সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শিক্ষক সংকটে মান হারাচ্ছে জবির বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগ

দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইফ এন্ড আর্থ সাইন্স অনুষদে রয়েছে ‘বায়োকেমেস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি’ বিভাগ। শিক্ষক সংকটের কারণে শেষণ জট, গবেষণার উপযোগী পরিবেশ না পাওয়াসহ নানামুখী সমস্যায় মানসম্মত শিক্ষা পাচ্ছেন না বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
সরকারি আদেশ ও চাকরির বাজারে চাহিদা রয়েছে বিবেচনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ৩৮তম জরুরি একাডেমিক কাউন্সিলে তিনটি নতুন বিভাগ চালুর সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। সেই অনুযায়ী ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে নতুন এই তিন বিভাগের একটি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায় ‘বায়োকেমেস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি’ বিভাগ। পর্যাপ্ত শিক্ষক ও ব্যবস্থাপনা না নিয়েই ভর্তি করা হয় শিক্ষার্থীদের।
বর্তমানে বিভাগটিতে সাতটি ব্যাচ চলমান অবস্থায় রয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থী সংখ্যা ২০০ এর কাছাকাছি। অথচ বর্তমানে বিভাগটিতে নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছেন কেবল চার জন শিক্ষক। আছেন একজন অধ্যাপক, একজন সহযোগী অধ্যাপক আর ২ জন প্রভাষক।  শিক্ষাছুটি ছাড়াও আরো একজন আছে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে। বিভাগটিতে বিভিন্ন বিষিয়ের বিশেষজ্ঞ শিক্ষক না থাকায় একজন শিক্ষককেই বিভিন্ন বিষয়ের ক্লাস নিতে হচ্ছে। এতে মানসম্পন্ন শিক্ষা পাচ্ছেন না বিভাগটির শিক্ষার্থীরা।
বিশ্বব্যাপী উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর গড় অনুপাতের নূন্যতম মানদণ্ড ধরা হয় ১:২০। অর্থাৎ প্রতি ২০জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন করে শিক্ষক থাকতে হবে। কিন্তু জবির বায়োকেমেস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগে সেই অনুপাত দাড়িয়েছে ১:৪০ এর কাছাকাছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগের তুলনায় পুরো এক সেমিস্টার পিছিয়ে না পরলেও আছে গভীর শিক্ষাজট। এতে শিক্ষার্থীদের পোহাতে হচ্ছে বাড়তি মানসিক চাপ।এ বিষয়ে বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. লাইসা আহমদ লিসা বলেন, “আমাদের ৭টি ব্যাচ চলমান কিন্তু এখনও শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২০০ হয়নি। নতুন বিভাগ হিসেবে আমদের ২/৩ মাসের জট থাকতে পারে। তবে করোনা না হলে এ সমস্যাটাও হতো না। শিক্ষক সংকট তো আছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের শূন্য পদ না আসলে তো নিয়োগ দেওয়া যায় না। ইউজিসি থেকে শিক্ষা ছুটির বিপরীতে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়াটি বন্ধ করে দেওয়ায় বিভাগে চার জন শিক্ষক শিক্ষাছুটিতে থাকাকালীন নিয়োগ হচ্ছে না। তবে শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে আমরা চার জন শিক্ষক পুরোদমে চেষ্টা করছি।”
বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন শিক্ষার্থীকে একজন গবেষকের তত্ত্বাবধানে অর্থাৎ অধ্যাপক বা সহযোগী অধ্যাপকের অধীনে থিসিস করতে হয়। ফলিত বিজ্ঞানের বিভাগটিতে কেবল একজন অধ্যাপক ও একজন সহযোগী অধ্যাপক থাকায় সেখানে থিসিসের কাজে বা গবেষণা কাজে শিক্ষার্থীদের আগ্রহের যথেষ্ট অভাবও রয়েছে।
এ বিষয়ে লাইফ এন্ড আর্থ সাইন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান খন্দকার বলেন, “ইউজিসি থেকে শিক্ষাছুটিতে থাকা শিক্ষকদের অবর্তমানে নতুন শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ করায় এ সমস্যাটি হয়েছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী বিভাগে শিক্ষক সংকট হলে বিভিন্ন কোর্সে অন্যান্য বিভাগ থেকে বা বাইরে থেকে শিক্ষক এনে ক্লাস পরিচালনা করার সুযোগ আছে। তবে ঐ বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে উপাচার্য মহোদয় সুস্থ হয়ে ফেরার পর  ইউজিসি তে আবেদন করা হবে।”

