মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পাপ মোচনের আশায় অষ্টমীর স্নানে লাখো পুণ্যার্থীর ঢল

সঞ্জয় সাহা: প্রতি বছরের মতো মানবকুল উদ্ধার ও পাপ মোচনের আশায় অষ্টমীর ( বান্নীর) স্নান গাইবান্ধার কামারজানি, বালাসীঘাট ও ফুলছড়ি সহ বিভিন্ন স্থানের ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর তীরে হিন্দু সম্প্রদায়ের লাখো ভক্তপ্রান দাদা ও মায়েদের ঢল নেমেছে। এই মেলাকে বান্নীর মেলাও বলে। ৫ এপ্রিল শনিবার ভোর থেকে গাইবান্ধা শহরসহ, পলাশবাড়ী, ধাপেরহাট, সুন্দরগঞ্জ, বগুড়া, লালমনিরহাট সহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পুণ্যার্থীরা আগমন করে ব্রহ্মপুত্র নদে ভিড় করছে। বিকেলে শেষ হয় এ উৎসব। ৩ টি স্থানে সরেজমিনে দেখা যায়, স্নানের সময় ফুল, বেলপাতা, ধান, দূর্বা, হরিতকি, ডাব, আমপাতা নদের জলে অর্পণ করছেন তারা। উৎসবকে কেন্দ্র করে গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানীর ব্রহ্মপুত্র নদ, ফুলছড়ি উপজেলার বালাসীঘাট এবং ফুলছড়ি উপজেলার মেইন ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে মেলা বসেছে। এদিকে দূর-দূরান্ত থেকে খুদে ব্যবসায়ীরা চলে এসেছেন কামারজানির নদীর তীরে। প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত বালুর ওপর তৈরি হয়েছে নানা রকম পণ্যের স্টল। নদীর কূল ধরে বসেছে বিভিন্ন রকমের দোকানপাট। মাটির জিনিসপত্র তো আছেই। পাশাপাশি উঠেছে মাটির তৈরি বিভিন্ন দেব-দেবীর মূর্তি, পুতুল, বাঘ, আম, নৌকা, খুরমা বাতাসা, চিনির তৈরি জীবজন্তুর প্রতিকৃতির শ্বাস, হাঁড়ি-পাতিলসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য। এছাড়াও মেলায় শিশুদের খেলাধুলার চড়কি, নাগরদোলনা স্থান নিয়েছে। বসেছে মাছের বাজারও। মেলায় সব ধর্মের মানুষ বিভিন্ন ধরনের পণ্য কিনছেন। ভরতখালী উল্লাবাজার থেকে আসা সবুজ সাহা বলেন, আমি জন্মের পর থেকে দেখি এই মেলা হয়ে আসছে। আমি মা, বাবা সহ গুরুজনদের কাছে শুনেছি বান্নি মেলা নাকি একশো বছর আগে থেকে নদীর পাড়ে বসে। সর্ব প্রথম বাবার হাত ধরে এই মেলায় দেখেছি। কামারজানিতে জন্মগ্রহণ করা ৭২ বয়সী মঞ্জু রানী সাহা বলেন- উৎসবটি শুধু হিন্দুদের নয়। এটি ঐতিহ্যবাহী মেলা। চৈত্রের শেষে বা বৈশাখের শেষ মঙ্গলবার মেলা বসে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা স্নান করে নদীর তীরে চিরা, মুড়ি, দই সহ বিভিন্ন প্রকার জলখাবার খায়। তার পর বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে মেলায় কিছু কেনাকাটা করে দিনটি কাটিয়ে দেই। গাইবান্ধার কামারজানি ১২ নং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান বলেন, হিন্দু ধর্মাবল্মীদের বৃহত্তম স্নান হলো অষ্টমীর স্নান। এই মেলা ঘিরে কোনো ধরনের অঘটন যেন না ঘটে সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে এবং পুলিশ ও আনসার সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে। মেলাকে কেন্দ্র করে কোথাও যেন নেশা ও জুয়ার আসর না বসে সেটাও লক্ষ্য রাখা হচ্ছে। এ বিষয়ে গাইবান্ধা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ “সাইমুল ইসলাম তালুকদার বলেন- গাইবান্ধার কামারজানিতে হিন্দু ধর্মাবল্মীদের গঙ্গা স্নান অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মেলায় যাতে কোনো প্রকার ঘটনা না ঘটে, সে জন্য পুলিশ ও আনসার সদস্য নিয়োজিত রাখা হয়েছে। এবং গাইবান্ধার কুপতলায় মেলায় জুয়ার আসর নিয়ে উত্তজনা সৃষ্টির ভয়ে মেলা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

