রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকট, চিকিৎসা সেবা ব্যাহত

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকট প্রকটাকার ধারণ করেছে। ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে চিকিৎসকসহ জনবলের অভাবে রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা দিতে হিমশিম খেতে হয়।

এতে এ এলাকার কয়েক লাখ মানুষের স্বাস্থ্য সেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। জানা গেছে, চিকিৎসক ও জনবল সংকটে এ হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার (ওটি) চালু করা যাচ্ছে না। প্রসবজনিত সমস্যাসহ অপারেশনের রোগীদের শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে রংপুর মেডিকেলসহ বাহিরের বেসরকারি হাসপাতালে যেতে হয়। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিন নষ্ট থাকায় চিকিৎসা কাজ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ইসিজি মেশিন না থাকায় হার্টের রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

এতে হতদরিদ্র, বিত্তহীন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত আয়ের রোগীসাধারণ আর্থিক সংকটসহ সরকারি চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এলাকাবাসী জানায়, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার প্রায় ৯ লাখ লোকের একমাত্র ভরসা এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ৩১ শয্যা থেকে এটিকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও জনবলসহ অন্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি না করায় অন্তহীন সমস্যায় হাবুডুবু খাচ্ছে চিকিৎসা সেবা। গোটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ময়লা আর্বজনা। দুর্গন্ধে রোগীরা টিকতে পারছে না স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। ময়লা আবর্জনার পাশে রোগীদের চিকিৎসা প্রদান করছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তাররা।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ‘নো মাস্ক, নো এন্ট্রি’ লেখা থাকলেও ডাক্তার ও কর্মচারিরা ছাড়া রোগীদের মাস্ক ব্যবহার করতে দেখা যায়নি। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেখানে সেখানে পড়ে আছে রোগীর ব্যবহারিত গজ ব্যান্ডেজসহ অন্যান্য উপকরণ। জনবল সংকটে ব্যাহত হচ্ছে যথাযথ পরিসেবা। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালে রোগীদের ভিড়। এ সময় ডাক্তার ও এসএসএমওদের স্বাস্থ্য সেবা দিতে হিমশিম খেতে দেখা যায়। এখানে শুধুমাত্র বহিঃর্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ২’শ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। করোনা ভাইরাসের প্রতিরোধে প্রায় দৈনিক ১’শ জন টিকা গ্রহণ করেন। তাছাড়া, ৫০ থেকে ৬০ জন মা ও শিশু ভ্যাকসিন সেবা নিয়ে থাকেন। তবে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা ব্যবস্থাপত্র নিয়ে বের হলে বিভিন্ন কোম্পানীর মেডিকেল রি-প্রেজেন্টেটিভরা ঘিরে ধরেন। তারা মোবাইলে ব্যবস্থাপত্রের ছবি তুলছেন। এতে রোগীরা অতীষ্ট হচ্ছে। কর্তপক্ষ বারবার নোটিশ দিলেও রি-প্রেজেন্টেটিভরা বিষয়টি আমলে নিচ্ছে না।

সূত্র জানায়, ১০ টি চিকিৎসক পদের মধ্যে ৫ টিই শূন্য। মেডিসিন, এ্যানেসথেসিয়া, শিশু, সার্জারি, গাইনী পদগুলো শূন্য থাকায় রোগী চিকিৎসা সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন। হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় সাধারণ ডাক্তার ও এসএসএমওগণ কোনোমতে রোগীদের সেবা দেয়ার কাজ চালাচ্ছেন। সূত্র জানায়, পরিসংখ্যানবিদ, ১ জন মিটওয়াইফ, ২ জন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, ২জন ফার্মাসিষ্ট, ১ জন এমটি (ল্যাব), ১জন সহকারী সেবিকা, ২ জন স্বাস্থ্য পরিদর্শক, ২ জন সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক, ১ জন টিএলসিএ, ৩ জন অফিস সহায়ক, ২জন ওয়ার্ড বয়, বাবুর্চি, ১ জন আয়া, ২ জন নিরাপত্তা কর্মী, ৩ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মীর পদ শূন্য রয়েছে। অন্যদিকে, ৭টি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিটিতে একজন মেডিকেল অফিসার, একজন সহকারী মেডিকেল অফিসার, ১ জন ফার্মাসিস্ট ও ১ জন অফিস সহায়কের পদ রয়েছে। এর মধ্যে ১টিতে নেই মেডিকেল অফিসার, ৪টিতে নেই উপসহকারী মেডিকেল অফিসার, ৫টিতে নেই ফার্মাসিস্ট ও অফিস সহায়ক নেই ৩টিতে। এছাড়াও, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য সহকারী ৮৫টি পদ থাকলেও ১৭টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শুন্য রয়েছে। ইউনিয়ন সহকারী মেডিকেল অফিসার ৮টি পদ থাকলেও ৮টি পদই খালি আছে।

হাসপাতালের জনবল সংকটে সেগুলোতে কাংখিত স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আশরাফুজ্জামান সরকার বলেন, ‘চিকিৎসকসহ জনবল এবং অন্যান্য সমস্যা থাকলেও আমরা রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি। চিকিসৎসক ও জনবলসহ নানা সমস্যার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করি সহসা এসব পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। শূন্য পদগুলো পূরণ হলে আমরা সঠিকভাবে রোগী সাধারণকে উন্নত সেবা দিতে সক্ষম হবো।

গাইবান্ধা জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার আ.ম আখতারুজ্জামান জাগো২৪.নেট-কে বলেন, জেলার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসকসহ জনবল সংকট রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। পুরো জেলায় তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর অনেক পদ খালি রয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় পদগুলো পূরণে একটু সময় লাগবে

 

