সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জ্বালানি সাশ্রয়ে সৌর বিদ্যুৎখাত গুরুত্বপূর্ণ:  তৌফিক-ই-ইলাহী

প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বীর বিক্রম বলেছেন-জ্বালানি সাশ্রয় করতে সৌর বিদ্যুৎ খাত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা যুদ্ধ বিগ্রহ কিংবা কোনো সংকটে এ খাতে প্রভাব পড়ে না। প্রাকৃতিক উপায়ে উৎপাদিত সৌর বিদ্যুৎ অনেক বেশি সময়োপযোগী ও কার্যকর।

মঙ্গলবার দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার আঙ্গারপাড়া ইউনিয়নের চৌরঙ্গীবাজার এলাকায় উপজেলা প্রশাসন ও দিপবিস-১’র আয়োজিত সৌর বিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প পরিদর্শনে এসে এক মতবিনিময় সভায় তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

তিনি বলেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ফলে জ্বালানিখাতে বাংলাদেশের প্রায় ১২-১৩ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত খরচ হয়েছে। এ জন্য জ্বালানি সাশ্রয়ে সৌর বিদ্যুৎ খাতে গুরুত্ব দিতে সৌর বিদ্যুৎ চালিত সেচ কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হচ্ছে। জ্বালানিখাতে স্বনির্ভরতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, প্রধানমন্ত্রী সবসময় কৃষি ও কৃষকবান্ধব। তিনি চিন্তা করেন কীভাবে কৃষকদের সাহায্য করা যায়। সোলার ইরিগেশনকে সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে পারলে, কৃষকের জন্য সাশ্রয় হবে ও বৃহৎ বিপ্লব ঘটানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানির বিষয়ে স্বনির্ভরতা অর্জন করতে পারবো। নিজেড়ের স্বাবলম্বী করতে আমরা সারাদেশে এটি ছড়িয়ে দিতে চাই। এটা প্রধানমন্ত্রীও চান।

রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মো. হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে ও খানসামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. তাজ উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের সদস্য দেবাশীষ চক্রবর্তী, বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও নেসকো চেয়ারম্যান ড. সৈয়দ মাসুম আহমেদ চৌধুরী এনডিসি, নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকিউল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) দেবাশীষ চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জিন্নাহ আল মামুন, দিপবিস-১’র সিনিয়র জিএম সাইফুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাহারুল ইসলাম, খানসামা পল্লী বিদ্যুতের এজিএম ইফতেখার আহমেদ প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।

মতবিনিময় সভার পূর্বে তৌফিক-ই-ইলাহী ওই এলাকায় স্থাপিত সৌর বিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প পরিদর্শন ও উপকারভোগীদের খোঁজখবর নেন। এসময় উপকারভোগীরা সৌর বিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্পের মাধ্যমে সুবিধা পাওয়ার কথা তাঁকে জানান।

২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে ৩২০ ওয়াটের ৪৫টি সোলার প্যানেল দিয়ে প্রায় ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতায় সেচ পাম্প নির্মাণ করেন স্বত্বাধিকারী আব্দুল মান্নান। এর মধ্যে সরকার প্রায় ১৮ লাখ টাকা ভর্তুকি প্রদান করে। এ সেচ পাম্প দিয়ে অনন্ত ২৫ একর আবাদি জমিতে সেচ দেয়া হয় এবং অবশিষ্ট উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়। ২০২১ সালের ডিসেস্বর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১৭ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। এটা থেকে নির্ধারিত মূল্য পাবেন ওই পাম্পের স্বত্বাধিকারী।

জ্বালানি সাশ্রয়ে সৌর বিদ্যুৎখাত গুরুত্বপূর্ণ:  তৌফিক-ই-ইলাহী

প্রকাশের সময়: ০৮:৫৫:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বীর বিক্রম বলেছেন-জ্বালানি সাশ্রয় করতে সৌর বিদ্যুৎ খাত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা যুদ্ধ বিগ্রহ কিংবা কোনো সংকটে এ খাতে প্রভাব পড়ে না। প্রাকৃতিক উপায়ে উৎপাদিত সৌর বিদ্যুৎ অনেক বেশি সময়োপযোগী ও কার্যকর।

মঙ্গলবার দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার আঙ্গারপাড়া ইউনিয়নের চৌরঙ্গীবাজার এলাকায় উপজেলা প্রশাসন ও দিপবিস-১’র আয়োজিত সৌর বিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প পরিদর্শনে এসে এক মতবিনিময় সভায় তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

তিনি বলেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ফলে জ্বালানিখাতে বাংলাদেশের প্রায় ১২-১৩ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত খরচ হয়েছে। এ জন্য জ্বালানি সাশ্রয়ে সৌর বিদ্যুৎ খাতে গুরুত্ব দিতে সৌর বিদ্যুৎ চালিত সেচ কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হচ্ছে। জ্বালানিখাতে স্বনির্ভরতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, প্রধানমন্ত্রী সবসময় কৃষি ও কৃষকবান্ধব। তিনি চিন্তা করেন কীভাবে কৃষকদের সাহায্য করা যায়। সোলার ইরিগেশনকে সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে পারলে, কৃষকের জন্য সাশ্রয় হবে ও বৃহৎ বিপ্লব ঘটানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানির বিষয়ে স্বনির্ভরতা অর্জন করতে পারবো। নিজেড়ের স্বাবলম্বী করতে আমরা সারাদেশে এটি ছড়িয়ে দিতে চাই। এটা প্রধানমন্ত্রীও চান।

রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মো. হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে ও খানসামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. তাজ উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের সদস্য দেবাশীষ চক্রবর্তী, বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও নেসকো চেয়ারম্যান ড. সৈয়দ মাসুম আহমেদ চৌধুরী এনডিসি, নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকিউল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) দেবাশীষ চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জিন্নাহ আল মামুন, দিপবিস-১’র সিনিয়র জিএম সাইফুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাহারুল ইসলাম, খানসামা পল্লী বিদ্যুতের এজিএম ইফতেখার আহমেদ প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।

মতবিনিময় সভার পূর্বে তৌফিক-ই-ইলাহী ওই এলাকায় স্থাপিত সৌর বিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্প পরিদর্শন ও উপকারভোগীদের খোঁজখবর নেন। এসময় উপকারভোগীরা সৌর বিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্পের মাধ্যমে সুবিধা পাওয়ার কথা তাঁকে জানান।

২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে ৩২০ ওয়াটের ৪৫টি সোলার প্যানেল দিয়ে প্রায় ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতায় সেচ পাম্প নির্মাণ করেন স্বত্বাধিকারী আব্দুল মান্নান। এর মধ্যে সরকার প্রায় ১৮ লাখ টাকা ভর্তুকি প্রদান করে। এ সেচ পাম্প দিয়ে অনন্ত ২৫ একর আবাদি জমিতে সেচ দেয়া হয় এবং অবশিষ্ট উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়। ২০২১ সালের ডিসেস্বর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১৭ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। এটা থেকে নির্ধারিত মূল্য পাবেন ওই পাম্পের স্বত্বাধিকারী।