মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সড়কের তুলনায় সেতু-কালভার্ট সরু, দুর্ঘটনার শঙ্কা

সম্প্রাসরণ করা হয়নি পুরনো সেতু-কালভার্টগুলো। এগুলো সড়কের তুলনায় অতি সরু থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

তোফায়েল হোসেন জাকির: গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার বিভিন্ন রুটে সোয়া ২০০ কিলোমিটারের বেশি  সড়ক পাকাকরণ রয়েছে। এরই মধ্যে প্রশস্ত করে নির্মাণ করা হয় একাধিক সড়ক । কিন্তু সেখানে সম্প্রাসরণ করা হয়নি পুরনো সেতু-কালভার্টগুলো। এগুলো সড়কের তুলনায় অতি সরু থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। এতে করে দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ভুগছে হাজারো পথচারী।

সম্প্রতি সরেজমিনে সাদুল্লাপুর-ধাপেরহাট আঞ্চলিক মহাসড়ক, সাদুল্লাপুর-নলডাঙ্গা সড়ক, গাছুরবাজার-তুলশিঘাটসহ আরও বেশ কিছু রুটে দেখা গেছে- ঝুঁকিপূর্ণভাবে দাঁড়িয়ে থাকা সরু সেতু-কালভার্টগুলোর চিত্র। তবে ওইসব সড়কে কতগুলো সেতু-কালভার্ট রয়েছে এমন তথ্য নেই সাদুল্লাপুরের এলজিইডি অফিসে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাদুল্লাপুর-ধাপেরহাট ১৬ কিলোমিটার সড়ক গত বছরে প্রশস্ত করে নির্মাণ করা হয়েছে। রংপুর-ঢাকা জাতীয় মহাসড়কের প্রবেশদ্বার এই সড়কটি ইতোমধ্যে যানবাহনে পরিপূর্ণ থাকছে। দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস সহ অনেক পরিবহন রাত-দিন চলাচল করছে। একই অবস্থা সাদুল্লাপুর-নলডাঙ্গা সড়কেও। এছাড়া আরও একাধিক সড়কে সরু কালভার্ট-সেতু রয়েছে। কিন্তু এসব সড়কে সেতু-কালভার্টগুলো এখনোও সম্প্রসারণ করা হয়নি। যার ফলে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারছে না পথচারীরা। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে তাদের দুর্ঘটনার আশঙ্কাসহ মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে ওইসব সেতু-কালভার্ট স্থানে।

একাধিক রুটে মরণফাঁদে পরিণত হওয়া কালভার্ট-সেতু দিয়ে প্রতিনিয়তই চলছে যাত্রীবাহী বাস, মালবাহী ট্রাক, লরি, কাভার্টভ্যান, কৃষি পণ্যবাহী পিকআপভ্যান, সিএনজি, অ্যাম্বুলেন্স, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ধরণের যানবাহন। এতে করে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকছে বলে জানিয়েছেন আজহারুল নামের এক শিক্ষক।

সাদেকুল ইসলাম নামের স্থানীয় ব্যক্তি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ওইসব সেতু-কালভার্ট দিয়ে ভারি যানবাহন দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌছাছে। এছাড়াও রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সসহ সিএনজি-অটোরিকশায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও চলাচল করে থাকে। পুরনো সেতুগুলো দ্রুত সম্প্রসারণ করা না হলে যে কোন মুহূর্তে দুর্ঘটনায় প্রাণহানীর ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধরণা করা হচ্ছে।

নলডাঙ্গা-সাদুল্লাপুর ভায়া ধাপেরহাট সড়কটি নতুন করে নির্মাণ হলেও যাত্রী নিয়ে আতঙ্কে চলতে হয় বলে জানালেন নৈশ্যকোচ চালক আব্দুল খালেক প্রধান। তিনি বলেন, এই রুটে প্রায় ১০টি সরু কালভার্ট-সেতু পাড়ি দিতে হয়। সেখানে একই সঙ্গে একাধিক যানবাহন  উঠা অসম্ভব। এতে করে দুর্ঘটনার শঙ্কা থাকে। এছাড়া যাত্রীদের মূল্যবান সময় ও গাড়ীর জ্বালানির অপচয় গুণতে হচ্ছে।

ওই উপজেলায় কয়টি সরু সেতু-কালভার্ট রয়েছে জানতে চাইলে এলজিইডির প্রকৌশলী মো. মেনাজ বলেন, কতটি আছে সেটি জানা নেই। তবে বেশ কিছু স্থানে সরু সেতু-কালভার্ট আছে।

সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কাওছার হাবীব জাগো২৪.নেট-কে বলেন, বকশীগঞ্জ আমতলী ব্রিজসহ বিদ্যমান সকল সরু ব্রিজ সম্প্রসারণে পুনঃনির্মাণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সড়কের তুলনায় সেতু-কালভার্ট সরু, দুর্ঘটনার শঙ্কা

