বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধায় প্রজাপতি ধানের ফলনে বাজিমাত

গাইবান্ধার প্রান্তিক কৃষক আমিনুল ইসলাম, আনারুল মিয়া ও আমজাদ হোসেন। এছাড়া আরও অসংখ্য কৃষক চলতি বোরোতে চাষ করেছেন প্রজাপতি নামের একটি ধানের জাত। ইতোমধ্যে এই ক্ষেতের ধানে বাজিমাত করেছে তারা।

সোমবার (১৩ মে) গাইবান্ধা সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের গয়েশপুর গ্রামের কৃষক আনারুলের ক্ষেতে আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়। এ কর্মসূচির আয়োজন করে ব্যাগরো কোম্পানি লিমিটেড।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, ওই কোম্পানির রংপুর বিভাগের সেলস ম্যানেজার মো, আবু হাসানুল হুদা রাশেদ, স্থানীয় দেওয়ান ট্রেডার্সের উজ্জ্বল মিয়া , ডিলার মিরাজ হাওলাদার, সুজন মিয়া, আমজাদ হোসেন সহ আরও অনেকে।

জানা যায়, ব্যাগরো কোম্পানী লিমিটেড বিগত সাত বছর ধরে হাইব্রিড ধানবীজ বাজার জাত করলেও এই প্রথম ভারত থেকে প্রজাপতি জাতের বীজ আমদানী করে। যা চলতি বোরো মৌসুমে গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন উপজেলার মাঠে প্রায় ৫০০ হেক্টর জমিতে এই জাতের ধান চাষ করেছেন কৃষকরা। এই ফসল ক্ষেত থেকে তারা পাচ্ছেন বাম্পার ফলন। যা অন্যান্য কৃষকদেও তাক লাগিয়েছেন।

স্থানীয় কৃষকরা জানায়, গাইবান্ধার কৃষিমাঠে বোরো মৌসুমে সবচেয়ে বেশি চাষ করছেন উচ্চ ফলনশীল (উফশী) জাতের ধান। উফশী ধানের পাশাপাশি ফলন বেশি হওয়ায় হাইব্রিড ধানের চাষে আগ্রহ বেড়েছে জেলার কৃষকদের। তবে উফশী ও হাইব্রিড ধানে ফলন বেশি হওয়ার ফলে দেশি জাতের ব্রি ধান-২৮, ২৯ ও ৫৮  স্থানীয় ধানের চাষ কমে এখন হাইব্রিডে ঝুঁকছে। এর পাশপাশি এ বছরে প্রথম  প্রজাপতি (চিকন)  নামে হাইব্রিড ধান চাষ করে অধিক ফলন ঘরে তুলছেন কৃষকরা।

আমজাদ হোসেন নামের এক কৃষক বলেন, যেখানে দেশি জাতের ব্রি ধান- ২৮ জাত  চাষ করে বিঘা প্রতি ২০ থেকে ২৫ মণ পাওয়া যায় সেখানে উচ্চ ফলনশীল উফশী চিকন জাতের ধান চাষ করলে বিঘা প্রতি ২৮ থেকে ৩৩ মণ পাওয়া যায়।

কৃষক উজ্জ্বল মিয়া জানান, এ বছর স্থানীয় বীজ ব্যবসায়ী সাহার বাজারের দেওয়ান ট্রেডার্স থেকে ব্যাগরো কোম্পানীর হাইব্রিড চিকন ধানের বীজ প্রজাপতি নিয়ে জমিতে রোপণ করি। প্রথম থেকে চারা ও গাছের টিলার দেখে মন জুরিয়ে যায়। এখন শীষ প্রায় ১ ফুটের মতো। চিটাও কম দানাও পুষ্ট। ফলনও ভালোই হয়েছে। তবে গোছা ও শীষ দেখে আমি খুব খুশি। শতকে ৩২ কেজি ধান পেয়েছি।

বল্লমঝাড় ইউনিয়নের কৃষক আনারুল মিয়া বলেন, আমি যখন ছোট ছিলাম তখন আমার বাবা চাচারা দেশি ধান চাষ করতেন। তখন ফলন ছিল অনেক কম অবশ্য খরচও ছিল কম, কিন্তু এখন আর স্থানীয় ধান চাষ করে খরচ তোলা দায়। তবে হাইব্রিড ও উফশীতে ফলন অনেক ভালো হয়। দেশি জাতের ধানের তুলনায় ৩ থেকে ৪ গুণ বেশি ফলন পাওয়া যায়। আমাদের এলাকার বেশিরভাগ কৃষক উফশী ধান চাষ করছেন।

এবিষয়ে ব্যাগরো কোম্পানী লিমিটেডের রংপুর বিভাগের সেলস ম্যানেজার মো, আবু হাসানুল হুদা রাশেদ বলেন, আমাদেও কোম্পানি হাইব্রিড ধান জাত ২ টি বাজারজাত করছে। একটি সুগন্ধা অপরটি প্রজাপতি ধান। ধান গাছ মাঝারি উঁচু ও ধান উজ্জ্বল বর্ণের।  চিটা কম ওজনে ভারি। বাজারে চাহিদা বেশি রয়েছে।

