শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুন্দরগঞ্জে সেতুর সংযোগ সড়কে মাটি ভরাটের কোটি টাকা আত্মসাত!

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পাঁচপীর-চিলমারী দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু দ্বিতীয় দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির পর ১৪৯০ মিটার পিসি গার্ডার সেতুর ৫৬ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণে মাটি ভরাটের কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এতে ফসলের ক্ষতিপূরণ ও জমির মাটির দর পরিশোধ না করে সমুদয় টাকা আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আইডিএল-এনটি-এলএইচ (জেভি) লিমিটেড ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। এ নিয়ে প্রধান প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, স্থানীয় প্রকৌশল দপ্তরের (এলজিইডি) নকশাকার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মইনুল ইসলাম ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভূমি মালকিদের সম্পূর্ণ টাকা আত্মসাৎ করেন। এতে ফসলের ক্ষতিপূরণ ও ভূমি অধিগ্রহণের টাকা মালিকদের কাছে হস্তান্তর না করে তা পকেটস্থ করেছেন বলে দাবি করা হয়।

ভূমি মালিকদের অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বেলকা থেকে হরিপুর পর্যন্ত দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর ৮৬ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য মোট ১৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এতে এই উপজেলার মধ্যে ৫৬ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে পার্শ্ববর্তী ভূমি অধিগ্রহণ ও মাটি ভরাটে প্রতি বর্গফুটহারে বিধিমোতাবেক এবং ফসলের ক্ষতিপূরণবাবদ আনুমানিকহারে টাকা প্রদান করার কথা। কিন্তু সিংহভাগ মাটি ভরাটের টাকা পরিশোধ করা হয়নি। জমির মালিকরা মাটির প্রতি বর্গফুটহারে দর এবং ফসলের ক্ষতিপূরণের টাকা দাবি করলে নকশাকার মইনুল ইসলাম পুলিশের ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের দমিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। পাশাপাশি তিস্তা সেতুর মূল পয়েন্ট হতে সাদুল্লাপুর পর্যন্ত সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ না করে মাটি ভরাট বন্ধ করে দেন তিনি। এতে সড়কের আংশিক কাজ করে মাটি ভরাটের টাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও নকশাকার মইনুল ইসলাম যোগসাজসে আত্মসাৎ করেন।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও নকশাকার মইনুল ইসলাম সড়কের পাশের জমির মালিকদের জানিয়েছিলেন, মাটি প্রদানের জন্য স্থানীয় ভূমি মালিকদের প্রতিবর্গফুটহারে দর ও ফসলের ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করা হবে। কিন্তু পরবর্তীতে আর তা পরিশোধ করেননি।

এদিকে, উপজেলা সদর থেকে সেতু পয়েন্ট পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার সড়ক পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ হওয়ায় তা অধিগ্রহণ করতে হয়নি। কিন্তু বাঁধটি মেরামত ও দুইধার বর্ধিত করতে মাটি অন্যত্র থেকে নিয়ে আসার কথা থাকলেও তা না করে বাঁধের পাশের জমি থেকে এসকাভেটর দিয়ে মাটি উঠিয়ে সড়ক নির্মাণ করছেন। এতে ১৫ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের প্রায় কোটি টাকা পকেটস্থ করেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও তদারকির দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী। এতে সড়কের স্থায়িত্ব ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের টেকসই নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। আগামী বর্ষা মৌসুমে ভারি বর্ষণে এসব মাটি বৃষ্টির ঢলে নিচে নেমে যাবে। আর বন্যার সময় বাঁধটি ভেঙে পার্শ্ববর্তী এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সকল অভিযোগ অস্বীকার করে উপ-সহকারী প্রকৌশলী মইনুল ইসলাম জানান, সড়কে মাটি ভরাটের জন্য স্থানীয় ভূমি মালিকদের কোনো মূল্য পরিশোধের টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। সড়কের পাশের জমি থেকে মাটি নিয়ে সড়ক নির্মাণের কথা উল্লেখ আছে। এ পর্যন্ত সড়কের ৩৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা ভিত্তিহীন। ফসলের ক্ষতিপূরণ এবং মাটি দাতাগণকে কোনো প্রকার টাকা প্রদানের প্রতিশ্রুতি প্রদান করা হয়নি বলেও জানান তিনি।

উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবুল মুনছুর জানান, সড়ক নির্মাণে মাটি ভরাটের বিপরীতে প্রদানের বিষয়টি তার জানা নাই। যদি সরকারিভাবে বরাদ্দ পাওয়া যায় তাহলে প্রদান করা হবে।

তদারকির দায়িত্বে থাকা গাইবান্ধা এলজিইডির নিবার্হী প্রকৌশলী আহসান কবির জানান, ভূমি মালিকদের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। যে সব মালিকদের জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে তাদের টাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হতে পরিশোধ করা হবে। এ ছাড়াও সড়কের পাশের জমিগুলো অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সময় মতো ভূমি অধিগ্রহণের অর্থ ছাড় হলে পর্যায়ক্রমে ভূমি মালিকদের টাকা পরিশোধ করা হবে বলেও জানান তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রধান প্রকৌশলী আব্দুর রশীদ খান ও দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর প্রকল্প পরিচালক আব্দুল মালেক সরকারের সরকারি মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। তাই এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

জনপ্রিয়

সুন্দরগঞ্জে সেতুর সংযোগ সড়কে মাটি ভরাটের কোটি টাকা আত্মসাত!

