দিনাজপুরের খানসামায় ভুল্লী নদীর ভাঙা সেতুর স্থানে চলছে নতুন সেতু নির্মাণের প্রস্তুতি। এ উপলক্ষ্যে ভেঙ্গে পড়া সেতুটি অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহানো স্থানীয় লোকজনদের মধ্যে স্বস্তি ও আশার আলো ফুটেছে।
জানা গেছে, ২০১৭ সালের ভয়াবহ বন্যায় উপজেলার আলোকঝাড়ী ইউনিয়নের ভুল্লী নদীর ওপরের সেতুটি ভেঙ্গে যায়। এরপর থেকে সেতুটি ঝুলন্ত অবস্থায় পড়ে থাকলেও তা অপসারণ কিংবা বিকল্প কোনো স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ফলে উপজেলাবাসীর সঙ্গে পার্শ্ববর্তী নীলফামারী জেলা সদরের খোকশাবাড়ী ইউনিয়নের সংযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ে। স্থানীয় স্কুল-কলেজ-মাদরাসার শিক্ষার্থী, চাকুরিজীবি, কৃষকেরা দীর্ঘদিন ধরে ঝুলন্ত সেতুর ওই স্থানে বাঁশের সাঁকোর ওপর দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করেন। এ পথে চলতে গিয়ে তাঁরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছিলেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ভুল্লী নদীর ওপর ভাঙা-ঝুলন্ত সেতুটি অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিয়োজিত শ্রমিকেরা অপসারণ কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।
উপজেলা এলজিইডি’র প্রকৌশলী শাহ মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, বৃহত্তর দিনাজপুর জেলা গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ভুল্লী নদীর ওপর ৪০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি সেতু নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। ভাঙা সেতুটি অপসারণের পরপরই নতুন সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে।
স্থানীয় আফছার আলী, আলমগীর ইসলাম ও ওসমান গণি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা চলে আসছিল। এখন পুরনো সেতুটির ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে। দেখে মনে হচ্ছে, নতুন সেতুর কাজ শুরু হবে। এতে আমরা স্থানীয়রা অনেকটাই আশাবাদী। তবে কাজ দ্রুত শুরু ও শেষ হলে আমাদের দীর্ঘদিনের চরম ভোগান্তির অবসান ঘটবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান সরকার বলেন, নতুন সেতু নির্মাণের প্রস্তুতি হিসেবে ইতিমধ্যেই ভাঙা সেতু অপসারণের কাজ শুরু করা হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘবে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণে এলজিইডিকে চিঠি দেয়া হয়েছে।
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, চিরিরিবন্দর (দিনাজপুর) 















