মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কোনো ভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না চুরি 

কোনোভাবেই চুরি ঠেকানো যাচ্ছে না গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের বলদি পাড়া গ্রাম ও তাঁর আশ-পাশ।  রমযান মাসেই গরুসহ ছোট-বড় মোট ২০টির অধিক চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে জানান এলাকাবাসী।

গতকাল শনিবারও গরুসহ ২ চোরকে পুলিশে সোপর্দ করেছেন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার। চুরির হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে চান অতিষ্ঠ এলাকাবাসী।

পুলিশে সোপর্দ করা ২ গরুচোর হলেন বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ হাতিবান্ধা গ্রামের মো. ফয়জার রহমানের ছেলে মো. বিপুল মিয়া (২০) ও একই ইউনিয়নের বলদি পাড়া গ্রামের মৃত আবেদ আলীর ছেলে মো. আনারুল ইসলাম (২২)। গরুচোর মো. আনারুল ইসলামের বাড়ি থেকে গরু উদ্ধার করা হয়।

সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, বলদি পাড়া গ্রামটি সীমান্ত এলাকা ঘেঁষে। এক পার্শ্বে রংপুর জেলার পীরগাছা উপজেলার অংশ। এবং আরেক পাশে মিঠাপুকুর উপজেলার অংশ। লেগে থাকা ৩ গ্রামের ১২ থেকে ১৫ জন এ চুরি চক্রের সাথে জড়িত। অপরাধ সংগঠিত হওয়ার পরে পুলিশ আসলেই তাঁরা পার্শবর্তী উপজেলায় আশ্রয় নেন। হয়তোবা সে কারণেই কাউকে ধরতে পারেন না পুলিশ। আর এ কারণে প্রতিনিয়ত চুরির ঘটনা ঘটেছে এইটুকু এলাকায়। প্রতিনিয়ত থাকতে হচ্ছে তাঁদের চুরির আতঙ্কে। এ ঘটনায় অতিষ্ঠ এলাকাবাসী তাঁদের জানমান রক্ষায় সহায়তা চেয়েছেন সকলের।

এ বিষয়ে কথা হয় ওই ইউনিয়নের দক্ষিণ হাতিবান্ধা গ্রামের মৃত জাবেদ আলী প্রামাণিকের ছেলে মো. মাহবুব প্রামাণিকের (৩৫) সাথে।

তিনি বলেন, ‘কয়েকদিন আগে আমার দোকান চুরি হয়েছে। এরপর আমর বাড়ির পাশের বাড়ি থেকে কাঁকড়া গাড়ির ব্যাটারী চুরি হয়েছে। আমার ওয়াহেদ চাচার একটা ছাগল চুরি হয়েছে গত কালকে।আজকে আবার গরু চুরি। গত পরশু আবার রিপনের বাড়ির গেট খুলে সেচ পাম্পের মোটর চুরি হয়েছে। এভাবে অহরহ চুরি হচ্ছেই আমাদের গ্রামে। তাতে দেখা যায়, মাসে সবমিলিয়ে প্রায় ১৪ থেকে ১৫ টি চুরির ঘটনা ঘটছে এ গ্রামে। আর এগুলো কোনো ভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না।’

মো. মাহবুব প্রামাণিক আরও বলেন, ‘যেহেতু আজকে গরুসহ হাতেনাতে ধরা পরেছে সেহেতু শাস্তিটাও হোক দৃষ্টান্তমূলক। যাতে করে এ এলাকায় নতুন করে আর কোনো চুরির ঘটনা না ঘটে। এবং আমার যেনো শান্তিতে বসবাস করতে পারি।’

এ বিষয়ে কথা হয় চুরি যাওয়া ছাগলের মালিক মোছাঃ নাজমা বেগমের সাথে।

তিনি বলেন, গতকাল ইফতারে ১৫/২০ মিনিট আগে গোয়াল ঘরে উঠাই এই ছাগলের বাচ্চা ও তার মা-কে। এরা আমার এই বাচ্চার মাকে চুরি করে নিয়ে গেছে। কাল থেকে বাচ্চাটা মায়ের দুধ না পেয়ে অসুস্থ হয়ে পরেছে। খাবার স্যালাইন খেয়ে খেয়ে রাখছি। ছাগলের বাচ্চার মাকে ফেরতসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানান তিনি চোরদের।’

বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার বলেন, ‘গরুসহ চোর সন্দেহে ৩ জনকে আটক করেন আমার ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের বলদি পাড়ার লোকজন। সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে আসি। আটক ৩ জনের মধ্যে সাতগিরি গ্রামের মো. লিটন মিয়ার ছেলে মো. সবুজ মিয়া নির্দোষ হওয়ায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। গরুর মালিক রংপুর জেলার পীরগাছা উপজেলার হওয়ায় দুই আসামিসহ উদ্ধারকৃত গরু পীরগাছা থানা পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে বলেও জানান ইউপি চেয়ারম্যান।’

পীরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুরে আলম সিদ্দিকী গরুসহ চোর পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘সংবাদ পাওয়া মাত্র লোক পাঠিয়ে চোরসহ গরু এনেছি। আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানান ওসি নুরে আলম সিদ্দিকী।

কোনো ভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না চুরি 

প্রকাশের সময়: ০৩:৩৫:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ মার্চ ২০২৫

কোনোভাবেই চুরি ঠেকানো যাচ্ছে না গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের বলদি পাড়া গ্রাম ও তাঁর আশ-পাশ।  রমযান মাসেই গরুসহ ছোট-বড় মোট ২০টির অধিক চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে জানান এলাকাবাসী।

গতকাল শনিবারও গরুসহ ২ চোরকে পুলিশে সোপর্দ করেছেন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার। চুরির হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে চান অতিষ্ঠ এলাকাবাসী।

পুলিশে সোপর্দ করা ২ গরুচোর হলেন বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ হাতিবান্ধা গ্রামের মো. ফয়জার রহমানের ছেলে মো. বিপুল মিয়া (২০) ও একই ইউনিয়নের বলদি পাড়া গ্রামের মৃত আবেদ আলীর ছেলে মো. আনারুল ইসলাম (২২)। গরুচোর মো. আনারুল ইসলামের বাড়ি থেকে গরু উদ্ধার করা হয়।

সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, বলদি পাড়া গ্রামটি সীমান্ত এলাকা ঘেঁষে। এক পার্শ্বে রংপুর জেলার পীরগাছা উপজেলার অংশ। এবং আরেক পাশে মিঠাপুকুর উপজেলার অংশ। লেগে থাকা ৩ গ্রামের ১২ থেকে ১৫ জন এ চুরি চক্রের সাথে জড়িত। অপরাধ সংগঠিত হওয়ার পরে পুলিশ আসলেই তাঁরা পার্শবর্তী উপজেলায় আশ্রয় নেন। হয়তোবা সে কারণেই কাউকে ধরতে পারেন না পুলিশ। আর এ কারণে প্রতিনিয়ত চুরির ঘটনা ঘটেছে এইটুকু এলাকায়। প্রতিনিয়ত থাকতে হচ্ছে তাঁদের চুরির আতঙ্কে। এ ঘটনায় অতিষ্ঠ এলাকাবাসী তাঁদের জানমান রক্ষায় সহায়তা চেয়েছেন সকলের।

এ বিষয়ে কথা হয় ওই ইউনিয়নের দক্ষিণ হাতিবান্ধা গ্রামের মৃত জাবেদ আলী প্রামাণিকের ছেলে মো. মাহবুব প্রামাণিকের (৩৫) সাথে।

তিনি বলেন, ‘কয়েকদিন আগে আমার দোকান চুরি হয়েছে। এরপর আমর বাড়ির পাশের বাড়ি থেকে কাঁকড়া গাড়ির ব্যাটারী চুরি হয়েছে। আমার ওয়াহেদ চাচার একটা ছাগল চুরি হয়েছে গত কালকে।আজকে আবার গরু চুরি। গত পরশু আবার রিপনের বাড়ির গেট খুলে সেচ পাম্পের মোটর চুরি হয়েছে। এভাবে অহরহ চুরি হচ্ছেই আমাদের গ্রামে। তাতে দেখা যায়, মাসে সবমিলিয়ে প্রায় ১৪ থেকে ১৫ টি চুরির ঘটনা ঘটছে এ গ্রামে। আর এগুলো কোনো ভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না।’

মো. মাহবুব প্রামাণিক আরও বলেন, ‘যেহেতু আজকে গরুসহ হাতেনাতে ধরা পরেছে সেহেতু শাস্তিটাও হোক দৃষ্টান্তমূলক। যাতে করে এ এলাকায় নতুন করে আর কোনো চুরির ঘটনা না ঘটে। এবং আমার যেনো শান্তিতে বসবাস করতে পারি।’

এ বিষয়ে কথা হয় চুরি যাওয়া ছাগলের মালিক মোছাঃ নাজমা বেগমের সাথে।

তিনি বলেন, গতকাল ইফতারে ১৫/২০ মিনিট আগে গোয়াল ঘরে উঠাই এই ছাগলের বাচ্চা ও তার মা-কে। এরা আমার এই বাচ্চার মাকে চুরি করে নিয়ে গেছে। কাল থেকে বাচ্চাটা মায়ের দুধ না পেয়ে অসুস্থ হয়ে পরেছে। খাবার স্যালাইন খেয়ে খেয়ে রাখছি। ছাগলের বাচ্চার মাকে ফেরতসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানান তিনি চোরদের।’

বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার বলেন, ‘গরুসহ চোর সন্দেহে ৩ জনকে আটক করেন আমার ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের বলদি পাড়ার লোকজন। সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে আসি। আটক ৩ জনের মধ্যে সাতগিরি গ্রামের মো. লিটন মিয়ার ছেলে মো. সবুজ মিয়া নির্দোষ হওয়ায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। গরুর মালিক রংপুর জেলার পীরগাছা উপজেলার হওয়ায় দুই আসামিসহ উদ্ধারকৃত গরু পীরগাছা থানা পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে বলেও জানান ইউপি চেয়ারম্যান।’

পীরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুরে আলম সিদ্দিকী গরুসহ চোর পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘সংবাদ পাওয়া মাত্র লোক পাঠিয়ে চোরসহ গরু এনেছি। আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানান ওসি নুরে আলম সিদ্দিকী।