পাপ মোচনের আশায় অষ্টমীর স্নানে লাখো পুণ্যার্থীর ঢল

প্রকাশের সময়: ০৭:২২:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫

সঞ্জয় সাহা: প্রতি বছরের মতো মানবকুল উদ্ধার ও পাপ মোচনের আশায় অষ্টমীর ( বান্নীর) স্নান গাইবান্ধার কামারজানি, বালাসীঘাট ও ফুলছড়ি সহ বিভিন্ন স্থানের ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর তীরে হিন্দু সম্প্রদায়ের লাখো ভক্তপ্রান দাদা ও মায়েদের ঢল নেমেছে। এই মেলাকে বান্নীর মেলাও বলে। ৫ এপ্রিল শনিবার ভোর থেকে গাইবান্ধা শহরসহ, পলাশবাড়ী, ধাপেরহাট, সুন্দরগঞ্জ, বগুড়া, লালমনিরহাট সহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পুণ্যার্থীরা আগমন করে ব্রহ্মপুত্র নদে ভিড় করছে। বিকেলে শেষ হয় এ উৎসব। ৩ টি স্থানে সরেজমিনে দেখা যায়, স্নানের সময় ফুল, বেলপাতা, ধান, দূর্বা, হরিতকি, ডাব, আমপাতা নদের জলে অর্পণ করছেন তারা। উৎসবকে কেন্দ্র করে গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানীর ব্রহ্মপুত্র নদ, ফুলছড়ি উপজেলার বালাসীঘাট এবং ফুলছড়ি উপজেলার মেইন ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে মেলা বসেছে। এদিকে দূর-দূরান্ত থেকে খুদে ব্যবসায়ীরা চলে এসেছেন কামারজানির নদীর তীরে। প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত বালুর ওপর তৈরি হয়েছে নানা রকম পণ্যের স্টল। নদীর কূল ধরে বসেছে বিভিন্ন রকমের দোকানপাট। মাটির জিনিসপত্র তো আছেই। পাশাপাশি উঠেছে মাটির তৈরি বিভিন্ন দেব-দেবীর মূর্তি, পুতুল, বাঘ, আম, নৌকা, খুরমা বাতাসা, চিনির তৈরি জীবজন্তুর প্রতিকৃতির শ্বাস, হাঁড়ি-পাতিলসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য। এছাড়াও মেলায় শিশুদের খেলাধুলার চড়কি, নাগরদোলনা স্থান নিয়েছে। বসেছে মাছের বাজারও। মেলায় সব ধর্মের মানুষ বিভিন্ন ধরনের পণ্য কিনছেন। ভরতখালী উল্লাবাজার থেকে আসা সবুজ সাহা বলেন, আমি জন্মের পর থেকে দেখি এই মেলা হয়ে আসছে। আমি মা, বাবা সহ গুরুজনদের কাছে শুনেছি বান্নি মেলা নাকি একশো বছর আগে থেকে নদীর পাড়ে বসে। সর্ব প্রথম বাবার হাত ধরে এই মেলায় দেখেছি। কামারজানিতে জন্মগ্রহণ করা ৭২ বয়সী মঞ্জু রানী সাহা বলেন- উৎসবটি শুধু হিন্দুদের নয়। এটি ঐতিহ্যবাহী মেলা। চৈত্রের শেষে বা বৈশাখের শেষ মঙ্গলবার মেলা বসে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা স্নান করে নদীর তীরে চিরা, মুড়ি, দই সহ বিভিন্ন প্রকার জলখাবার খায়। তার পর বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে মেলায় কিছু কেনাকাটা করে দিনটি কাটিয়ে দেই। গাইবান্ধার কামারজানি ১২ নং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান বলেন, হিন্দু ধর্মাবল্মীদের বৃহত্তম স্নান হলো অষ্টমীর স্নান। এই মেলা ঘিরে কোনো ধরনের অঘটন যেন না ঘটে সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে এবং পুলিশ ও আনসার সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে। মেলাকে কেন্দ্র করে কোথাও যেন নেশা ও জুয়ার আসর না বসে সেটাও লক্ষ্য রাখা হচ্ছে। এ বিষয়ে গাইবান্ধা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ “সাইমুল ইসলাম তালুকদার বলেন- গাইবান্ধার কামারজানিতে হিন্দু ধর্মাবল্মীদের গঙ্গা স্নান অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মেলায় যাতে কোনো প্রকার ঘটনা না ঘটে, সে জন্য পুলিশ ও আনসার সদস্য নিয়োজিত রাখা হয়েছে। এবং গাইবান্ধার কুপতলায় মেলায় জুয়ার আসর নিয়ে উত্তজনা সৃষ্টির ভয়ে মেলা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।