রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগে প্রধান শিক্ষককে গণধোলাই

লালমনিরহাটে ২৫ লক্ষ টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগ তুলে মোশারফ হোসেন নামে এক প্রধান শিক্ষকের গায়ের কাপড় খুলে পেটালেন চাকরি প্রার্থী ও এলাকাবাসী। এ ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ওই শিক্ষক।
অভিযুক্ত মোশারফ হোসেন লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ এসসি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। গতকাল রোববার (৫ নভেম্বর) দুপুরে বিদ্যালয়ে প্রাঙ্গনে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে জানান, প্রধান শিক্ষক এলাকার ৪/৫ জন বেকার শিক্ষিত যুবককে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ২৫ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা নেন। দীর্ঘ কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও তিনি চাকরি না দিয়ে টালবাহানা করেন। যদিও ২০২০ সালে নিয়োগ দেয়ার কথা বলে পত্রিকায় ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে তাদের শান্তনা দেন।
পরে গোপনে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং বডির সভাপতি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মতিয়ার রহমানের সাথে আলাপ করে একটি সিদ্ধান্তে অফিস সহকারী কাম হিসাবরক্ষক,অফিস সহায়ক, নিরাপত্তা কর্মী, আয়া ও পরিচ্ছন্ন কর্মী এই ৫টি পদের জন্য কয়েকদিন আগে আবারও পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। ওই ৫টি পদের বিপরীতে ৪২ জন প্রার্থী আবেদন করেন।
গতকাল রোববার এসব পদে নিয়োগ পরীক্ষা হওয়ার কথা শুনে এলাকাবাসী বিদ্যালয়ের চারিদিকে অবস্থান নিয়ে থাকে। যাতে করে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা নিতে না পারেন। এরই এক পর্যায়ে  প্রধান শিক্ষক নামাজ পড়ার জন্য বিদ্যালয়ের বাইরে এলে নিয়োগ প্রত্যাশী ও এলাকাবাসী চাকরির জন্য দেয়া টাকা ফেরত চান। পরে প্রধান শিক্ষক টাকার কথা অস্বীকার করলে সেখানেই তাকে বেদম মারপিট করে শরীরের জামা কাপড় ছিড়ে ফেলেন।
এর কিছুক্ষণ পর বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং বডির সভাপতি এ্যাডঃ মতিয়ার রহমান আসলে তার সামনেই আবারও প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করা হয়। এবং উত্তেজিত এলাকার মহিলারা ঝাড়ু ও স্যান্ডেল নিয়ে প্রধান শিক্ষকের উপর চড়াও হয়।
পরে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিয়োগ পরীক্ষা নেয়ার চেষ্টা করলে উত্তেজিত এলাকাবাসীও মহিলাগণ ক্লাসে নিয়োগ প্রার্থীদের উপর চড়াও হোন। পরে সদর থানার পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ভুক্তভোগীরা আরও জানান, এই নিয়োগ পরীক্ষা গত অক্টোবর মাসের ৩১ তারিখ হওয়ার কথা থাকলেও সেদিন পরীক্ষা স্থগিত করা হয় এবং পরবর্তীতে পরীক্ষার তারিখ জানিয়ে দেয়া হবে বলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রার্থীদের জানান। হঠাৎ করেই গোপন নোটিশের মাধ্যমে তাদের পছন্দের প্রার্থীদের অংশগ্রহণে নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করলে বাকী প্রার্থীরা জানতে পেয়ে তারাও নিয়োগ পরীক্ষা অংশ নিতে আসেন।পরে পুলিশের উপস্থিতিতে নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন করেন।