প্রকাশের সময়: ০৫:১৩:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২১

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পাঁচপীর-চিলমারী দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু দ্বিতীয় দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির পর ১৪৯০ মিটার পিসি গার্ডার সেতুর ৫৬ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণে মাটি ভরাটের কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এতে ফসলের ক্ষতিপূরণ ও জমির মাটির দর পরিশোধ না করে সমুদয় টাকা আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আইডিএল-এনটি-এলএইচ (জেভি) লিমিটেড ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। এ নিয়ে প্রধান প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, স্থানীয় প্রকৌশল দপ্তরের (এলজিইডি) নকশাকার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মইনুল ইসলাম ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভূমি মালকিদের সম্পূর্ণ টাকা আত্মসাৎ করেন। এতে ফসলের ক্ষতিপূরণ ও ভূমি অধিগ্রহণের টাকা মালিকদের কাছে হস্তান্তর না করে তা পকেটস্থ করেছেন বলে দাবি করা হয়।

ভূমি মালিকদের অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বেলকা থেকে হরিপুর পর্যন্ত দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর ৮৬ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য মোট ১৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এতে এই উপজেলার মধ্যে ৫৬ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে পার্শ্ববর্তী ভূমি অধিগ্রহণ ও মাটি ভরাটে প্রতি বর্গফুটহারে বিধিমোতাবেক এবং ফসলের ক্ষতিপূরণবাবদ আনুমানিকহারে টাকা প্রদান করার কথা। কিন্তু সিংহভাগ মাটি ভরাটের টাকা পরিশোধ করা হয়নি। জমির মালিকরা মাটির প্রতি বর্গফুটহারে দর এবং ফসলের ক্ষতিপূরণের টাকা দাবি করলে নকশাকার মইনুল ইসলাম পুলিশের ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের দমিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। পাশাপাশি তিস্তা সেতুর মূল পয়েন্ট হতে সাদুল্লাপুর পর্যন্ত সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ না করে মাটি ভরাট বন্ধ করে দেন তিনি। এতে সড়কের আংশিক কাজ করে মাটি ভরাটের টাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও নকশাকার মইনুল ইসলাম যোগসাজসে আত্মসাৎ করেন।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও নকশাকার মইনুল ইসলাম সড়কের পাশের জমির মালিকদের জানিয়েছিলেন, মাটি প্রদানের জন্য স্থানীয় ভূমি মালিকদের প্রতিবর্গফুটহারে দর ও ফসলের ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করা হবে। কিন্তু পরবর্তীতে আর তা পরিশোধ করেননি।

এদিকে, উপজেলা সদর থেকে সেতু পয়েন্ট পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার সড়ক পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ হওয়ায় তা অধিগ্রহণ করতে হয়নি। কিন্তু বাঁধটি মেরামত ও দুইধার বর্ধিত করতে মাটি অন্যত্র থেকে নিয়ে আসার কথা থাকলেও তা না করে বাঁধের পাশের জমি থেকে এসকাভেটর দিয়ে মাটি উঠিয়ে সড়ক নির্মাণ করছেন। এতে ১৫ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের প্রায় কোটি টাকা পকেটস্থ করেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও তদারকির দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী। এতে সড়কের স্থায়িত্ব ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের টেকসই নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। আগামী বর্ষা মৌসুমে ভারি বর্ষণে এসব মাটি বৃষ্টির ঢলে নিচে নেমে যাবে। আর বন্যার সময় বাঁধটি ভেঙে পার্শ্ববর্তী এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সকল অভিযোগ অস্বীকার করে উপ-সহকারী প্রকৌশলী মইনুল ইসলাম জানান, সড়কে মাটি ভরাটের জন্য স্থানীয় ভূমি মালিকদের কোনো মূল্য পরিশোধের টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। সড়কের পাশের জমি থেকে মাটি নিয়ে সড়ক নির্মাণের কথা উল্লেখ আছে। এ পর্যন্ত সড়কের ৩৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা ভিত্তিহীন। ফসলের ক্ষতিপূরণ এবং মাটি দাতাগণকে কোনো প্রকার টাকা প্রদানের প্রতিশ্রুতি প্রদান করা হয়নি বলেও জানান তিনি।

উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবুল মুনছুর জানান, সড়ক নির্মাণে মাটি ভরাটের বিপরীতে প্রদানের বিষয়টি তার জানা নাই। যদি সরকারিভাবে বরাদ্দ পাওয়া যায় তাহলে প্রদান করা হবে।

তদারকির দায়িত্বে থাকা গাইবান্ধা এলজিইডির নিবার্হী প্রকৌশলী আহসান কবির জানান, ভূমি মালিকদের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। যে সব মালিকদের জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে তাদের টাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হতে পরিশোধ করা হবে। এ ছাড়াও সড়কের পাশের জমিগুলো অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সময় মতো ভূমি অধিগ্রহণের অর্থ ছাড় হলে পর্যায়ক্রমে ভূমি মালিকদের টাকা পরিশোধ করা হবে বলেও জানান তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রধান প্রকৌশলী আব্দুর রশীদ খান ও দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর প্রকল্প পরিচালক আব্দুল মালেক সরকারের সরকারি মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। তাই এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।