শিক্ষক সংকটে মান হারাচ্ছে জবির বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগ

প্রকাশের সময়: ০৬:২০:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৩
দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইফ এন্ড আর্থ সাইন্স অনুষদে রয়েছে ‘বায়োকেমেস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি’ বিভাগ। শিক্ষক সংকটের কারণে শেষণ জট, গবেষণার উপযোগী পরিবেশ না পাওয়াসহ নানামুখী সমস্যায় মানসম্মত শিক্ষা পাচ্ছেন না বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
সরকারি আদেশ ও চাকরির বাজারে চাহিদা রয়েছে বিবেচনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ৩৮তম জরুরি একাডেমিক কাউন্সিলে তিনটি নতুন বিভাগ চালুর সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। সেই অনুযায়ী ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে নতুন এই তিন বিভাগের একটি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায় ‘বায়োকেমেস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি’ বিভাগ। পর্যাপ্ত শিক্ষক ও ব্যবস্থাপনা না নিয়েই ভর্তি করা হয় শিক্ষার্থীদের।
বর্তমানে বিভাগটিতে সাতটি ব্যাচ চলমান অবস্থায় রয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থী সংখ্যা ২০০ এর কাছাকাছি। অথচ বর্তমানে বিভাগটিতে নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছেন কেবল চার জন শিক্ষক। আছেন একজন অধ্যাপক, একজন সহযোগী অধ্যাপক আর ২ জন প্রভাষক।  শিক্ষাছুটি ছাড়াও আরো একজন আছে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে। বিভাগটিতে বিভিন্ন বিষিয়ের বিশেষজ্ঞ শিক্ষক না থাকায় একজন শিক্ষককেই বিভিন্ন বিষয়ের ক্লাস নিতে হচ্ছে। এতে মানসম্পন্ন শিক্ষা পাচ্ছেন না বিভাগটির শিক্ষার্থীরা।
বিশ্বব্যাপী উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর গড় অনুপাতের নূন্যতম মানদণ্ড ধরা হয় ১:২০। অর্থাৎ প্রতি ২০জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন করে শিক্ষক থাকতে হবে। কিন্তু জবির বায়োকেমেস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগে সেই অনুপাত দাড়িয়েছে ১:৪০ এর কাছাকাছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগের তুলনায় পুরো এক সেমিস্টার পিছিয়ে না পরলেও আছে গভীর শিক্ষাজট। এতে শিক্ষার্থীদের পোহাতে হচ্ছে বাড়তি মানসিক চাপ।এ বিষয়ে বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. লাইসা আহমদ লিসা বলেন, “আমাদের ৭টি ব্যাচ চলমান কিন্তু এখনও শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২০০ হয়নি। নতুন বিভাগ হিসেবে আমদের ২/৩ মাসের জট থাকতে পারে। তবে করোনা না হলে এ সমস্যাটাও হতো না। শিক্ষক সংকট তো আছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের শূন্য পদ না আসলে তো নিয়োগ দেওয়া যায় না। ইউজিসি থেকে শিক্ষা ছুটির বিপরীতে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়াটি বন্ধ করে দেওয়ায় বিভাগে চার জন শিক্ষক শিক্ষাছুটিতে থাকাকালীন নিয়োগ হচ্ছে না। তবে শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে আমরা চার জন শিক্ষক পুরোদমে চেষ্টা করছি।”
বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন শিক্ষার্থীকে একজন গবেষকের তত্ত্বাবধানে অর্থাৎ অধ্যাপক বা সহযোগী অধ্যাপকের অধীনে থিসিস করতে হয়। ফলিত বিজ্ঞানের বিভাগটিতে কেবল একজন অধ্যাপক ও একজন সহযোগী অধ্যাপক থাকায় সেখানে থিসিসের কাজে বা গবেষণা কাজে শিক্ষার্থীদের আগ্রহের যথেষ্ট অভাবও রয়েছে।
এ বিষয়ে লাইফ এন্ড আর্থ সাইন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান খন্দকার বলেন, “ইউজিসি থেকে শিক্ষাছুটিতে থাকা শিক্ষকদের অবর্তমানে নতুন শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ করায় এ সমস্যাটি হয়েছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী বিভাগে শিক্ষক সংকট হলে বিভিন্ন কোর্সে অন্যান্য বিভাগ থেকে বা বাইরে থেকে শিক্ষক এনে ক্লাস পরিচালনা করার সুযোগ আছে। তবে ঐ বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে উপাচার্য মহোদয় সুস্থ হয়ে ফেরার পর  ইউজিসি তে আবেদন করা হবে।”