এ ছাড়া ব্যাপারে চাকরি প্রত্যাশী ছাত্রলীগ সভাপতি নুর ইসলাম জানান, আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। আমি আমার চাকরির জন্য প্রধান শিক্ষক মোশারফ স্যারকে ৫ লক্ষ টাকা দিয়েছি। গত ৫ বছরেও তিনি আমার চাকরি নিশ্চিত করেন নাই। তিনি আমার চাকরি নিশ্চিত হয়েছে বলে মিথ্যা শান্তনা দেন। কিন্তু পরে আমি জানতে পারি তারা গোপনে নিয়োগ পক্রিয়া শেষ করেছেন। বিষয়টি জানতে পারলে এলাকাবাসী আজ ওই শিক্ষকে টাকা ফেরত দিতে বলে। টাকা দিতে না পারায় একটু ধাক্কাধাক্কি হয় বলেও জানান তিনি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেন জাগো২৪.নেট-কে  জানান, বিদ্যালয়ের ক্লাস চলায় নিয়োগ পরীক্ষাটি বিকেলে নেয়ার কথা ছিল। বিদ্যালয় ছুটি হলে তারপর নিয়োগ পরীক্ষা হবে তাই আমি নামাজ পড়ার জন্য মসজিদে যাওয়ার পথে এলাকার সন্ত্রাসী নুর ইসলামসহ ২০/২৫ জন পথরোধ করে আমাকে লাঞ্ছিতসহ বেদম মারপিট করে। পরে বিদ্যালয়ের সভাপতি অ্যাড. মতিয়ার রহমান এসে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করান। আমি প্রশাসনের কাছে এই ঘটনার ন্যায়বিচার দাবি করছি।
এ ঘটনায় খুনিয়াগাছ এসসি উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি অ্যাড. মতিয়ার রহমান জানান, যাদের নেতৃত্বে প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছিত হয়েছে তারা নিয়োগ পরীক্ষায়  অংশগ্রহণ না করে সরাসরি চাকুরি চায়। আমি বারবার বলেছি তোমরা নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ কর যোগ্যতা অনুসারে চাকরি হবে।
এ বিষয়ে সদর থানার ওসি ওমর ফারুক জাগো২৪.নেট-কে জানান, নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে শিক্ষক লাঞ্ছিতেন ঘটনার খবর পাওয়ার সাথে সাথে পুলিশ পাঠিয়ে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। অভিযোগ এলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।
জনপ্রিয়

নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগে প্রধান শিক্ষককে গণধোলাই

প্রকাশের সময়: ০৮:১১:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ নভেম্বর ২০২৩
লালমনিরহাটে ২৫ লক্ষ টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগ তুলে মোশারফ হোসেন নামে এক প্রধান শিক্ষকের গায়ের কাপড় খুলে পেটালেন চাকরি প্রার্থী ও এলাকাবাসী। এ ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ওই শিক্ষক।
অভিযুক্ত মোশারফ হোসেন লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ এসসি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। গতকাল রোববার (৫ নভেম্বর) দুপুরে বিদ্যালয়ে প্রাঙ্গনে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে জানান, প্রধান শিক্ষক এলাকার ৪/৫ জন বেকার শিক্ষিত যুবককে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ২৫ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা নেন। দীর্ঘ কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও তিনি চাকরি না দিয়ে টালবাহানা করেন। যদিও ২০২০ সালে নিয়োগ দেয়ার কথা বলে পত্রিকায় ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে তাদের শান্তনা দেন।
পরে গোপনে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং বডির সভাপতি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মতিয়ার রহমানের সাথে আলাপ করে একটি সিদ্ধান্তে অফিস সহকারী কাম হিসাবরক্ষক,অফিস সহায়ক, নিরাপত্তা কর্মী, আয়া ও পরিচ্ছন্ন কর্মী এই ৫টি পদের জন্য কয়েকদিন আগে আবারও পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। ওই ৫টি পদের বিপরীতে ৪২ জন প্রার্থী আবেদন করেন।
