সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এক বছরেও দুই বিষয়ের পাঠ্যবই পায়নি শিক্ষার্থীরা

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার দক্ষিণ গাঢ়পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এক বছরেও পায়নি দুই বিষয়ের পাঠ্যবই। সহপাঠীদের নিকট থেকে ধরা করা ও গাইড বই কিনে পড়ালেখা করে মূল্যায়ন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে নবম থেকে দশম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। প্রধান শিক্ষকের এমন দায়িত্বহীনতায় ও গাফিলতিতে ক্ষুদ্ধ অভিভাবকেরা।
জানা গেছে, উপজেলার এমপিওভুক্ত দক্ষিণ গাঢ়পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষের দশম শ্রেণির ১৩ জন শিক্ষার্থী বাংলা দ্বিতীয়পত্র ও কৃষি শিক্ষা পাঠ্যবই এতদিনেও হাতে পায়নি। এজন্য প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বহীনতাকে দায়ী করছেন অভিভাবক ও সচেতন সমাজ।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক দশম শ্রেণির একাধিক শিক্ষার্থী জানায়-প্রধান শিক্ষককে বইয়ের কথা বলতে গেলে তিনি ধমক দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বই আছে, তা বের করতে সময় লাগবে। একাধিকবার বইয়ের কথা জানানোর পরেও তিনি ব্যস্ততাসহ নানা অজুহাত দিতেন। এভাবে বছর চলে যাচ্ছিল এবং বিভিন্ন পরীক্ষা চলে আসছিল। বাধ্য হয়ে তারা গাইড বই ক্রয় করাসহ অন্য স্কুলের বন্ধুদের নিকট থেকে মাঝেমধ্যে বই নিয়ে পড়ালেখা করেছেন। সেই সময়েই নবম থেকে দশম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হলাম কিন্তু আজও এই বই পেলাম না।
ডন চন্দ্র রায় নামে এক অভিভাবক বলেন, ‘নবম থেকে দশম শ্রেণিতে শিক্ষার্থীরা উত্তীর্ণ হলো কিন্তু আজ পর্যন্ত তারা বই দুইটা পেল না। শিক্ষার্থীরা কীভাবে পড়বে? এ বছর তাদের যে ক্ষতি হয়ে গেল, সেটা কীভাবে পূরণ হবে? শিক্ষকদের এমন উদাসীনতা আসলেই মেনে নেয়া যায় না। এজন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ও নজরদারি প্রয়োজন।’
এ ব্যাপারে দক্ষিণ গাঢ়পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চিত্তরঞ্জন রায় বলেন, ‘বই নাই, নিতে হবে।’ এক বছরেও বই না দেয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বই খুঁজতে হবে। গোডাউনে আছে মনে হয়। না হলে পুরাতন বই দেব।’ বই না দিয়েই শিক্ষার্থীদের কীভাবে মূল্যায়ন করলেন জানতে চাইলে, ‘আচ্ছা, ভালো থাকো’ বলে কোনো মন্তব্য না করে ফোন কেটে দেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এম মঞ্জুরুল হক মুঠোফোনে বলেন, ‘এমনটা তো হওয়ার কথা নয়। এক বছর ধরে তো কোনো বইয়ের সংকট নেই। বিদ্যালয়ে তো বই দেয়া হয়েছে। তবু শিক্ষার্থীরা বই পাবে না, এটা দুঃখজনক। বিষয়টি খতিয়ে দেখে শিক্ষার্থীদের দ্রুত বই প্রদান করা হবে।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. তাজউদ্দিন বলেন, ‘ বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের বই প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বই প্রদানে গাফিলতি থাকলে জড়িতদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত বছরের এসএসসি পরীক্ষায় এ বিদ্যালয়ের ১২ জন শিক্ষার্থী মানবিক বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ৫ জন উত্তীর্ণ হয়। বিজ্ঞান বিভাগে নেই কোনো শিক্ষার্থী। এ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ অধিকাংশ শিক্ষক রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় ভয়ে অভিভাবকেরা বিদ্যালয়ের বেহাল অবস্থা ও শিক্ষকদের উদাসীনতার প্রতিবাদ করতে পারেন না।

