ক্ষমতা থেকে শেখ হাসিনা পদত্যাগ এবং দেশত্যাগের পর গাইবান্ধা জেলাজুড়ে উজ্জীবিত বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা। তারা দল ও দলীয় কার্যালয় গোছানোর কার্যক্রম করছেন। এদিকে দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়ে বিভিন্ন স্থাপনাসহ অন্যান্যস্থানে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাট শুরু করছে। এমন অদ্ভুতকাণ্ডে স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের বেশ কিছু নেতাকর্মী ভয়ে আত্মগোপনে আছেন এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে একাধিক সুত্রে জানা গেছে।
সম্প্রতি গাইবান্ধা জেলা-উপজেলার বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে- হামলা, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের দৃশ্য। ছাত্র-জনতার আন্দোলন সফলের পর এই আন্দোলনকারীদের প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টায় একশ্রেণির লোকজন দুর্বৃত্তায়ন কাণ্ডলিলায় মেতে ওঠেছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগিদের।
জানা যায়, দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে গত ৫ আগস্ট দুপুরে শেখ হাসিনা সরকার পদত্যাগ করেন। এ খবরের পর পরেই গাইবান্ধা জেলাজুড়ে আনন্দ মিছিল বের করে হাজারো ছাত্র-জনতা। একই সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকর্মী আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ করেন। এর মধ্যেই জেলা ও উপজেলা শহরের কতিপয় আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের বাসা-বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা। ফলে আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরণের ভীতি সঞ্চার হওয়ায় তারা আত্মগোপনে চলে গেছেন। এছাড়া বিভিন্ন গ্রামাঞ্চল ও হাট-বাজারেও মারামারি-হানাহানি শুরু করে দুর্বৃত্তরা। দিনদিন এমন অপ্রীতিকর ঘটনায় সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতা ভুগছেন। তবে এই ধরণের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য এবং কোথাও যেনো কোন প্রকার নৈরাজ্য না হয় সে ব্যাপারে বিএনপি-জামায়াতসহ অন্যান্য রাজনৈতিক নেতারা সতর্কবার্তা জানাচ্ছেন।
এদিকে, দেশের চলমান পরিস্থিতিতে পুলিশ বাহিনীর কর্মবিরতির কারণে জন নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে । গত তিন দিনের বেশি সময় ধরে গাইবান্ধার সাত থানার প্রধান ফটক বন্ধ রেখেছে পুলিশ। এতে বেড়েছে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার প্রবণতা।
গাইবান্ধা জেলা কৃষকলীগের নেতা ও সাংবাদিক দীপক কুমার পাল- ফেসবুকে এক ক্ষুদে বার্তায় বলেন, গাইবান্ধা পুরাতন বাজারে অবস্থিত আমার দোকান ও দৈনিক জনসংকেত পত্রিকা অফিসে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দিয়েছে।
গাইবান্ধা সদর উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলী আকবর মিঞা বলেন, গত ৫ আগস্ট বিকেলে অর্ধশতাধিক দুর্বৃত্ত আমার বাড়িতে হামলা ও লুটপাট চালিয়েছে । আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মইনুল হাসান সাদিক বলেন, আমরা প্রতিশোধ পরায়ণ না হয়ে সাম্যের রাজনীতি চাই । দমনপীড়ন বিএনপির আদর্শ পরিপন্থী। কোন সংঘাত কাম্য নয়। আমরা দেশের সকল নাগরিকদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে সুন্দর দেশ তৈরি করতে চাই।
তোফায়েল হোসেন জাকির, জাগো২৪.নেট 















