মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খানসামায় টিসিবির পণ্য না পেয়ে খালি হাতে ফিরলেন ৭ হাজার মানুষ

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় দুইটি ইউনিয়নে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্য ক্রয় করতে না পেরে ফিরে গেছেন অন্তত ৭ হাজার কার্ডধারী। উপজেলার আঙ্গারপাড়া ইউনিয়নের ৩ হাজার ৪৩০ জন এবং খামারপাড়া ইউনিয়নের ৩ হাজার ২৭৫জন কার্ডধারী টিসিবির পণ্য না পেয়ে খালি হাতে ফেরত যান। ঈদের পূর্বে পণ্য না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন তাঁরা।

জানা গেছে, টিসিবি থেকে ফ্যামিলি কার্ড অনুযায়ী প্রতিমাসে ডিলারের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে পণ্য সরবরাহ করা হয়। কিন্তু গত শুক্রবার ও শনিবার উপজেলার আঙ্গারপাড়া ও খামারপাড়া ইউনিয়নে টিসিবির পণ্য বিক্রির কথা থাকলেও কার্ডধারীরা গিয়ে খালি হাতে ফিরেছেন। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সরকার ভর্তুকি মূল্যে এ পণ্য সরবরাহ করে। তবে পণ্য সরবরাহকারী মনিরা ট্রেডার্স ও মুহিত ট্রেডার্স এই দুই প্রতিষ্ঠানের দাবি, পণ্যের সংকট থাকায় নির্ধারিত সময়ে তা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। আরও জানা গেছে, পূর্ব ঘোষণানুযায়ী খামারপাড়া ইউনিয়নে ১৪ ও ১৫ জুন শুক্রবার ও শনিবার এবং আঙ্গারপাড়া ইউনিয়নে ১৫ ও ১৬ জুন শনিবার ও রবিবার ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে কার্ডধারীদের পাঁচ কেজি চাল, দুই লিটার তেল ও দুই কেজি মসুর ডাল ৪৭০টাকার প্রতি প্যাকেজ দেয়ার কথা ছিল। উপজেলার বোর্ডেরহাট এলাকার রবিউল ইসলাম বলেন, চেয়ারম্যান-মেম্বাররা বলেছিল আজ টিসিবির পণ্য দেবে, সেই অনুযায়ী নিতে আসলাম। কিন্তু এসে শুনি মাল নাকি আজকে দেবে না। ঈদের আগে খবর দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে এসে টিসিবির পণ্য না পেয়ে খালি হাতে ফেরত যাচ্ছেন কার্ডধারীরা। এতে নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
এ ব্যাপারে খামারপাড়া ইউনিয়নে টিসিবির পণ্য সরবরাহকারী মনিরা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী বাইজিত বলেন, ঈদের আগে টিসিবির পণ্য বিতরণের জন্য উত্তোলন বাবদ টাকা ডিও করেছি। কিন্তু গত সপ্তাহে পণ্য বিতরণ করতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান ভিজিএফের চাল বিতরণে ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে লোকজনের সমাগম থাকায় পরে বিতরণের কথা বলেন। এতে পণ্য উত্তোলনে বিলম্ব হয়। পরে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার পণ্য উত্তোলন করতে গিয়ে সয়াবিন তেল সংকটের কারণে পণ্য উত্তোলন না করায় ঈদের আগে আর বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
এ ব্যাপারে খামারপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আবুবকর সিদ্দিক চৌধুরী বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ১৪ ও ১৫ জুন টিসিবির পণ্য বিতরণের কথা প্রচার করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী কার্ডধারীরা পণ্য সংগ্রহ করতে আসছে। কিন্তু পণ্য না আনায় তাদের হাতে টিসিবির পণ্য তুলে দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। গত ঈদুল ফিতরেও এমনটি হয়েছে। টিসিবির পণ্য নিতে এসে মানুষ ফেরত যাওয়ায় চেয়ারম্যানের প্রতি মানুষ ক্ষুদ্ধ হচ্ছেন।

টিসিবি দিনাজপুর ক্যাম্প অফিসের সহকারী পরিচালক (অফিস প্রধান) মো. মাহমুদুল হাসানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া মিলেনি।

খানসামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. তাজ উদ্দিন বলেন, টিসিবির কার্ডধারীদের মধ্যে পণ্য বিতরণে উপজেলা প্রশাসনের কোনো গ্যাপ ছিল না। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের আরও অধিক তৎপরতা থাকলে এমন ঘটনা এড়ানো যেত। পণ্য না পেয়ে ফেরত যাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা।

