রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ০২:০৭ পূর্বাহ্ন

হ্যান্ড পেইন্টে উদ্যোক্তা হতে চায় মুন্নী

তোফায়েল হোসেন জাকির, জাগো২৪.নেট
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১ জুন, ২০২৪

তোফায়েল হোসেন জাকির :  গৃহবধু কাজল রেখা মুন্নী (৪৫)। শুরু করেছেন হ্যান্ড পেইন্টের কাজ। রংতুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তুলছেন কাপড়-ক্যানভাস। বাহারি নকশায় তৈরী করছেন বিভিন্ন জামা-কাপড় ও অন্যান্য বস্ত্রাদি। ইতোমধ্যে বাজারে চাহিদা বাড়তেও শুরু করেছে। তাই এই কাজটি করে নিজে উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন মুন্নী বেগম।

তার বাড়ি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার নলডাঙ্গার কলেজপাড়ায়। তিনি সাবেক ইউপি সদস্য খাইরুল ইসলামের স্ত্রী। স্বামী, দুই মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে তাদের সংসার।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে- মুন্নী বেগমের হ্যান্ড পেইন্টের কাজের অপরূপ চিত্র। সেখানে রংতুলি ও ডাইসের স্পর্শে বর্ণিল হয়ে ওঠছে হরেক ডিজাইনের পোষাক। এখানে আপন খেয়ালে কাজ করছেলেন আরও কয়েকজন নারী।

জানা যায়, কাজল রেখা মুন্নী ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন দেখেতেন নিজেকে আত্ননির্ভশীল করতে। এরই মধ্যে যখন অস্টম শ্রেণিতে পড়েন তখন তাকে বিয়ে করায় বাবা। তবুও লেখাপড়ার হাল ছাড়েনি। বিয়ের পর ১৯৯৬ সালে পাস করেন এসএসসি। এরপর টানাপোড়েন সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরাতে চেষ্টা করেন তিনি।

এরই ধারাবাহিকতায় স্থানীয় এনজিও থেকে বিভিন্ন প্রকল্পে যুক্ত হোন তিনি। এমতাবস্থায় এসডিএফ নামের একটি এনজিও থেকে ডেইরি-পোল্ট্রিসহ হ্যান্ড পেইন্টের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এসব প্রশিক্ষণ নিয়ে যুব উন্নয়ন অধিদফতরের ভ্রাম্যমান প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। সেটি এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হলেও বসে থাকেনি মুন্নী। এখন নিজ বাড়িকে স্বল্প পূজিঁ নিয়ে শুরু করেছেন হ্যান্ড পেইন্টের কাজ।

স্থানীয় নলডাঙ্গা বাজারসহ বিভিন্ন স্থান থেকে ফেব্রিক্স কিনে রংতুলি, ডাইস ও ফ্রেমের মাধ্যমে তৈরী করছেন থ্রিপিস, টেবিল ক্লোথ, বিছানার চাদর, কুসুম বালিশ ও জানালা-দরজার পর্দা ইত্যাদি। আর এসব বস্ত্রাদি বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন বাজারে। বর্তমানে এই কারখানায় ১০ জন নারী শ্রমিক কাজ করছেন।

স্থানীয় লিজা আক্তার নামের এক কলেজ শিক্ষার্থী বলেন, মুন্নী আপার হাতের ছোয়ায় ফুটিয়ে তোলা পোষাক দেখে অনেকটা মুগ্ধ। তার পেইন্টের জামা আমিও কিনেছি।

এই হ্যান্ড পেইন্টের শ্রমিক ফরিদা বেগম বলেন, মুন্নী আপা অত্যান্ত কর্মঠ। তার কারখানায় সামান্য পারিশ্রমিক নিয়ে আমরা ১০ জন নারী কাজ করছি। তিনি প্রতিষ্ঠিত হলে আমরাও একদিন ভালো বেতন পাবো।

এ বিষয়ে মালিক কাজল রেখা মুন্নী বলেন, সবেমাত্র হ্যান্ড পেইন্ট কারখানা চালু করেছি। এটি অত্যান্ত লাভজনক। এ থেকে নিজেকে উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখছি। তবে পুজিঁ না থাকায় বড় পরিসরে করতে পারছি না। সরকারি-কেসরকারীভাবে আর্থিক সহযোগিতা পেলে নিজে আত্নকর্মসংস্থানসহ আরও শতাধিক নারীর কর্মসংস্থান করা যেতে পারে এখানে।

বিসিক গাইবান্ধার সহকারী জেনারেল ম্যানেজার রবিন চন্দ্র রায় বলেন, মুন্নী বেগমের কারখানাটি খতিয়ে দেখে তাকে ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | জাগো২৪.নেট

কারিগরি সহায়তায় : শাহরিয়ার হোসাইন