‘মশার আবাসস্থল ধ্বংস করি, মশামুক্ত বাংলাদেশ গড়ি’ এই স্লোগান লালমনিরহাটের সর্বস্তরের জনতাকে পৌঁছে দিতে এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক শোভাযাত্রা বের করা হয়।
সোমবার ( ১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০ টায় লালমনিরহাটের বিডিআর গেইট কেন্দ্রীয় জামেমসজিদ এর সামনে থেকে ওয়ালটন প্লাজার ব্যানারে উক্ত শোভাযাত্রা, শুরু হয়। শোভাযাত্রা পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে আলোরুপা মোড়ে এসে শেষ হয়।
উক্ত ডেঙ্গু সচেতনমূলক শোভাযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট পৌরসভার মেয়র রেজাউল করিম স্বপন, স্বাস্থ্য ইন্সপেক্টর বিশ্বজিৎ বণিক, ওয়ালটন প্লাজা বিডিআর গেইট এর ব্যবস্থাপক আব্দুল্লাহ আল নোমান, সাপ্তাহিক ‘আলোর মনির’ প্রকাশক রমজান আলী, জাতীয় দৈনিক ‘ প্রতিদিনের কাগজ ‘ লালমনিরহাট প্রতিনিধি ও ‘আমাসুফ’ রংপুর মহানগর (উত্তর) এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহজাহান সাজু।
শোভাযাত্রা শেষে সংক্ষিপ্ত সচেতনতামূলক শুভেচ্ছা বক্তব্যে পৌর মেয়র রেজাউল করিম স্বপন বলেন, ডেঙ্গুজ্বর প্রতিরোধে দুটি মূল বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া উচিত। ১,, এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস করা এবং মশাকে মেরে ফেলা, ২,, মশার কামড় থেকে নিজেকে বাঁচানো। ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা সময়ের দাবি। বাংলাদেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কোনো একক ব্যক্তি, সংগঠন বা মন্ত্রণালয়ের পক্ষে সম্ভব নয়।
সবার সময়োপযোগী, কার্যকর পদক্ষেপ, সমন্বিত সচেতনতা, মশা নিধনে বিদ্যমান প্রকল্পগুলোকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করার মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। সরকার এবং জনগণের সমন্বিত উদ্যোগই পারে এ মহামারি থেকে আমাদের সুরক্ষিত রাখতে। পরিবেশের পরিচ্ছন্নতা, মশার জৈবিক নিয়ন্ত্রণ, মশক নিধক স্প্রে প্রয়োগ এবং গণসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে পরিপূর্ণভাবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ডেঙ্গু মহামারি থেকে সুরক্ষিত থাকতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে। নিজে সচেতন না থেকে শুধু সরকারের সমালোচনা ডেঙ্গু থেকে মুক্তি দিতে পারবে না। তাই সর্বাগ্রে প্রয়োজন সচেতনতা। এ বিষয়ে সামাজিকভাবে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সরকার-জনগণ উভয় পক্ষের দায়িত্বশীল আচরণ এবং পরিকল্পিত উদ্যোগই পারে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমিয়ে এ সংকট থেকে আমাদের সুরক্ষিত রাখতে। তাই ডেঙ্গু নিয়ে আমাদের আরো সচেতন হতে হবে। মনে রাখতে হবে এসবক্ষেত্রে প্রতিকার নয় প্রতিরোধ সর্বদা উত্তম।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয়: ডেঙ্গুকে প্রতিরোধ করতে গেলে সবার আগে একটা বিষয়ই নিশ্চিত করতে হবে। কোনও ভাবেই মশা কামড়াতে দেওয়া যাবে না। এ কারণেই ঘুমানোর সময় মশারি বা মশা তাড়ানোর ওষুধ অবশ্যই ব্যবহার করা উচিত। বাড়িতে কোনও জায়গায় অকারণে পানি জমতে দেওয়া যাবে না। কুলার, ফুলের টব, ভাঙা পাত্রের পানি সপ্তাহে একদিন নিয়ম করে পরিষ্কার করা উচিত। নিজের চারপাশ সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা উচিত। এছাড়া ফুলস্লিভ জামা-প্যান্টও আমাদের মশার কামড় থেকে বাঁচতে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে, পুষ্টিগুণযুক্ত এমন খাবার খাওয়া উচিত, যা শরীরের জলের ভারসাম্য ঠিক রাখবে। প্রচুর পরিমাণে পানি খাওয়া উচিত।
শাহজাহান সাজু , ডিসট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, লালমনিরহাট 




















