সঞ্জয় সাহা : অনলাইনের পাশাপাশি অফলাইনে নারীদের প্রতিভা, উদ্যাক্তা ও তাদের পন্যের পরিচিতি বাড়াতে গাইবান্ধা পৌরপার্কে ৪দিনব্যাপী নারী উদ্যাক্তা মেলার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সমিতি ( নাসিব) গাইবান্ধা জেলা শাখা।
১৫ই মে থেকে ১৮ই মে পর্যন্ত গাইবান্ধা শহরের পৌরপার্কে প্রতিদিন সকাল ১০ টায় মেলা শুরু হয়ে রাত ৯ টা অবধি চলবে এই মেলা। মেলায় স্থানীয় উদ্যোক্তাদের তৈরি শাল, থ্রি-পিস, অন পিস, টু-পিস, শাল, বিছানার চাদর, রাজশাহী সিল্ক, পাপড়, আচার, কেক, পুডিং, বিভিন্ন প্রকার পিঠা সহ বিভিন্ন রকম পণ্যের কল্পতরু বুটিক হাউস, মেরাজ বুটিক, ফাতিহা হ্যান্ডিক্রাফট, বেলাল সরিষার তেল, যুব নারী উন্নয়ন সংঘ, সাফওয়ান নেচার এগ্রো ফার্মিং, কারুশিল্প পন্যের কাদামাটি, কবিতা বুটিক, রিফাত শিবা,এস আর কালেকশন, সিনথিয়া মার্ট, সংসার, গিফট কর্ণার সহ মোট ৫২ টি স্টল স্থান পেয়েছে। এতে নতুন-পুরাতন মিলে মোট অর্ধশতাধিক নারী ও পুরুষ উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করেন। মেলা বিনোদনকেন্দ্রে পরিনত হওয়ায় ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের পদচারণা বেড়ে গেছে। ক্রেতারা তাদের পছন্দমতো জিনিস ক্রয় করতে পারে বিভিন্ন দোকানের ভিড় জমাচ্ছেন।
ক্রেতারা বলেন- মেলায় জিনিসপত্র কেনার মজাই আলাদা। মনে একটা আনন্দ জাগে। মার্কেটে আমরা যেসব জিনিসপত্র পাইনা। সেগুলো মেলায় পাই।মেলায় কেনাকাটায় সুবিধা হয়। দেখেশুনে পছন্দমতো নিতে পারি।
উদ্যাক্তারা বলেন- আমরা মেলার মাধ্যমে নিজেদের প্রতিভা প্রকাশ ও নিজেদের পরিচিতি বাড়ানোর পাশাপাশি আমাদের নিজেদের হাতে ডিজাইন করা কাপড় মেলায় তুলে ধরতে পাচ্ছি। প্রতিবার মেলা থেকে আমরা ভাল রেসপন্স পাচ্ছি৷ এই জন্য ঘন ঘন মেলা হলে আমরা আর্থিকভাবে লাভবান হই। এই মেলার মাধ্যমে নারীদের কাজ ও ডিজাইন গুলো সবার মাঝে ছড়িয়ে যাচ্ছে ফলে ব্যবসার প্রচার ও প্রসার হচ্ছে।
কল্পতরু বুটিক হাউস এর পরিচালক ও নারী উদ্যোক্তা রনী চাকী জানান, গাইবান্ধায় যত নারী উদ্যোক্তা রয়েছে তাদের মধ্যে একটা পরিচিতি বন্ধন তৈরি করার জন্য এই মেলা। আমরা কতজন নারী উদ্যোক্তা রয়েছি, কি কি নিয়ে কাজ করছি। কোথা থেকে কাজ করছি সেজন্য আজকের এই আয়োজন। এখানে শাল, থ্রি পিস, অনপিস, টু-পিস, রাজশাহী সিল্ক, আচার এসব পাওয়া যায় ও অনলাইনে বিক্রি করি।
নাসিব পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক “বেলাল হোসেন” বলেন – নাসিব কর্তৃক উদ্যোক্তা মেলার কারনে নিজস্ব জেলায় উদ্যোক্তাদের পণ্যের পরিচিতি বাড়ছে। আমাদের গাইবান্ধায় অনেকে সুন্দর সুন্দর যিনি তৈরি করতে পারে গ্যালেন্ডার জেলা মানসম্মত প্রোডাক্ট তৈরি করতে পারে বা দিতে পারে গাইবান্ধার লোকজনদেরকে। মেলার কারণে উদ্যোক্তাদের পরিচিতি বাড়ছে ও তারা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে। পাশাপাশি মিডিয়ার মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের তৈরি পণ্য দেশ বিদেশে পরিচিতি বাড়ছে। তাদের অনলাইন পেজ রয়েছে। মিডিয়ায় প্রচারের কারনে ভাল যারা উদ্যোক্তা রয়েছে তাদের পন্য ব্র্যান্ডিং করতে পারি। আমরা ঘন ঘন মেলার আয়োজন করলে উদ্যোক্তারা উৎসাহিত হয়। তার নিজে কিছু করবে। আমাদের এখানে অনেক উদ্যোক্তা রয়েছে তাদের কাছে ৫০ থেকে দুইশো, আড়াইশো পর্যন্ত লোক কাজ করে। এতে করে অনেক নারী ও পুরুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে। এটা একটা ভাল দিক। মেলা ও নারী উদ্যোক্তাদের কারণে গাইবান্ধা জেলা স্পেশালি আরো উন্নত হবে ও অর্থনীতি বিষয় চাঙ্গা হবে। উদ্যোক্তা যাতে না ঝরে সে বিষয় খেয়াল রাখতে হবে।
“নাসিব সভাপতি আমজাদ হোসেন” বলেন – নতুন নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টির লক্ষ্যে ও তাদের পণ্যের মার্কেটিং পরিচিতির জন্য এই মেলার আয়োজন। যাতে করে তাদের তৈরি পণ্য দেশ ও দেশের বাহিরে প্রচারে সুযোগ পায়।
সঞ্জয় সাহা, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট 
