গতকাল রোববার এসব পদে নিয়োগ পরীক্ষা হওয়ার কথা শুনে এলাকাবাসী বিদ্যালয়ের চারিদিকে অবস্থান নিয়ে থাকে। যাতে করে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা নিতে না পারেন। এরই এক পর্যায়ে  প্রধান শিক্ষক নামাজ পড়ার জন্য বিদ্যালয়ের বাইরে এলে নিয়োগ প্রত্যাশী ও এলাকাবাসী চাকরির জন্য দেয়া টাকা ফেরত চান। পরে প্রধান শিক্ষক টাকার কথা অস্বীকার করলে সেখানেই তাকে বেদম মারপিট করে শরীরের জামা কাপড় ছিড়ে ফেলেন।
এর কিছুক্ষণ পর বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং বডির সভাপতি এ্যাডঃ মতিয়ার রহমান আসলে তার সামনেই আবারও প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করা হয়। এবং উত্তেজিত এলাকার মহিলারা ঝাড়ু ও স্যান্ডেল নিয়ে প্রধান শিক্ষকের উপর চড়াও হয়।
পরে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিয়োগ পরীক্ষা নেয়ার চেষ্টা করলে উত্তেজিত এলাকাবাসীও মহিলাগণ ক্লাসে নিয়োগ প্রার্থীদের উপর চড়াও হোন। পরে সদর থানার পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ভুক্তভোগীরা আরও জানান, এই নিয়োগ পরীক্ষা গত অক্টোবর মাসের ৩১ তারিখ হওয়ার কথা থাকলেও সেদিন পরীক্ষা স্থগিত করা হয় এবং পরবর্তীতে পরীক্ষার তারিখ জানিয়ে দেয়া হবে বলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রার্থীদের জানান। হঠাৎ করেই গোপন নোটিশের মাধ্যমে তাদের পছন্দের প্রার্থীদের অংশগ্রহণে নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করলে বাকী প্রার্থীরা জানতে পেয়ে তারাও নিয়োগ পরীক্ষা অংশ নিতে আসেন।পরে পুলিশের উপস্থিতিতে নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন করেন।
এ ছাড়া ব্যাপারে চাকরি প্রত্যাশী ছাত্রলীগ সভাপতি নুর ইসলাম জানান, আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। আমি আমার চাকরির জন্য প্রধান শিক্ষক মোশারফ স্যারকে ৫ লক্ষ টাকা দিয়েছি। গত ৫ বছরেও তিনি আমার চাকরি নিশ্চিত করেন নাই। তিনি আমার চাকরি নিশ্চিত হয়েছে বলে মিথ্যা শান্তনা দেন। কিন্তু পরে আমি জানতে পারি তারা গোপনে নিয়োগ পক্রিয়া শেষ করেছেন। বিষয়টি জানতে পারলে এলাকাবাসী আজ ওই শিক্ষকে টাকা ফেরত দিতে বলে। টাকা দিতে না পারায় একটু ধাক্কাধাক্কি হয় বলেও জানান তিনি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোশারফ হোসেন জাগো২৪.নেট-কে  জানান, বিদ্যালয়ের ক্লাস চলায় নিয়োগ পরীক্ষাটি বিকেলে নেয়ার কথা ছিল। বিদ্যালয় ছুটি হলে তারপর নিয়োগ পরীক্ষা হবে তাই আমি নামাজ পড়ার জন্য মসজিদে যাওয়ার পথে এলাকার সন্ত্রাসী নুর ইসলামসহ ২০/২৫ জন পথরোধ করে আমাকে লাঞ্ছিতসহ বেদম মারপিট করে। পরে বিদ্যালয়ের সভাপতি অ্যাড. মতিয়ার রহমান এসে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করান। আমি প্রশাসনের কাছে এই ঘটনার ন্যায়বিচার দাবি করছি।
এ ঘটনায় খুনিয়াগাছ এসসি উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি অ্যাড. মতিয়ার রহমান জানান, যাদের নেতৃত্বে প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছিত হয়েছে তারা নিয়োগ পরীক্ষায়  অংশগ্রহণ না করে সরাসরি চাকুরি চায়। আমি বারবার বলেছি তোমরা নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ কর যোগ্যতা অনুসারে চাকরি হবে।
এ বিষয়ে সদর থানার ওসি ওমর ফারুক জাগো২৪.নেট-কে জানান, নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে শিক্ষক লাঞ্ছিতেন ঘটনার খবর পাওয়ার সাথে সাথে পুলিশ পাঠিয়ে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। অভিযোগ এলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।