জনপ্রিয়

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকট, চিকিৎসা সেবা ব্যাহত

প্রকাশের সময়: ০৬:২৩:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ মার্চ ২০২১

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকট প্রকটাকার ধারণ করেছে। ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে চিকিৎসকসহ জনবলের অভাবে রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা দিতে হিমশিম খেতে হয়।

এতে এ এলাকার কয়েক লাখ মানুষের স্বাস্থ্য সেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। জানা গেছে, চিকিৎসক ও জনবল সংকটে এ হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার (ওটি) চালু করা যাচ্ছে না। প্রসবজনিত সমস্যাসহ অপারেশনের রোগীদের শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে রংপুর মেডিকেলসহ বাহিরের বেসরকারি হাসপাতালে যেতে হয়। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেশিন নষ্ট থাকায় চিকিৎসা কাজ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ইসিজি মেশিন না থাকায় হার্টের রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

এতে হতদরিদ্র, বিত্তহীন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত আয়ের রোগীসাধারণ আর্থিক সংকটসহ সরকারি চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এলাকাবাসী জানায়, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার প্রায় ৯ লাখ লোকের একমাত্র ভরসা এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ৩১ শয্যা থেকে এটিকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও জনবলসহ অন্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি না করায় অন্তহীন সমস্যায় হাবুডুবু খাচ্ছে চিকিৎসা সেবা। গোটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ময়লা আর্বজনা। দুর্গন্ধে রোগীরা টিকতে পারছে না স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। ময়লা আবর্জনার পাশে রোগীদের চিকিৎসা প্রদান করছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তাররা।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ‘নো মাস্ক, নো এন্ট্রি’ লেখা থাকলেও ডাক্তার ও কর্মচারিরা ছাড়া রোগীদের মাস্ক ব্যবহার করতে দেখা যায়নি। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেখানে সেখানে পড়ে আছে রোগীর ব্যবহারিত গজ ব্যান্ডেজসহ অন্যান্য উপকরণ। জনবল সংকটে ব্যাহত হচ্ছে যথাযথ পরিসেবা। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালে রোগীদের ভিড়। এ সময় ডাক্তার ও এসএসএমওদের স্বাস্থ্য সেবা দিতে হিমশিম খেতে দেখা যায়। এখানে শুধুমাত্র বহিঃর্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ২’শ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। করোনা ভাইরাসের প্রতিরোধে প্রায় দৈনিক ১’শ জন টিকা গ্রহণ করেন। তাছাড়া, ৫০ থেকে ৬০ জন মা ও শিশু ভ্যাকসিন সেবা নিয়ে থাকেন। তবে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা ব্যবস্থাপত্র নিয়ে বের হলে বিভিন্ন কোম্পানীর মেডিকেল রি-প্রেজেন্টেটিভরা ঘিরে ধরেন। তারা মোবাইলে ব্যবস্থাপত্রের ছবি তুলছেন। এতে রোগীরা অতীষ্ট হচ্ছে। কর্তপক্ষ বারবার নোটিশ দিলেও রি-প্রেজেন্টেটিভরা বিষয়টি আমলে নিচ্ছে না।

সূত্র জানায়, ১০ টি চিকিৎসক পদের মধ্যে ৫ টিই শূন্য। মেডিসিন, এ্যানেসথেসিয়া, শিশু, সার্জারি, গাইনী পদগুলো শূন্য থাকায় রোগী চিকিৎসা সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন। হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় সাধারণ ডাক্তার ও এসএসএমওগণ কোনোমতে রোগীদের সেবা দেয়ার কাজ চালাচ্ছেন। সূত্র জানায়, পরিসংখ্যানবিদ, ১ জন মিটওয়াইফ, ২ জন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, ২জন ফার্মাসিষ্ট, ১ জন এমটি (ল্যাব), ১জন সহকারী সেবিকা, ২ জন স্বাস্থ্য পরিদর্শক, ২ জন সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক, ১ জন টিএলসিএ, ৩ জন অফিস সহায়ক, ২জন ওয়ার্ড বয়, বাবুর্চি, ১ জন আয়া, ২ জন নিরাপত্তা কর্মী, ৩ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মীর পদ শূন্য রয়েছে। অন্যদিকে, ৭টি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের প্রতিটিতে একজন মেডিকেল অফিসার, একজন সহকারী মেডিকেল অফিসার, ১ জন ফার্মাসিস্ট ও ১ জন অফিস সহায়কের পদ রয়েছে। এর মধ্যে ১টিতে নেই মেডিকেল অফিসার, ৪টিতে নেই উপসহকারী মেডিকেল অফিসার, ৫টিতে নেই ফার্মাসিস্ট ও অফিস সহায়ক নেই ৩টিতে। এছাড়াও, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য সহকারী ৮৫টি পদ থাকলেও ১৭টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শুন্য রয়েছে। ইউনিয়ন সহকারী মেডিকেল অফিসার ৮টি পদ থাকলেও ৮টি পদই খালি আছে।

হাসপাতালের জনবল সংকটে সেগুলোতে কাংখিত স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার আশরাফুজ্জামান সরকার বলেন, ‘চিকিৎসকসহ জনবল এবং অন্যান্য সমস্যা থাকলেও আমরা রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি। চিকিসৎসক ও জনবলসহ নানা সমস্যার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করি সহসা এসব পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। শূন্য পদগুলো পূরণ হলে আমরা সঠিকভাবে রোগী সাধারণকে উন্নত সেবা দিতে সক্ষম হবো।

গাইবান্ধা জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার আ.ম আখতারুজ্জামান জাগো২৪.নেট-কে বলেন, জেলার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসকসহ জনবল সংকট রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। পুরো জেলায় তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর অনেক পদ খালি রয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় পদগুলো পূরণে একটু সময় লাগবে