বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খানসামায় কোরবানির হাট কাঁপাতে আসছে ‘যুবরাজ’

মুসলিমদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব হচ্ছে কোরবানির ঈদ। এ ঈদকে সামনে রেখে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে অন্তত ১৪ মণ ওজনের শাহীওয়াল জাতের এক বিশাল গরু। এ গরুর মালিক সৌদি আরবে থাকার কারণে শখ করে গরুটির নাম দেন ‘যুবরাজ’। মালিকের আশা এবার কোরবানির পশুর হাট কাঁপাবে এ ‘যুবরাজ’। বিশাল আকৃতির এ গরুটি নিয়ে ইতোমধ্যে মাতামাতি শুরু হয়েছে। বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা গরুটি দেখতে আসছেন। করছেন দরদাম। দাম ভালো পেলে মালিক ‘যুবরাজ’কে তুলে দেবেন ক্রেতার হাতে। এ যুবরাজের মালিক হলেন-খানসামা উপজেলার খামারপাড়া ইউনিয়নের নেউলা গ্রামের খালপাড়ার আলহাজ্ব আব্দুল কুদ্দুস মাষ্টারের ছেলে সৌদি আরব প্রবাসী মো. জাকারিয়া হাবিব।
আলহাজ্ব আব্দুল কুদ্দুস মাষ্টার বলেন, আমার ছেলে জাকারিয়া বিদেশে থাকাকালিন সময়ে তার পাঠানো টাকা দিয়ে একটি গাভী ক্রয় করি। সেই গাভীর একটি বাছুর জন্ম হয়। নাম রাখা হয় ‘যুবরাজ’। একে আমরা অনেক যত্ন করে লালন-পালন করি। কোরবানির ঈদে একে বিক্রি করতে চাই। গরুর মালিক মো. জাকারিয়া হাবিব জানান, ইটের দেয়াল আর টিনের ছাউনি দেয়া ঘরে রাখেন বিশালদেহী গরুটিকে। এ বিশালদেহী গরুটির ওজন ৫৬০ কেজি। রোদ ও তাপ থাকায় গরুটিকে দিনে দুইবার করে গোসল করাতে হয়। আমরা যুবরাজকে সন্তানের মতো করে লালন-পালন করে বড় করেছি। গরুটিকে প্রতিদিন খড়, কাঁচাঘাস, খৈল, গমের ভূষি, চিটাগুড়সহ পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য খাওয়াই। অতিরিক্ত গরমে যুবরাজ যাতে অসুস্থ হয়ে না পড়ে তজ্জন্য ঘরের মধ্যে তার মাথার ওপর সর্বদা একটি বৈদ্যুতিক ফ্যান চালানো হয়। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সহায়তা ও পরামর্শক্রমে গরুটির পরিচর্যা করা হচ্ছে। বর্তমানে গো-খাদ্যের দাম বেশি হওয়ার কারণে এর দামও বেশি চাওয়া হচ্ছে। যুবরাজকে বিক্রির জন্য ১০ লাখ টাকা দাম চাওয়া হচ্ছে। তবে পছন্দমতো দাম পেলে তাকে বিক্রি করে দেব।
এ বিশালদেহী গরুটি দেখতে আসা বুলবুল ইসলাম, সফিকুল ইসলাম বলেন, কয়েকদিন ধরে মানুষের নিকট শুনে আসছি তাঁরা একটি অনেক বড় ষাঁড় লালন-পালন করছেন। তাই আমরা গরুটিকে দেখতে আসলাম। আমরা পুরো উপজেলায় এরকম বড় গরু কোথাও দেখিনি। অনেকেই গরুটি দেখতে আসছেন। ক্রেতারা ষাঁড়টির দাম কষাকষি করছেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রতন কুমার ঘোষ বলেন, এবছর উপজেলায় খামারিরা কোরবানির ঈদের জন্য অন্তত ১৬ হাজার গরু প্রস্তুত করেছেন এবং উপজেলায় ১১ হাজার গরুর চাহিদা রয়েছে। উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে অবশিষ্ট  গরু রংপুর, বগুড়া, রাজশাহী, ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করতে পারবো। সৌদি আরব প্রবাসী সৌখিন খামারি প্রাকৃতিক খাদ্য খাওয়ায়ে রোগবালাইমুক্ত বিশাল একটি ষাঁড় লালন-পালন করেছেন। আশা করছি, কোরবানির ঈদে তিনি গরুটির ভালো দাম পাবেন। ভবিষ্যতে কেউ এরকম গরু লালন-পালন করতে আগ্রহী হলে প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে শলা-পরামর্শসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

খানসামায় কোরবানির হাট কাঁপাতে আসছে ‘যুবরাজ’

প্রকাশের সময়: ০৯:৩২:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ জুন ২০২৪
মুসলিমদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব হচ্ছে কোরবানির ঈদ। এ ঈদকে সামনে রেখে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে অন্তত ১৪ মণ ওজনের শাহীওয়াল জাতের এক বিশাল গরু। এ গরুর মালিক সৌদি আরবে থাকার কারণে শখ করে গরুটির নাম দেন ‘যুবরাজ’। মালিকের আশা এবার কোরবানির পশুর হাট কাঁপাবে এ ‘যুবরাজ’। বিশাল আকৃতির এ গরুটি নিয়ে ইতোমধ্যে মাতামাতি শুরু হয়েছে। বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা গরুটি দেখতে আসছেন। করছেন দরদাম। দাম ভালো পেলে মালিক ‘যুবরাজ’কে তুলে দেবেন ক্রেতার হাতে। এ যুবরাজের মালিক হলেন-খানসামা উপজেলার খামারপাড়া ইউনিয়নের নেউলা গ্রামের খালপাড়ার আলহাজ্ব আব্দুল কুদ্দুস মাষ্টারের ছেলে সৌদি আরব প্রবাসী মো. জাকারিয়া হাবিব।
আলহাজ্ব আব্দুল কুদ্দুস মাষ্টার বলেন, আমার ছেলে জাকারিয়া বিদেশে থাকাকালিন সময়ে তার পাঠানো টাকা দিয়ে একটি গাভী ক্রয় করি। সেই গাভীর একটি বাছুর জন্ম হয়। নাম রাখা হয় ‘যুবরাজ’। একে আমরা অনেক যত্ন করে লালন-পালন করি। কোরবানির ঈদে একে বিক্রি করতে চাই। গরুর মালিক মো. জাকারিয়া হাবিব জানান, ইটের দেয়াল আর টিনের ছাউনি দেয়া ঘরে রাখেন বিশালদেহী গরুটিকে। এ বিশালদেহী গরুটির ওজন ৫৬০ কেজি। রোদ ও তাপ থাকায় গরুটিকে দিনে দুইবার করে গোসল করাতে হয়। আমরা যুবরাজকে সন্তানের মতো করে লালন-পালন করে বড় করেছি। গরুটিকে প্রতিদিন খড়, কাঁচাঘাস, খৈল, গমের ভূষি, চিটাগুড়সহ পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য খাওয়াই। অতিরিক্ত গরমে যুবরাজ যাতে অসুস্থ হয়ে না পড়ে তজ্জন্য ঘরের মধ্যে তার মাথার ওপর সর্বদা একটি বৈদ্যুতিক ফ্যান চালানো হয়। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সহায়তা ও পরামর্শক্রমে গরুটির পরিচর্যা করা হচ্ছে। বর্তমানে গো-খাদ্যের দাম বেশি হওয়ার কারণে এর দামও বেশি চাওয়া হচ্ছে। যুবরাজকে বিক্রির জন্য ১০ লাখ টাকা দাম চাওয়া হচ্ছে। তবে পছন্দমতো দাম পেলে তাকে বিক্রি করে দেব।
এ বিশালদেহী গরুটি দেখতে আসা বুলবুল ইসলাম, সফিকুল ইসলাম বলেন, কয়েকদিন ধরে মানুষের নিকট শুনে আসছি তাঁরা একটি অনেক বড় ষাঁড় লালন-পালন করছেন। তাই আমরা গরুটিকে দেখতে আসলাম। আমরা পুরো উপজেলায় এরকম বড় গরু কোথাও দেখিনি। অনেকেই গরুটি দেখতে আসছেন। ক্রেতারা ষাঁড়টির দাম কষাকষি করছেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রতন কুমার ঘোষ বলেন, এবছর উপজেলায় খামারিরা কোরবানির ঈদের জন্য অন্তত ১৬ হাজার গরু প্রস্তুত করেছেন এবং উপজেলায় ১১ হাজার গরুর চাহিদা রয়েছে। উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে অবশিষ্ট  গরু রংপুর, বগুড়া, রাজশাহী, ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করতে পারবো। সৌদি আরব প্রবাসী সৌখিন খামারি প্রাকৃতিক খাদ্য খাওয়ায়ে রোগবালাইমুক্ত বিশাল একটি ষাঁড় লালন-পালন করেছেন। আশা করছি, কোরবানির ঈদে তিনি গরুটির ভালো দাম পাবেন। ভবিষ্যতে কেউ এরকম গরু লালন-পালন করতে আগ্রহী হলে প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে শলা-পরামর্শসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে।