শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রংপুর বিভাগের শ্রেষ্ঠ সুব্রত খাজাঞ্চী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

মো. রফিকুল ইসলাম: রংপুর বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার সুব্রত খাজাঞ্চী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রাকৃতিক-স্বপ্নিল ও শিশুবান্ধব পরিবেশে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে গড়ে ওঠা বিদ্যালয়টি শিশুদের মধ্যে শিক্ষা বিস্তারে অবদান রেখে চলেছে। বিদ্যালয়টি ২০২৪ সালে রংপুর বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি লাভ করেছে। ২০২৩ সালেও বিদ্যালয়টি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি পেয়েছিল। বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষা কর্মকর্তাসহ স্থানীয়রা প্রত্যাশা করেন একদিন এ বিদ্যালয়টি দেশের শ্রেষ্ঠ প্রাথমিক বিদ্যালয় হওয়ার গৌরব অর্জন করবে। এ বিদ্যালয়টি দিনাজপুুরের চিরিরবন্দর উপজেলার ১১নং তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের কুশলপুর গ্রামে অবস্থিত।

সরজমিন দেখা গেছে, বিদ্যালয়ে প্রবেশ পথে দু’ধারে ফুলগাছ। বিদ্যালয়ের আঙিনায় বিভিন্ন খেলার সরঞ্জাম, ছাদে নানা ফুল-ফল গাছের সমাহার। বিদ্যালয়ে সরকারি ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় পরিবর্তন করা হয়েছে শিক্ষার পরিবেশ। সিসিটিভি ক্যামেরায় নিয়ন্ত্রিত বিদ্যালয়টি। শিশুদের শিক্ষা ও চিত্তাকর্ষণের জন্য রয়েছে ঢেঁকিকল, দোলনা, সরাৎ, ফুলবাগান, সবজি বাগানসহ বিভিন্ন চিত্ত বিনোদনের সামগ্রী। এছাড়াও ভাষা শহীদদের স্মরণে শহীদ মিনার, মানচিত্র, সততা স্টোর, সুসজ্জিত শ্রেণিকক্ষ রয়েছে। মনোরম পরিবেশে শিশুদের লেখাপড়াসহ খেলাধুলার সুযোগ-সুবিধা পেয়ে বিদ্যালয়মুখী হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতা, লেখাপড়া, শিক্ষাদান ও উপস্থিতিতে দৃষ্টান্ত রেখেছে বিদ্যালয়টি। জাতীয় সঙ্গীত ও শপথ বাক্য পঠিত হওয়ার পর কোনো শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকলে তাৎক্ষণিক অভিভাবকদের নিকট শিক্ষকের ফোন চলে যায়। আর এসব কিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জগদীশ চন্দ্র রায়।

খাদিজা আক্তার, মিরাজ হোসেনসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, এ বিদ্যালয়ে অনেক ভালো লেখাপড়া হয়। লেখাপড়ার পাশাপাশি অনেক খেলনা সামগ্রী রয়েছে। শিক্ষকরা আমাদেরকে ডেকে আদর করে লেখাপড়া করান। বিদ্যালয়ের মাঠে বাগান রয়েছে। যা দেখতে পার্কের মতো। তাই আমরা প্রতিনিয়ত বিদ্যালয়ে আসি।

অভিভাবক মো. নুর ইসলাম ও কল্পনা রানী রায় জানান, আমাদের ছেলেমেয়েরা এ বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। আমাদের বাড়ির আশপাশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। সেগুলোতে ছাত্রছাত্রী একদম কম। লেখাপড়াও ঠিকমতো হয় না। তাই একটু দূর হলেও এ বিদ্যালয়ে মেয়েকে ভর্তি করে দিয়েছি। এখানকার পরিবেশ অত্যন্ত সুন্দর, মনোরম ও বিনোদনের পাশাপাশি লেখাপড়াও ভালো হয়। শিক্ষকরা বাচ্চাদেরকে পরম আদর-যতœ আর ভালোবাসা দিয়ে পাঠদান করে থাকেন। এ বিদ্যালয়ে অনেক দূর-দূরান্ত থেকে বাচ্চারা লেখাপড়া করতে আসে। আমাদের ছেরেমেয়েদেরকে বিদ্যালয়ে আসার কথা বলতে হয় না।

কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি জানান, আমাদের চিরিরবন্দর উপজেলাকে শিক্ষানগরী বলা হয়। এখানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি শতাধিক নামকরা প্রাইভেট কিন্ডারগার্টেন স্কুল রয়েছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অনেক বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রী থাকলেও অনেক বিদ্যালয়ে তেমন ছাত্রছাত্রী নেই বললেই চলে। সেখানে একেবারেই ব্যতিক্রম হচ্ছে সুব্রত খাজাঞ্চী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রাইভেট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের মতো এ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়েই থাকেন। সহকারি শিক্ষকরাও বিদ্যালয় ফাঁকি দেন না। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা খেলার ছলে ও গানের সঙ্গে বাচ্চাদের পাঠদান করে থাকেন। এ গ্রামে পূর্বে কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিল না। এ গ্রামের সুব্রত খাজাঞ্চী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিই এখন বিভাগ সেরা বিদ্যালয়। শুধু এ গ্রামের না অন্য গ্রামের শিক্ষার্থীরাও এ বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে। বিদ্যালয়টি এ গ্রামসহ উপজেলার মুখ উজ্জ্বল করেছে।

সহকারী শিক্ষিকা শাহিনা আক্তার জানান, বিদ্যালয়টি বিভাগ সেরা হওয়ার পিছনে আমাদের যেমন অবদান রয়েছে, তেমনি এখানকার শিক্ষার্থী-অভিভাবকদেরও যথেষ্ট অবদান রয়েছে। এ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি শতভাগ। হঠাৎ কোনো কারণে কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ হলে বা আতœীয়ের বাড়িতে গেলে অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তা বলে যান। কোনো কারণে কোনো শিক্ষার্থী ক্লাসে না আসলে আমরা হোম ভিজিট করে তাদের বিষয়ে অবগত হতে পারি। বিদ্যালয়ের পরিবেশ, শিক্ষার উপকরণ, প্রধান শিক্ষকের বিদ্যালয় পরিচালনার কৌশল-দক্ষতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এজন্য শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে নিজেরাই আগ্রহী।

প্রধান শিক্ষক জগদীশ চন্দ্র রায় জানান, ২০১১ সালে সুব্রত খাজাঞ্চী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। ২০১৪ সালে মাত্র ৩৩ জন শিক্ষার্থী নিয়ে বিদ্যালয়টিতে পাঠদান শুরু হয়। প্রথম যে ৩৩ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিল তারা উপবৃত্তি না পাওয়ার কারণে উপবৃত্তির জন্য অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। এছাড়াও বর্তমানে বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের প্রতি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আগ্রহ অনেক বেশি। তাই কীভাবে এ বিদ্যালয়ের প্রতি শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের আকৃষ্ট করা যায় তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করি। বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার দিকে মনোযোগ বৃদ্ধি করি। পাশাপাশি চিন্তা করি, প্রাইভেট স্কুলে যা আছে তার থেকে সরকারি স্কুল ভিন্ন থাকবে। তা বাস্তবায়ন ও রুপদানের জন্য স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা ও সহযোগিতায় কাজ শুরু হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। বিদ্যালয়টি বর্তমানে উপজেলা, জেলা ও রংপুর বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ট প্রাথমিক বিদ্যালয়। আশাপোষণ করছি, এ বিদ্যালয়টি দেশসেরা হবে।

উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, জাতীয় শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতায় বিভাগীয় পর্যায়ে সুব্রত খাজাঞ্চী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রথম হয়েছে। এ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কর্মপরিকল্পনা, কর্মদক্ষতা এবং বিদ্যালয়ের প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে তাঁর ছোঁয়া রয়েছে। প্রতিটি শ্রেণিতে প্রধান শিক্ষকের ক্লাস রয়েছে। শিক্ষার্থীদের শতভাগ অংশগ্রহণে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা দায়িত্ব পালন করে থাকেন। ক্লাসরুম থেকে শুরু করে বিদ্যালয়ের মাঠে খেলাধুলার সামগ্রী, বিভিন্ন ফুল ও ফলের গাছের সমাহার। রয়েছে বিদ্যালয়ের ভবনে ছাদ বাগান। এখানকার শিক্ষার্থীদের শেখানোর যে কলাকৌশল, তা যে কাউকে মুগ্ধ করবে। বিদ্যালয়টি জাতীয় পর্যায়ে প্রথম হওয়ার দাবি রাখে।

জনপ্রিয়

রংপুর বিভাগের শ্রেষ্ঠ সুব্রত খাজাঞ্চী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

