তোফায়েল হোসেন জাকির: সারা দেশের ন্যায় গাইবান্ধার ৫টি আসনেও শেষ হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা। টানা ১৯ দিনের প্রচারণা শেষ হওয়ার পর এখন চলছে চুলছেঁড়া বিশ্লেষণ ও ভোটের হিসাব-নিকাশ। কে হবেন আগামী দিনের কর্ণধার এ অপেক্ষায় আছেন ভোটাররা।
অপরদিকে, চলছে ভোটের দিনের নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা। ইতোমধ্যে নিরাপত্তাও জোরদারের অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্থানে প্রশাসনের নজরদারি রয়েছে বলে জানা গেছে।
গাইবান্ধা জেলার ৫টি সংসদীয় আসেন মোট ২১ লাখ ৭২ হাজার, ৪৬৮ জন ভোটার রয়েছে। এসব ভোটার ৬৭৫ ভোটকেন্দ্রে ৪০ জন প্রার্থীকে তাদের ভাটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে–
গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসন
এখানে ৮ জন প্রার্থী ভোটের মাঠে লড়ছেন। তাঁরা হলেন- ধানের শীষ প্রতীক প্রার্থী খন্দকার জিয়াউল মোহাম্মদ আলী, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মাজেদুর রহমান, লাঙল প্রতীকের শামীম হায়দার পাটোয়ারী, হাতপাখা প্রতীকের রমজান আলী, কাঁচি প্রতীকের পরমানন্দ দাস, প্রজাপতী প্রতীকের কওছর আজম হান্নু, কলস প্রতীকের ছালমা আক্তার ও ঢেঁকি প্রতীক প্রার্থী মোস্তফা মহসিন।
এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৫ হাজার ৯০৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫ হাজার ৩২৬, নারী ২ লাখ ১০ হাজার ৫৭৪ ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ৩ জন। ১২৩টি কেন্দ্রে তারা ভোট প্রয়োগ করবেন।
গাইবান্ধা-২ (সদর) আসন
এখানে ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন- ধানীর শীষ প্রতীক প্রার্থী আনিসুজ্জামান খান বাবু, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের আব্দুল করিম, লাঙল প্রতীকের আব্দুর রশীদ সরকার, হাতপাখা প্রতীকের মোহাম্মদ আব্দুল মাজেদ, কলম প্রতীকের শাহেদুর জাহান, কাস্তে প্রতীকের মিহির কুমার ঘোষ ও কাঁচি প্রতীক প্রার্থী আহসানুল হাবীব সাঈদ।
এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৮ হাজার। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৯৯ হাজার ৭১৮, নারী ২ লাখ ৮ হাজার ২৭১ ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ১১ জন। ১১৮টি কেন্দ্রে তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসন
এখানে ১০ জন প্রার্থী ভোটের মাঠে লড়ছেন। তাঁরা হলেন- ধানের শীষ প্রতীক প্রার্থী অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, লাঙল প্রতীকের মইনুর রাব্বী চৌধুরী, ট্রাক প্রতীকের সুরুজ মিয়া, হাতপাখা প্রতীকের এটিএম আওলাদ হোসাইন, কাস্তে প্রতীকের আব্দুল্লাহ আদিল, আপেল প্রতীকের মোছাদ্দিকুল ইসলাম, কলম প্রতীকের মনজুরুল হক, ঘোড়া প্রতীকের এস এম খাদেমুল ইসলাম খুদি ও ঢেঁকি প্রতীক প্রার্থী আজিজার রহমান।
এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১ হাজার ৯৪৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪৫ হাজার ৯৪৬, নারী ২ লাখ ৫৫ হাজার ৯৮৮ ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ৯ জন। ১৪৬টি কেন্দ্রে তারা ভোট প্রয়োগ করবেন।
গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসন
এখানে ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন- ধানের শীষ প্রতীক প্রার্থী মোহাম্মদ শামীম কায়সার, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের আব্দুর রহিম সরকার, লাঙল প্রতীকের কাজী মো. মশিউর রহমান, হাতপাখা প্রতীকের সৈয়দ তৌহিদুর রহমান তুহিন, কোদাল প্রতীকের আতোয়ারুল ইসলাম ও মোটরসাইকেল প্রতীক প্রার্থী আব্দুর রউফ আকন্দ।
এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৮৭১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ২৯ হাজার ৫৭, নারী ২ লাখ ৩৫ হাজার ৮০৪ ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ১০ জন। ১৪২টি কেন্দ্রে তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি-সাঘাটা) আসন
এখানে ৯ জন প্রার্থী ভোটের মাঠে লড়ছেন। তাঁরা হলেন- ধানের শীষ প্রতীক প্রার্থী ফারুক আলম সরকার, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের আব্দুল ওয়ারেছ, লাঙল প্রতীকের শামীম হায়দার পাটোয়ারী, হাতপাখা প্রতীকের আজিজুল ইসলাম, কাঁচি প্রতীকের রাহেলা খাতুন, কাস্তে প্রতীকের শ্রী নিরমল, হাঁস প্রতীকের নাহিদুজ্জামান নিশাদ, ঘোড়া প্রতীকের মেহেদী হাসান বিদ্যুৎ ও মোটরসাইকেল প্রতীক প্রার্থী এইচ এম গোলাম শহীদ রনজু।
এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮১ হাজার ৭৫১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৮৯ হাজার ৭৯৪, নারী ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৫৪ ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ৩ জন। ১৪৬টি কেন্দ্রে তারা ভোট প্রয়োগ করবেন।
প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে- গাইবান্ধার সাতটি উপজেলা নিয়ে গঠিত ৫ টি সংসদীয় আসনের ৬৭৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৭৯ টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজরদারি থাকবে।
স্থানীয় ভোটাররা ধারণা করছেন- অতীতের চেয়ে এ নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য ভোটার ভোটকেন্দ্রে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিবেন। তবে ঝুঁকিপুর্ণ কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা নিয়ে কিছুটা শঙ্কাবোধ করছেন তারা।
গাইবান্ধা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন- আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের সব ধরণের দিক-নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
গাইবান্ধা রিটার্নিক কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা জানান, আসন্ন নির্বাচন অবাধ-সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠানের জন্য সেনাবাহীনি, র্যাব-পুলিশ, বিজিবি, আনসার মোতায়েন থাকবে। সেইসঙ্গে দুর্গম চরাঞ্চলে বিশেষ নিরাপত্তার বলয় সৃষ্টি করা হয়েছে।
তোফায়েল হোসেন জাকির, জাগো২৪.নেট 


















