বাংলা ও বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্যের প্রতীক, প্রাণের উৎসব ‘পহেলা বৈশাখ’ ও বর্ষবরণ অনুষ্ঠান গাইবান্ধায় বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে।
বাঙালির জীবনে আনন্দ বয়ে আনতে প্রতি বছর এই দিনে গাইবান্ধা স্বাধীনতা প্রাঙ্গনে উদযাপিত হয়ে থাকে পহেলা বৈশাখ’ ও বর্ষবরন অনুষ্ঠান।
গাইবান্ধা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ১৪ ও ১৫ এপ্রিল দুদিন ব্যাপী বর্ষবরণ উৎসব প্রথম দিন শহরের পৌরপার্ক থেকে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়।
ঢাকঢোল ও বাশির শব্দে মুখরিত হয় এবং ঘোড়ার গাড়িযুক্ত আনন্দ শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্বাধীনতা প্রাঙ্গনে গিয়ে শেষ হয়৷
এতে বেলুন উড়িয়ে ও বক্তব্য রেখে বর্ষবরণ উৎসব উদ্বোধন করেন গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক চৌধুরী মোয়াজ্জম আহমদ।
এ উৎসব ঘিরে নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণে মেলা বসানো হয়েছে। উৎসবের শুরুতে জেলা শিল্পকলা একাডেমিসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের অর্ধশতাধিক শিল্পী জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও এসো, হে বৈশাখ এসো এসো গান পরিবেশন করে এছাড়াও শিল্পকলা একাডেমিসহ বিভিন্ন সংগঠন এর শিল্পীরা নৃত্য পরিবেশন ও গান পরিবেশন করে। গান পরিবেশন করেন শিল্পী রোমানা ইসলাম, তিথী সরকারসহ অনেকে। শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
নববর্ষ উপলক্ষে দুদিনব্যাপী সকাল ৯ টা রাত ৮ টা অবধি বৈশাখী মেলা ও বিকেল ৪ টা ৩০ মিনিটে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। বর্ষবরণ উৎসব শেষে মেলার ষ্টল পরিদর্শন করেন ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলেন গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক চৌধুরী মোয়াজ্জম আহমদ।
মেলায় ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প, হস্তশিল্প, বাঙালির ঐতিহ্য ইলিশ- পান্তা-আলুর চপ, কেক, খুরমা, বাতাসা, নিমকি, দা,বঠি সহ বিভিন্ন প্রকার দোকান স্থান পেয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন- গাইবান্ধা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক এ,কেএম হেদায়েতুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব জহির ইমাম,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক শারমিন আখতার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আল মামুন, এনডিসি তাপস চক্রবর্তী তুষার, সিনিয়র সহকারী কমিশনার ভূমি মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, সহকারী কমিশনার নিশাত তাসনিম, বিসিক গাইবান্ধার সহকারী মহাব্যবস্থাপক আব্দুল্লাহ আল ফেরদৌস, শিল্পনগরী কর্মকর্তা সুজন মিয়াসহ অনেকে।
মেলায় ষ্টল নেয়া “কল্পতরু বুটিক হাউস” স্বত্বাধিকারী রনি চাকী বলেন- বাঙালির চিরাচরিত উৎসব পহেলা বৈশাখ। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে বছরের পর বছর আমরা বাংলা নববর্ষ পালন করে আসছি। পহেলা বৈশাখকে আরও সাবলীল ও স্বাচ্ছন্দ করে তুলতে আমাদের নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মেরাজ বুটিক ব্যাবসায়ী মেরাজ বলেন- হাতের কাজ, হ্যান্ডিক্রাফট, বুটিক জিনিসপত্র নিয়ে কাজ করা। হাতের কাজের সব রকমের জিনিসপত্র রয়েছে, যেমন- নকশীকাঁথা, ব্লকের শাড়ি, থ্রিপিস, বাচ্চাদের পোশাকসহ অনেক কিছু। বিসিক শিল্পনগরীর সহযোগীতায় এবং জেলা প্রশাসন আয়োজনে এই মেলার আয়োজন। গতবার মেলা হলেও ক্ষুদ্র উদ্যাক্তাদের নিয়ে হয়নি। এবার ক্ষুদ্র উদ্যাক্তাদের নিয়ে করায় মেলাটি অনেক প্রশংসা। মেলায় আমাদের পন্যের প্রচার হচ্ছে। মেলা হওয়ায় আমরা হ্যাপি।
সুরাইজাহান নামে এক দর্শনার্থী বলেন- বাংলা নববর্ষ ১৪৩২ সবার জীবনে মঙ্গল বয়ে আনুক৷ আমাদের গাইবান্ধা ছোট শহর, তেমন কোন বিনোদনকেন্দ্র নেই, বাংলা নববর্ষ নতুন ভাবে পথচলার জন্য আনন্দ বয়ে নিয়ে আসবে। নতুন নববর্ষ সবার জন্য ভাল হোক আমাদের মঙ্গল হোক।
গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক চৌধুরী মোয়াজ্জম আহমদ বলেন- ১৪৩২ বঙ্গাব্দ বাংলা নববর্ষ। সরকারি নির্দেশে আমরা পহেলা বৈশাখ পালন করছি। দেখতে পাচ্ছেন পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে মেলা বসেছে ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান হচ্ছে। আমরা চাচ্ছি নববর্ষের প্রগ্রামে সবাই অংশগ্রহণ করুক। মেলায় আমরা আনন্দঘন মুহুর্ত উপভোগ করব।
সঞ্জয় সাহা, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট 
