প্রকাশের সময়: ০৫:৩৯:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৪

মো. রফিকুল ইসলাম: রংপুর বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার সুব্রত খাজাঞ্চী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রাকৃতিক-স্বপ্নিল ও শিশুবান্ধব পরিবেশে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে গড়ে ওঠা বিদ্যালয়টি শিশুদের মধ্যে শিক্ষা বিস্তারে অবদান রেখে চলেছে। বিদ্যালয়টি ২০২৪ সালে রংপুর বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ঠ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি লাভ করেছে। ২০২৩ সালেও বিদ্যালয়টি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি পেয়েছিল। বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষা কর্মকর্তাসহ স্থানীয়রা প্রত্যাশা করেন একদিন এ বিদ্যালয়টি দেশের শ্রেষ্ঠ প্রাথমিক বিদ্যালয় হওয়ার গৌরব অর্জন করবে। এ বিদ্যালয়টি দিনাজপুুরের চিরিরবন্দর উপজেলার ১১নং তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের কুশলপুর গ্রামে অবস্থিত।

সরজমিন দেখা গেছে, বিদ্যালয়ে প্রবেশ পথে দু’ধারে ফুলগাছ। বিদ্যালয়ের আঙিনায় বিভিন্ন খেলার সরঞ্জাম, ছাদে নানা ফুল-ফল গাছের সমাহার। বিদ্যালয়ে সরকারি ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় পরিবর্তন করা হয়েছে শিক্ষার পরিবেশ। সিসিটিভি ক্যামেরায় নিয়ন্ত্রিত বিদ্যালয়টি। শিশুদের শিক্ষা ও চিত্তাকর্ষণের জন্য রয়েছে ঢেঁকিকল, দোলনা, সরাৎ, ফুলবাগান, সবজি বাগানসহ বিভিন্ন চিত্ত বিনোদনের সামগ্রী। এছাড়াও ভাষা শহীদদের স্মরণে শহীদ মিনার, মানচিত্র, সততা স্টোর, সুসজ্জিত শ্রেণিকক্ষ রয়েছে। মনোরম পরিবেশে শিশুদের লেখাপড়াসহ খেলাধুলার সুযোগ-সুবিধা পেয়ে বিদ্যালয়মুখী হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতা, লেখাপড়া, শিক্ষাদান ও উপস্থিতিতে দৃষ্টান্ত রেখেছে বিদ্যালয়টি। জাতীয় সঙ্গীত ও শপথ বাক্য পঠিত হওয়ার পর কোনো শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকলে তাৎক্ষণিক অভিভাবকদের নিকট শিক্ষকের ফোন চলে যায়। আর এসব কিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জগদীশ চন্দ্র রায়।

খাদিজা আক্তার, মিরাজ হোসেনসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, এ বিদ্যালয়ে অনেক ভালো লেখাপড়া হয়। লেখাপড়ার পাশাপাশি অনেক খেলনা সামগ্রী রয়েছে। শিক্ষকরা আমাদেরকে ডেকে আদর করে লেখাপড়া করান। বিদ্যালয়ের মাঠে বাগান রয়েছে। যা দেখতে পার্কের মতো। তাই আমরা প্রতিনিয়ত বিদ্যালয়ে আসি।

অভিভাবক মো. নুর ইসলাম ও কল্পনা রানী রায় জানান, আমাদের ছেলেমেয়েরা এ বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। আমাদের বাড়ির আশপাশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। সেগুলোতে ছাত্রছাত্রী একদম কম। লেখাপড়াও ঠিকমতো হয় না। তাই একটু দূর হলেও এ বিদ্যালয়ে মেয়েকে ভর্তি করে দিয়েছি। এখানকার পরিবেশ অত্যন্ত সুন্দর, মনোরম ও বিনোদনের পাশাপাশি লেখাপড়াও ভালো হয়। শিক্ষকরা বাচ্চাদেরকে পরম আদর-যতœ আর ভালোবাসা দিয়ে পাঠদান করে থাকেন। এ বিদ্যালয়ে অনেক দূর-দূরান্ত থেকে বাচ্চারা লেখাপড়া করতে আসে। আমাদের ছেরেমেয়েদেরকে বিদ্যালয়ে আসার কথা বলতে হয় না।

কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি জানান, আমাদের চিরিরবন্দর উপজেলাকে শিক্ষানগরী বলা হয়। এখানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি শতাধিক নামকরা প্রাইভেট কিন্ডারগার্টেন স্কুল রয়েছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অনেক বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রী থাকলেও অনেক বিদ্যালয়ে তেমন ছাত্রছাত্রী নেই বললেই চলে। সেখানে একেবারেই ব্যতিক্রম হচ্ছে সুব্রত খাজাঞ্চী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রাইভেট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের মতো এ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়েই থাকেন। সহকারি শিক্ষকরাও বিদ্যালয় ফাঁকি দেন না। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা খেলার ছলে ও গানের সঙ্গে বাচ্চাদের পাঠদান করে থাকেন। এ গ্রামে পূর্বে কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিল না। এ গ্রামের সুব্রত খাজাঞ্চী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিই এখন বিভাগ সেরা বিদ্যালয়। শুধু এ গ্রামের না অন্য গ্রামের শিক্ষার্থীরাও এ বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে। বিদ্যালয়টি এ গ্রামসহ উপজেলার মুখ উজ্জ্বল করেছে।

সহকারী শিক্ষিকা শাহিনা আক্তার জানান, বিদ্যালয়টি বিভাগ সেরা হওয়ার পিছনে আমাদের যেমন অবদান রয়েছে, তেমনি এখানকার শিক্ষার্থী-অভিভাবকদেরও যথেষ্ট অবদান রয়েছে। এ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি শতভাগ। হঠাৎ কোনো কারণে কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ হলে বা আতœীয়ের বাড়িতে গেলে অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তা বলে যান। কোনো কারণে কোনো শিক্ষার্থী ক্লাসে না আসলে আমরা হোম ভিজিট করে তাদের বিষয়ে অবগত হতে পারি। বিদ্যালয়ের পরিবেশ, শিক্ষার উপকরণ, প্রধান শিক্ষকের বিদ্যালয় পরিচালনার কৌশল-দক্ষতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এজন্য শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে নিজেরাই আগ্রহী।

প্রধান শিক্ষক জগদীশ চন্দ্র রায় জানান, ২০১১ সালে সুব্রত খাজাঞ্চী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। ২০১৪ সালে মাত্র ৩৩ জন শিক্ষার্থী নিয়ে বিদ্যালয়টিতে পাঠদান শুরু হয়। প্রথম যে ৩৩ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিল তারা উপবৃত্তি না পাওয়ার কারণে উপবৃত্তির জন্য অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। এছাড়াও বর্তমানে বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের প্রতি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আগ্রহ অনেক বেশি। তাই কীভাবে এ বিদ্যালয়ের প্রতি শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের আকৃষ্ট করা যায় তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করি। বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার দিকে মনোযোগ বৃদ্ধি করি। পাশাপাশি চিন্তা করি, প্রাইভেট স্কুলে যা আছে তার থেকে সরকারি স্কুল ভিন্ন থাকবে। তা বাস্তবায়ন ও রুপদানের জন্য স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা ও সহযোগিতায় কাজ শুরু হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। বিদ্যালয়টি বর্তমানে উপজেলা, জেলা ও রংপুর বিভাগের মধ্যে শ্রেষ্ট প্রাথমিক বিদ্যালয়। আশাপোষণ করছি, এ বিদ্যালয়টি দেশসেরা হবে।

উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, জাতীয় শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতায় বিভাগীয় পর্যায়ে সুব্রত খাজাঞ্চী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রথম হয়েছে। এ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কর্মপরিকল্পনা, কর্মদক্ষতা এবং বিদ্যালয়ের প্রতিটি কর্মক্ষেত্রে তাঁর ছোঁয়া রয়েছে। প্রতিটি শ্রেণিতে প্রধান শিক্ষকের ক্লাস রয়েছে। শিক্ষার্থীদের শতভাগ অংশগ্রহণে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা দায়িত্ব পালন করে থাকেন। ক্লাসরুম থেকে শুরু করে বিদ্যালয়ের মাঠে খেলাধুলার সামগ্রী, বিভিন্ন ফুল ও ফলের গাছের সমাহার। রয়েছে বিদ্যালয়ের ভবনে ছাদ বাগান। এখানকার শিক্ষার্থীদের শেখানোর যে কলাকৌশল, তা যে কাউকে মুগ্ধ করবে। বিদ্যালয়টি জাতীয় পর্যায়ে প্রথম হওয়ার দাবি রাখে।