গাইবান্ধায় প্রজাপতি ধানের ফলনে বাজিমাত

প্রকাশের সময়: ০৭:০৫:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ মে ২০২৪

গাইবান্ধার প্রান্তিক কৃষক আমিনুল ইসলাম, আনারুল মিয়া ও আমজাদ হোসেন। এছাড়া আরও অসংখ্য কৃষক চলতি বোরোতে চাষ করেছেন প্রজাপতি নামের একটি ধানের জাত। ইতোমধ্যে এই ক্ষেতের ধানে বাজিমাত করেছে তারা।

সোমবার (১৩ মে) গাইবান্ধা সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের গয়েশপুর গ্রামের কৃষক আনারুলের ক্ষেতে আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়। এ কর্মসূচির আয়োজন করে ব্যাগরো কোম্পানি লিমিটেড।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, ওই কোম্পানির রংপুর বিভাগের সেলস ম্যানেজার মো, আবু হাসানুল হুদা রাশেদ, স্থানীয় দেওয়ান ট্রেডার্সের উজ্জ্বল মিয়া , ডিলার মিরাজ হাওলাদার, সুজন মিয়া, আমজাদ হোসেন সহ আরও অনেকে।

জানা যায়, ব্যাগরো কোম্পানী লিমিটেড বিগত সাত বছর ধরে হাইব্রিড ধানবীজ বাজার জাত করলেও এই প্রথম ভারত থেকে প্রজাপতি জাতের বীজ আমদানী করে। যা চলতি বোরো মৌসুমে গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন উপজেলার মাঠে প্রায় ৫০০ হেক্টর জমিতে এই জাতের ধান চাষ করেছেন কৃষকরা। এই ফসল ক্ষেত থেকে তারা পাচ্ছেন বাম্পার ফলন। যা অন্যান্য কৃষকদেও তাক লাগিয়েছেন।

স্থানীয় কৃষকরা জানায়, গাইবান্ধার কৃষিমাঠে বোরো মৌসুমে সবচেয়ে বেশি চাষ করছেন উচ্চ ফলনশীল (উফশী) জাতের ধান। উফশী ধানের পাশাপাশি ফলন বেশি হওয়ায় হাইব্রিড ধানের চাষে আগ্রহ বেড়েছে জেলার কৃষকদের। তবে উফশী ও হাইব্রিড ধানে ফলন বেশি হওয়ার ফলে দেশি জাতের ব্রি ধান-২৮, ২৯ ও ৫৮  স্থানীয় ধানের চাষ কমে এখন হাইব্রিডে ঝুঁকছে। এর পাশপাশি এ বছরে প্রথম  প্রজাপতি (চিকন)  নামে হাইব্রিড ধান চাষ করে অধিক ফলন ঘরে তুলছেন কৃষকরা।

আমজাদ হোসেন নামের এক কৃষক বলেন, যেখানে দেশি জাতের ব্রি ধান- ২৮ জাত  চাষ করে বিঘা প্রতি ২০ থেকে ২৫ মণ পাওয়া যায় সেখানে উচ্চ ফলনশীল উফশী চিকন জাতের ধান চাষ করলে বিঘা প্রতি ২৮ থেকে ৩৩ মণ পাওয়া যায়।

কৃষক উজ্জ্বল মিয়া জানান, এ বছর স্থানীয় বীজ ব্যবসায়ী সাহার বাজারের দেওয়ান ট্রেডার্স থেকে ব্যাগরো কোম্পানীর হাইব্রিড চিকন ধানের বীজ প্রজাপতি নিয়ে জমিতে রোপণ করি। প্রথম থেকে চারা ও গাছের টিলার দেখে মন জুরিয়ে যায়। এখন শীষ প্রায় ১ ফুটের মতো। চিটাও কম দানাও পুষ্ট। ফলনও ভালোই হয়েছে। তবে গোছা ও শীষ দেখে আমি খুব খুশি। শতকে ৩২ কেজি ধান পেয়েছি।

বল্লমঝাড় ইউনিয়নের কৃষক আনারুল মিয়া বলেন, আমি যখন ছোট ছিলাম তখন আমার বাবা চাচারা দেশি ধান চাষ করতেন। তখন ফলন ছিল অনেক কম অবশ্য খরচও ছিল কম, কিন্তু এখন আর স্থানীয় ধান চাষ করে খরচ তোলা দায়। তবে হাইব্রিড ও উফশীতে ফলন অনেক ভালো হয়। দেশি জাতের ধানের তুলনায় ৩ থেকে ৪ গুণ বেশি ফলন পাওয়া যায়। আমাদের এলাকার বেশিরভাগ কৃষক উফশী ধান চাষ করছেন।

এবিষয়ে ব্যাগরো কোম্পানী লিমিটেডের রংপুর বিভাগের সেলস ম্যানেজার মো, আবু হাসানুল হুদা রাশেদ বলেন, আমাদেও কোম্পানি হাইব্রিড ধান জাত ২ টি বাজারজাত করছে। একটি সুগন্ধা অপরটি প্রজাপতি ধান। ধান গাছ মাঝারি উঁচু ও ধান উজ্জ্বল বর্ণের।  চিটা কম ওজনে ভারি। বাজারে চাহিদা বেশি রয়েছে।