হত্যা মামলায় কারাগারে বন্দী থাকাবস্থায় একটি চোর চক্রের সঙ্গে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ডাঙ্গাপাড়া চৌধুরীপাড়ার ওয়াশিম হকের পরিচয় হয়। কারাগারে বসেই তাদের পরিকল্পনা হয় চেতনানাশক ঔষধ দিয়ে কোনো পরিবারের সকল সদস্যদের অজ্ঞান করে চুরি করার। এরপর জামিনে মুক্ত হয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে এসেই পরিকল্পনানুযায়ী খানসামা উপজেলায় প্রতিবেশী পরিবারের সব সদস্যদের অজ্ঞান করে নগদ ৪০ লাখ টাকা, মূল্যবান জিনিসপত্র ও মোবাইল ফোন চুরি করে চক্রটি। ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ও টাকা সংরক্ষণে জড়িত ৪ জনকে আটক করেছে থানা পুলিশ। চুরি যাওয়া টাকার অবশিষ্ট টাকা উদ্ধার ও জড়িতদের আটক করতে কাজ করছে থানা পুলিশ।
জানা গেছে, গত ৭ জুন শুক্রবার রাতে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাহারুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা উপজেলার জয়ন্তিয়াঘাট এলাকা থেকে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী উপজেলার খামারপাড়া ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া চৌধুরীপাড়ার মৃত ইছাহাক আলীর ছেলে ওয়াশিম হক (৩৮) কে আটক করে। তাঁর দেয়া তথ্যমতে থানা পুলিশের এস আই আব্দুস সামাদ, এস আই ইবনে ফরহাদ, এস আই চয়ন রায়, এস আই আমির হোসেনসহ পুলিশের সদস্যরা ভিন্ন ভিন্ন স্থান থেকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ওয়াশিম হকের স্ত্রী মোর্শেদা বেগম, তাঁর শ্যালক গোবিন্দপুর মুন্সিপাড়ার নমিরউদ্দিনের ছেলে সোহানুর ইসলাম (২২) ও শ্যালিকা বীরগঞ্জ উপজেলার খোদ্দ পলাশবাড়ীর পূর্বপাড়ার আমিনুল ইসলাম ওরফে সাদ্দামের স্ত্রী মেরিনা বেগম (২৩) কে আটক করে। ওয়াশিম হকের শ্যালিকা বীরগঞ্জ উপজেলার খোদ্দ পলাশবাড়ীর পূর্বপাড়ার মেরিনা বেগমের বাড়িতে রক্ষিত নগদ ৬ লাখ ৭৩ হাজার টাকা ও প্রয়োজনীয় কিছু কাগজপত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এ চুরির ঘটনাটি গত ৪ জুন মঙ্গলবার সকাল থেকে বুধবার দিবাগত রাতে উপজেলার জমিদারনগর এলাকায় আব্দুর রাজ্জাকের বাড়িতে ঘটেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। এ অভিনব চুরির বিষয়টি গত ৫ জুন প্রচার হলে উপজেলা জুড়ে ব্যাপক আলোড়ন শুরু হলে নড়েচড়ে বসে থানা পুলিশ। আরো জানা গেছে, ভুক্তভোগী আব্দুর রাজ্জাক ও মূল পরিকল্পনাকারী ওয়াশিম হক একই পাড়ার বাসিন্দা। তাঁরা সম্পর্কে মামা-ভাগ্নে।
জানা গেছে, হত্যা মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে ওয়াশিম হক টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে বন্দী ছিলেন। এ সময়ে চোর চক্রের সঙ্গে তার সখ্যতা গড়ে ওঠে। গত ৩ মাস আগে জামিনে বেরিয়ে এসে কারাগারে পরিচয় হওয়া চোর চক্রের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে চুরির পরিকল্পনা করেন তারা। পরিকল্পনানুযায়ী তারা গত ৪ জুন আব্দুর রাজ্জাকের বাড়ির রান্নাঘরে লবণ ও হলুদের সঙ্গে চেতনানাশক ঔষধ মিশিয়ে ওই পরিবারের সদস্যদের অজ্ঞান করে। প্রায় ২৪ ঘন্টা সময়ে এ চুরি সম্পন্ন করেন স্বামী-স্ত্রী ও কারাগারে পরিচয় হওয়া চোর চক্রের সদস্যরা। চুরিতে নেতৃত্ব দেন ওয়াশিম হক (৩৮)। তাঁকে সহায়তা করেন স্ত্রী মোর্শেদা বেগম।
মূল পরিকল্পনাকারী ওয়াশিম হক প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে থানা পুলিশের নিকট স্বীকার করে বলেন, তাঁদের ধারণা ছিল চুরির সময় ২-৩ লাখ টাকা পাওয়া যাবে। কিন্তু এত টাকার বান্ডিল দেখে তাঁরাও অবাক হয়ে যায়। পরিকল্পনানুযায়ী শয়নকক্ষের ড্রয়ার থেকে নগদ অর্থ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চুরি করে ভাগবাটোয়ারা করে নেন তারা। রান্নাঘরে থাকা লবণ ও হলুদের সঙ্গে চেতনানাশক ঔষধ মিশিয়ে তাঁদের অচেতন করা হয়।
ভুক্তভোগী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমার ব্যবসা ও কৃষিপণ্য বিক্রির অন্তত ৪০ লাখ টাকা চুরি করে আমাকে পথে বসার জন্যই এ চুরি করেছে। সবকিছু হারিয়ে আমি এখন নিঃস্ব। তিনি আরও বলেন, এ চুরির ঘটনায় জড়িতদের আটক করায় থানা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও পুরো টাকা উদ্ধারের দাবি জানান।
খানসামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাহারুল ইসলাম জাগো২৪.নেট-কে বলেন, এ চুরি ঘটনার পর থেকে থানা পুলিশ রহস্য উৎঘাটনে কাজ করছে। বিভিন্ন তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে নগদ ৬ লাখ ৭৪ হাজার টাকা উদ্ধার, মূল পরিকল্পনাকারী ওয়াশিম হকসহ ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। গত ৮ জুন দুপুরে তাঁদেরকে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। রান্নার উপকরণ লবণ ও হলুদ অরক্ষিত না রাখতে সবার সচেতনতা জরুরি।
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর)) 
















