মঞ্জুর করে, শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। গতকাল ২৪ আগস্ট বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার ভাবকী ইউনিয়নের কুমড়িয়া দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে মানববন্ধনের উদ্দেশ্যে আসতে থাকে ভুক্তভোগী শিক্ষিকার পরিবারের সদস্যসহ এলাকার অন্তত শতাধিক ব্যক্তি। পুলিশ এসে বিষয়টির সুরাহার আশ্বাস দিয়ে মানববন্ধন না করার অনুরোধ জানান। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মারুফ হাসান, ওসি চিত্তরঞ্জন রায় ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মনজুরুল হক ঘটনাস্থলে এসে প্রধান শিক্ষকের সাথে সহকারী শিক্ষকের সমঝোতা করে দেন এবং ওমরা হজ্ব পালনের জন্য ছুঁটির ব্যবস্থা করে দেন।
ভুক্তভোগী সহকারী শিক্ষিকা সুলতানা বেগম জানান, পবিত্র ওমরা হজ্ব পালনের উদ্দেশ্যে প্রধান শিক্ষকের কাছে এ মাসের শুরুতে ছুঁটির আবেদন করেন তিনি। কিন্তু প্রধান শিক্ষক ছুঁটি না দিয়ে তাল-বাহানা করে হয়রানি ও কালক্ষেপণ করতে থাকেন। আবার ছুটির বদলে তিনি নিজেও শোকের মাসে কালোব্যাজ না পরে সেই একই অপরাধে আমাকে শোকজ করেন। এমতাবস্থায় ২৬ আগস্ট হজ্বের তারিখ নির্ধারণ হওয়ায় পরিবারের সদস্যসহ এলাকার লোকজন মানববন্ধনের ডাক দেন। তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মারুফ হাসান, ওসি চিত্তরঞ্জন রায় ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মনজুরুল হক স্যার এসে আমাকে আশস্ত করে ছুঁটির ব্যবস্থা করে দেয়ায় তারা আর মানববন্ধন করেনি।
প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মো. মোকছেদ আলী বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষকের সংখ্যা কম। তারপরও আমি ২/৩ দিনের ছুঁটি দিতে পারি। কিন্তু বেশি দিনের ছুঁটি নিতে হলে কমিটির অনুমতি প্রয়োজন। কমিটির সভাপতি ঢাকায় থাকায় ছুঁটি মঞ্জুর করতে বিলম্ব হয়েছিল।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মারুফ হাসান জানান, তাদের মধ্য ভুল বোঝাবোঝি ও সমঝোতার অভাবে এরকম উদ্ধৃত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে আমরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে এ ঘটনার সুরাহা করে দিয়েছি।
মো. রফিকুল ইসলাম, করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) 















