তোফায়েল হোসেন জাকির: উত্তরের কৃষি ফসল নির্ভশীল জেলা গাইবান্ধা। এখানে অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি উঁচু ভূমিতে আলু উৎপাদন করেই সংসার চালান অধিকাংশ কৃষক। গত বছরে দাম ভালো থাকায় এ বছর বেশি পরিমাণ জমিতে নানান জাতের আলু আবাদ হয়েছে। ফলনও হয়েছে বাম্পার। তবে বাজার দাম একবারই কম। আর সংরক্ষণ করতেও পারছে না কোল্ড স্টোরে। ফলে আলু যেন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রান্তিক কৃষকের।
সম্প্রতি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর, পলাশবাড়ী ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন মাঠে গিয়ে দেখা গেছে- আলু আবাদের দৃশ্য। সেখানে কেউ কেউ তুলছেন আলু। আর কেউবা তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে কৃষকের চোখেমুখে হতাশার ছাপ। বাজার দামের ধস নামায় এবার লাভ থাকছেন তাদের। এমনি অভিযোগ একাধিক কৃষকের।
গাইবান্ধা কৃষি বিভাগ সুতে জানা গেছে, চলতি রবি মৌসুমে জেলায় ১১ হাজার ১৫২ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্র নেওয়া হয়। ইতোমধ্যে তা ছেড়ে ১৪ হাজার ৪৯৭ হেক্টর জমিতে উফশী ও স্থানীয় জাতের আলু আবাদ হয়েছে। এ থেকে ৩ লাখ ৪১ হাজার ৫০১ মেট্রিক টন আলু উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। আর জেলায় বার্ষিক চাহিদা রয়েছে ৯৩ হাজার ৯৭৬ মেট্রিক টন। উদ্বৃত্ত আলু স্থানীয় ৬টি কোল্ড স্টোরে মজুদ রাখতে পারবেন কৃষকরা।
এদিকে আলুচাষিরা বলছেন, গত বছরে আলু ফসল নিয়ে বেশ লাভবান হয়েছিলেন। কিন্ত চলতি মৌসুমের শুরুতে অতিরিক্ত দামে বীজ ক্রয় করেছেন। একই অবস্থা সার-কিটনাশকেও। তবুও ভালো দামের আশায় ধারদেনা করে আলুর আবাদ করেছেন। এতে বাম্পার ফললে হাসি ফুটছিলো তাদের মুখে। কিন্তু সেই হাসি ম্লান হয়েছে। একদিকে বাজারে নেই কাঙ্খিত দাম। অপরদিকে কোল্ড স্টোরেও মজুদ করতে পারছেন তারা। কারণ- একশ্রেণির সুবিধাভোগি ব্যবসায়ী চক্র আগেভাগে শ্লিপ নিয়ে বুকিং করেছে কোল্ড স্টোর। বিদ্যামান পরিস্থিতে কম দামে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে আলু। এতে করে উৎপাদন খরচ তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন এই কৃষকরা।
ধাপেরহাটস্থ আরভি কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপক হামিদুল ইসলাম বলেন, এখানে ১ লাখ ২৫ হাজার বস্তা আলু সংরক্ষণের ধারণ ক্ষমতা রয়েছে। ইতোধ্যে ১ লাখ হাজার বস্তা ঢুকেছে।
গোবিন্দগঞ্জের হিমাদ্রী কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের ম্যানেজার মোজাম্মেল হক বলেন, ইতোমধ্যে বুকিং স্লিপ শেষ হয়ে গেছে। আলু মজুদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে। এখন আর কৃষকের আলু নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
গাইবান্ধা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক খোরশেদ আলম জানান- গত বছরের তুলনায় এ বছর আলু উৎপাদন বেড়েছে। এই উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে মার্কেটে যোগান বেশি হওয়া দাম কমে গেছে।
তোফায়েল হোসেন জাকির, জাগো২৪.নেট 
