খানসামায় টিসিবির পণ্য না পেয়ে খালি হাতে ফিরলেন ৭ হাজার মানুষ

প্রকাশের সময়: ০৬:১১:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় দুইটি ইউনিয়নে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্য ক্রয় করতে না পেরে ফিরে গেছেন অন্তত ৭ হাজার কার্ডধারী। উপজেলার আঙ্গারপাড়া ইউনিয়নের ৩ হাজার ৪৩০ জন এবং খামারপাড়া ইউনিয়নের ৩ হাজার ২৭৫জন কার্ডধারী টিসিবির পণ্য না পেয়ে খালি হাতে ফেরত যান। ঈদের পূর্বে পণ্য না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন তাঁরা।

জানা গেছে, টিসিবি থেকে ফ্যামিলি কার্ড অনুযায়ী প্রতিমাসে ডিলারের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে পণ্য সরবরাহ করা হয়। কিন্তু গত শুক্রবার ও শনিবার উপজেলার আঙ্গারপাড়া ও খামারপাড়া ইউনিয়নে টিসিবির পণ্য বিক্রির কথা থাকলেও কার্ডধারীরা গিয়ে খালি হাতে ফিরেছেন। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সরকার ভর্তুকি মূল্যে এ পণ্য সরবরাহ করে। তবে পণ্য সরবরাহকারী মনিরা ট্রেডার্স ও মুহিত ট্রেডার্স এই দুই প্রতিষ্ঠানের দাবি, পণ্যের সংকট থাকায় নির্ধারিত সময়ে তা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। আরও জানা গেছে, পূর্ব ঘোষণানুযায়ী খামারপাড়া ইউনিয়নে ১৪ ও ১৫ জুন শুক্রবার ও শনিবার এবং আঙ্গারপাড়া ইউনিয়নে ১৫ ও ১৬ জুন শনিবার ও রবিবার ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে কার্ডধারীদের পাঁচ কেজি চাল, দুই লিটার তেল ও দুই কেজি মসুর ডাল ৪৭০টাকার প্রতি প্যাকেজ দেয়ার কথা ছিল। উপজেলার বোর্ডেরহাট এলাকার রবিউল ইসলাম বলেন, চেয়ারম্যান-মেম্বাররা বলেছিল আজ টিসিবির পণ্য দেবে, সেই অনুযায়ী নিতে আসলাম। কিন্তু এসে শুনি মাল নাকি আজকে দেবে না। ঈদের আগে খবর দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে এসে টিসিবির পণ্য না পেয়ে খালি হাতে ফেরত যাচ্ছেন কার্ডধারীরা। এতে নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
এ ব্যাপারে খামারপাড়া ইউনিয়নে টিসিবির পণ্য সরবরাহকারী মনিরা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী বাইজিত বলেন, ঈদের আগে টিসিবির পণ্য বিতরণের জন্য উত্তোলন বাবদ টাকা ডিও করেছি। কিন্তু গত সপ্তাহে পণ্য বিতরণ করতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান ভিজিএফের চাল বিতরণে ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে লোকজনের সমাগম থাকায় পরে বিতরণের কথা বলেন। এতে পণ্য উত্তোলনে বিলম্ব হয়। পরে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার পণ্য উত্তোলন করতে গিয়ে সয়াবিন তেল সংকটের কারণে পণ্য উত্তোলন না করায় ঈদের আগে আর বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
এ ব্যাপারে খামারপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আবুবকর সিদ্দিক চৌধুরী বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ১৪ ও ১৫ জুন টিসিবির পণ্য বিতরণের কথা প্রচার করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী কার্ডধারীরা পণ্য সংগ্রহ করতে আসছে। কিন্তু পণ্য না আনায় তাদের হাতে টিসিবির পণ্য তুলে দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। গত ঈদুল ফিতরেও এমনটি হয়েছে। টিসিবির পণ্য নিতে এসে মানুষ ফেরত যাওয়ায় চেয়ারম্যানের প্রতি মানুষ ক্ষুদ্ধ হচ্ছেন।

টিসিবি দিনাজপুর ক্যাম্প অফিসের সহকারী পরিচালক (অফিস প্রধান) মো. মাহমুদুল হাসানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া মিলেনি।

খানসামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. তাজ উদ্দিন বলেন, টিসিবির কার্ডধারীদের মধ্যে পণ্য বিতরণে উপজেলা প্রশাসনের কোনো গ্যাপ ছিল না। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের আরও অধিক তৎপরতা থাকলে এমন ঘটনা এড়ানো যেত। পণ্য না পেয়ে ফেরত যাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা।