লালমনিরহাটে প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় নিথক ছায়েদুল হক পাবলিক দ্বি- মূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রীকে অপহরণের ঘটনার প্রতিবাদে ও অপহরণকারী আসামীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসীসহ স্বজনরা। তবে মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেনি ঐ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার ( ৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার ঘোঙ্গাগাছ নিথক ছায়েদুল হক পাবলিক দ্বি- মূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এলাকাবাসীর আয়োজনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন পালনকালে বক্তব্য রাখেন-ভিকটিমের পিতা সুনিল চন্দ্র রায় ও বড় ভাই অনুপ রায়।
পরিবাব সূত্রে জানা যায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর দুপুর আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে নিথক ছায়েদুল হক পাবলিক দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে থেকে ঐ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর ছাত্রীকে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে অপহরণ করে নিয়ে যায় শিবরাম এলাকায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ঘুঘড়ি দুলালের ছেলে লিমন মিয়া(২৬)। এই অপহরণ কাজে লিমনকে সহযোগীতা করেন তার বাবা দুলাল ও মা হাজেরা বেগম, পরে থানায় অভিযোগ দিলে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ঐ ছাত্রীকে উদ্ধার করে এবং অপহরণকারী লিমনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেন, তার পর থেকে লিমনের পরিবার ও চিহ্নিত মাদক খেকরা নিয়মিত হুমকি দিয়ে আসছে সংখ্যালঘু ঐ পরিবারকে।
অপহরণে স্বীকার ছাত্রীর পরিবার ও স্বজনরা সাংবাদিকদের জানান, আমরা সংখ্যালঘু পরিবার, পুলিশ এখনও লিমনের বাবা-মাকে গ্রেফতার করতে পারেনি, ওই ছেলে এর আগের দুটি মেয়ের সাথে একই ঘটনা ঘটিয়েছে, বিচার হয়নি, আমরা সব মিলিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন, ভিকটিমে দাদা রজনী কান্ত, দাদী জোসনা বালা, প্রতিবেশী কল্পনা অধিকারী, শিল্পী রানী, গীতা রানী ও বাবলী রানী প্রমুখ।
এ বিষয়ে নিথক ছায়েদুল হক পাবলিক দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিজাম উদ্দীন বলেন, যেদিন ছাত্রীটি অপহরণের ঘটনা ঘটে সেদিন আমাদের বিদ্যালয়ে সকাল – সন্ধ্যা পর্যন্ত আন্তঃ বিদ্যালযের খেলা চলছিল। পরে যখন ঘটনা শুনি ছাত্রীর পরিবারকে সাথে নিয়ে প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা কামনা করি। তবে ছেলের পরিবার চিহ্নিত মাদক কারবারী। ভালো পরিবারের ছেলে হলে এমন করতো না। ভিকটিমের পরিবারটি যেন ন্যায় বিচারক পায় সেই দাবি জানাচ্ছি। মানববন্ধনে অংশগ্রহণ না করার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, মানববন্ধনের বিষয়ে আমাকে আগের থেকে অবগত করা হয়নি তাই বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ ও উপর লেবেলে জানানো সম্ভব হয়নি সেজন্য অংশগ্রহণ করতে পারিনি।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ কবির জানান, ছাত্রী অপহরণের ঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা উদ্ধার কাজ শুরু করি এবং অপহরণে স্বীকার ঐ ছাত্রীকে উদ্ধার করে অপহরণকারী লিমন(২৬) কে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।
শাহজাহান সাজু , ডিসট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, লালমনিরহাট 



















