তোফায়েল হোসেন জাকির: আর কিছুদিন পরই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। ভোটগ্রহণের সময় ঘনিয়ে আসলেও সাধারণ ভোটাররা রয়েছেন নিরবে। তবে প্রচার-পচারণায় সরব হয়ে উঠেছে প্রার্থীরা।
ইতোমধ্যে সাদুল্লাপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন শাহ মো. ফজলুল হক রানা, রেজাউল করিম রেজা, সাইদুর রহমান, আব্দুল ওয়াহেদ, নুর আজম মন্ডল নীরব, আজিজার রহমান ও সাহীন আলম। এসবের মধ্যে সাইদুর রহমান এবং সাহীন আলম ছাড়া অধিকাংশ প্রার্থী আওয়ামীলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। যার কারণে স্থানীয় নেতা-কর্মীরা দ্বিধাবিভক্তি হয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে।
এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন- মোন্তেজার রহমান চঞ্চল, আছকালাম আকন্দ, শাহ আলম মিয়া, এনামুল হক মন্ডল রনজু ও মিজানুর রহমান। তারা সবাই ভোটযুদ্ধে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। এদিকে নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে আকতার বানু লাকী, মাহমুদা বেগম, লাভলী বেগম ও আরজিনা বেগমও কোমর বেঁধে ভোটযুদ্ধে লড়ছেন।
জানা গেছে, ষষ্ঠ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে সাদুল্লাপুর উপজেলা পরিষদের ভোটগ্রহণ আগামী ২৯ মে অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে এ নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থীরা ভোটের মাঠে মোটরসাইকেল শো-ডাউন আর মাইক প্রচার করছেন। সাটিয়েছেন পোস্টারও। করছেন উঠান বৈঠক। বিরামহীনভাবে প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন তারা। জয়ের ব্যাপারে সকল প্রার্থীই আশাবাদী।
সাধারণ ভোটাররা জানিয়েছে- সাদুল্লাপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে শাহ মো. ফজলুল হক রানা, রেজাউল করিম রেজা, সাইদুর রহমানের মধ্যে মূল লড়াই হবে। এছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে মোন্তেজার রহমান চঞ্চল ও আছকালাম আকন্দের মধ্যে এবং নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে আকতার বানু লাকী, মাহমুদা বেগম ও লাভলী বেগম আলোচনায় এগিয়ে রয়েছেন।
বিশেষ সুত্রে জানা যায়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাদুল্লাপুর উপজেলার ৬৮ ভোটকেন্দ্রে গড় ভোট পড়েছে ২৬ দশমিক ৪১ শতাংশ। এবারে ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে অন্যান্য উপজেলায় গড়ে ৩৬ দশমিক ১ শতাংশ ভোট পড়েছে। জামায়াত-বিএনপি এ নির্বাচন বর্জনসহ ভোট বিরোধী প্রচারভিযানে ভোটার উপস্থিত কমে যাওয়া কারণসহ নানা প্রশ্ন উঠেছে ভোটারদের।
স্থানীয় খালেক মিয়া নামের এক ব্যক্তি বলেন, ইতোমধ্যে প্রার্থীরা নানাভাবে তৎপর থাকলেও আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না ভোটারদের। এই নিবার্চনের প্রচার-প্রচারণার মধ্যে সম্প্রতি শুরু হয়েছে ইরি-বোরো ধান কাটা-মাড়াই। এই কাজের ব্যস্ততায় এখন পর্যন্ত নিরব রয়েছেন ভোটাররা। তবে আর কয়েকদিন পরই ভোটের আমেজ বাড়তে পারে বলে জানান তিনি।
এদিকে, সাধারণ ভোটারদের কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়াই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেন্দ্রে ভোটার সমাগম নিয়ে চেষ্টা চলছে বলে জানালেন একাধিক প্রার্থী।
সাদুল্লাপুর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ছামছুল হাসান ছামছুল বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তে এবারে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন বর্জন করেছে। আমরা এই ভোটের পক্ষে নই। আমাদের উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সাইদুর রহমান এই নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে অংশ নেওয়ায় ইতোমধ্যে তাকে বহিস্কার করা হয়েছে।
সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৫৮ হাজার ৪৫৩। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ২৭ হাজার ৮৭৬ ও মহিলা ১ লাখ ৩০ হাজার ৫৭১ ও তৃতীয় লিঙ্গ ভোটার ৬ জন। ১০২ কেন্দ্রে এসব ভোটার তাদের ভোটধিকার প্রয়োগ করবেন।
তোফায়েল হোসেন জাকির, জাগো২৪.নেট 
