এক বছরেও দুই বিষয়ের পাঠ্যবই পায়নি শিক্ষার্থীরা

প্রকাশের সময়: ০৫:১২:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৪
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার দক্ষিণ গাঢ়পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এক বছরেও পায়নি দুই বিষয়ের পাঠ্যবই। সহপাঠীদের নিকট থেকে ধরা করা ও গাইড বই কিনে পড়ালেখা করে মূল্যায়ন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে নবম থেকে দশম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। প্রধান শিক্ষকের এমন দায়িত্বহীনতায় ও গাফিলতিতে ক্ষুদ্ধ অভিভাবকেরা।
জানা গেছে, উপজেলার এমপিওভুক্ত দক্ষিণ গাঢ়পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষের দশম শ্রেণির ১৩ জন শিক্ষার্থী বাংলা দ্বিতীয়পত্র ও কৃষি শিক্ষা পাঠ্যবই এতদিনেও হাতে পায়নি। এজন্য প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বহীনতাকে দায়ী করছেন অভিভাবক ও সচেতন সমাজ।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক দশম শ্রেণির একাধিক শিক্ষার্থী জানায়-প্রধান শিক্ষককে বইয়ের কথা বলতে গেলে তিনি ধমক দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বই আছে, তা বের করতে সময় লাগবে। একাধিকবার বইয়ের কথা জানানোর পরেও তিনি ব্যস্ততাসহ নানা অজুহাত দিতেন। এভাবে বছর চলে যাচ্ছিল এবং বিভিন্ন পরীক্ষা চলে আসছিল। বাধ্য হয়ে তারা গাইড বই ক্রয় করাসহ অন্য স্কুলের বন্ধুদের নিকট থেকে মাঝেমধ্যে বই নিয়ে পড়ালেখা করেছেন। সেই সময়েই নবম থেকে দশম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হলাম কিন্তু আজও এই বই পেলাম না।
ডন চন্দ্র রায় নামে এক অভিভাবক বলেন, ‘নবম থেকে দশম শ্রেণিতে শিক্ষার্থীরা উত্তীর্ণ হলো কিন্তু আজ পর্যন্ত তারা বই দুইটা পেল না। শিক্ষার্থীরা কীভাবে পড়বে? এ বছর তাদের যে ক্ষতি হয়ে গেল, সেটা কীভাবে পূরণ হবে? শিক্ষকদের এমন উদাসীনতা আসলেই মেনে নেয়া যায় না। এজন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ও নজরদারি প্রয়োজন।’
এ ব্যাপারে দক্ষিণ গাঢ়পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চিত্তরঞ্জন রায় বলেন, ‘বই নাই, নিতে হবে।’ এক বছরেও বই না দেয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বই খুঁজতে হবে। গোডাউনে আছে মনে হয়। না হলে পুরাতন বই দেব।’ বই না দিয়েই শিক্ষার্থীদের কীভাবে মূল্যায়ন করলেন জানতে চাইলে, ‘আচ্ছা, ভালো থাকো’ বলে কোনো মন্তব্য না করে ফোন কেটে দেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এম মঞ্জুরুল হক মুঠোফোনে বলেন, ‘এমনটা তো হওয়ার কথা নয়। এক বছর ধরে তো কোনো বইয়ের সংকট নেই। বিদ্যালয়ে তো বই দেয়া হয়েছে। তবু শিক্ষার্থীরা বই পাবে না, এটা দুঃখজনক। বিষয়টি খতিয়ে দেখে শিক্ষার্থীদের দ্রুত বই প্রদান করা হবে।’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. তাজউদ্দিন বলেন, ‘ বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের বই প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বই প্রদানে গাফিলতি থাকলে জড়িতদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত বছরের এসএসসি পরীক্ষায় এ বিদ্যালয়ের ১২ জন শিক্ষার্থী মানবিক বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ৫ জন উত্তীর্ণ হয়। বিজ্ঞান বিভাগে নেই কোনো শিক্ষার্থী। এ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ অধিকাংশ শিক্ষক রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় ভয়ে অভিভাবকেরা বিদ্যালয়ের বেহাল অবস্থা ও শিক্ষকদের উদাসীনতার প্রতিবাদ করতে পারেন না।