প্রকাশের সময়: ১০:৩৩:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মার্চ ২০২৪

সম্প্রাসরণ করা হয়নি পুরনো সেতু-কালভার্টগুলো। এগুলো সড়কের তুলনায় অতি সরু থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

তোফায়েল হোসেন জাকির: গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার বিভিন্ন রুটে সোয়া ২০০ কিলোমিটারের বেশি  সড়ক পাকাকরণ রয়েছে। এরই মধ্যে প্রশস্ত করে নির্মাণ করা হয় একাধিক সড়ক । কিন্তু সেখানে সম্প্রাসরণ করা হয়নি পুরনো সেতু-কালভার্টগুলো। এগুলো সড়কের তুলনায় অতি সরু থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। এতে করে দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ভুগছে হাজারো পথচারী।

সম্প্রতি সরেজমিনে সাদুল্লাপুর-ধাপেরহাট আঞ্চলিক মহাসড়ক, সাদুল্লাপুর-নলডাঙ্গা সড়ক, গাছুরবাজার-তুলশিঘাটসহ আরও বেশ কিছু রুটে দেখা গেছে- ঝুঁকিপূর্ণভাবে দাঁড়িয়ে থাকা সরু সেতু-কালভার্টগুলোর চিত্র। তবে ওইসব সড়কে কতগুলো সেতু-কালভার্ট রয়েছে এমন তথ্য নেই সাদুল্লাপুরের এলজিইডি অফিসে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাদুল্লাপুর-ধাপেরহাট ১৬ কিলোমিটার সড়ক গত বছরে প্রশস্ত করে নির্মাণ করা হয়েছে। রংপুর-ঢাকা জাতীয় মহাসড়কের প্রবেশদ্বার এই সড়কটি ইতোমধ্যে যানবাহনে পরিপূর্ণ থাকছে। দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস সহ অনেক পরিবহন রাত-দিন চলাচল করছে। একই অবস্থা সাদুল্লাপুর-নলডাঙ্গা সড়কেও। এছাড়া আরও একাধিক সড়কে সরু কালভার্ট-সেতু রয়েছে। কিন্তু এসব সড়কে সেতু-কালভার্টগুলো এখনোও সম্প্রসারণ করা হয়নি। যার ফলে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারছে না পথচারীরা। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে তাদের দুর্ঘটনার আশঙ্কাসহ মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে ওইসব সেতু-কালভার্ট স্থানে।

একাধিক রুটে মরণফাঁদে পরিণত হওয়া কালভার্ট-সেতু দিয়ে প্রতিনিয়তই চলছে যাত্রীবাহী বাস, মালবাহী ট্রাক, লরি, কাভার্টভ্যান, কৃষি পণ্যবাহী পিকআপভ্যান, সিএনজি, অ্যাম্বুলেন্স, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ধরণের যানবাহন। এতে করে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকছে বলে জানিয়েছেন আজহারুল নামের এক শিক্ষক।

সাদেকুল ইসলাম নামের স্থানীয় ব্যক্তি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ওইসব সেতু-কালভার্ট দিয়ে ভারি যানবাহন দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌছাছে। এছাড়াও রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সসহ সিএনজি-অটোরিকশায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও চলাচল করে থাকে। পুরনো সেতুগুলো দ্রুত সম্প্রসারণ করা না হলে যে কোন মুহূর্তে দুর্ঘটনায় প্রাণহানীর ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধরণা করা হচ্ছে।

নলডাঙ্গা-সাদুল্লাপুর ভায়া ধাপেরহাট সড়কটি নতুন করে নির্মাণ হলেও যাত্রী নিয়ে আতঙ্কে চলতে হয় বলে জানালেন নৈশ্যকোচ চালক আব্দুল খালেক প্রধান। তিনি বলেন, এই রুটে প্রায় ১০টি সরু কালভার্ট-সেতু পাড়ি দিতে হয়। সেখানে একই সঙ্গে একাধিক যানবাহন  উঠা অসম্ভব। এতে করে দুর্ঘটনার শঙ্কা থাকে। এছাড়া যাত্রীদের মূল্যবান সময় ও গাড়ীর জ্বালানির অপচয় গুণতে হচ্ছে।

ওই উপজেলায় কয়টি সরু সেতু-কালভার্ট রয়েছে জানতে চাইলে এলজিইডির প্রকৌশলী মো. মেনাজ বলেন, কতটি আছে সেটি জানা নেই। তবে বেশ কিছু স্থানে সরু সেতু-কালভার্ট আছে।

সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কাওছার হাবীব জাগো২৪.নেট-কে বলেন, বকশীগঞ্জ আমতলী ব্রিজসহ বিদ্যমান সকল সরু ব্রিজ সম্প্রসারণে পুনঃনির্মাণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।