দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় সরকারি পাকা রাস্তায় কালভার্টের দুই মুখে জোরপূর্বক বালু ফেলে পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনাটি উপজেলার খামারপাড়া ইউনিয়নের কায়েমপুর গ্রামের শাহপাড়া ঘটেছে। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে গত ২২ জুন রবিবার ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর পক্ষে স্থানীয় মো. আবুল হোসেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এলাকাবাসী ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ মে শনিবার সকালে ওই এলাকার আলমগীর হোসেন সরকারি রাস্তার কালভার্টের দুই প্রান্তে বালু ফেলে স্বাভাবিকভাবে পানি চলাচলের গতি পথ বন্ধ করে দেন। এতে পানির স্বাভাবিক চলাচল ও নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়। ফলে আশপাশের ২০-২২টি পরিবারের বসত বাড়ির পানি নিষ্কাশনে প্রতিন্ধকতার সৃষ্টি হয়। স্বাভাবিকভাবে পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ায় এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতাসহ চলাফেরায় চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় আবুল হোসেন জানান, দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের বসত বাড়ির পানি ওই কালভার্ট দিয়ে প্রবাহিত হতো। সম্প্রতি কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি মোটা প্লাস্টিক পাইপ বসিয়ে ও বালু ফেলে পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে আকাশের সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তায় পানি জমে যায় এবং চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক বাসিন্দা বলেন, এই কালভার্টটি কয়েক প্রজন্ম ধরে আমাদের এলাকার পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম ছিল। এখন পানির স্বাভাবিক গতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঘরের সামনের জায়গায় পানি জমে কাদার সৃষ্টি হচ্ছে এবং তা জমে থাকছে। যা শিশু ও বৃদ্ধদের চলাফেরায় মারাত্মক সমস্যা তৈরি করছে। এ ব্যাপারে প্রতিবাদ করতে গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তি এলাকাবাসীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি প্রদান করেন। এ ঘটনায় জনদুর্ভোগ উত্তোরনে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে সতর্ক ও পানির স্বাভাবিক চলাচলের রাস্তা খুলে দিতে বলি। এরপরও পানি চলাচলের পথ খোলা হয়নি। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুজ্জামান সরকার অভিযোগ পাওয়ার পর সরজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছেন। ইতিমধ্যে স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। দ্রুতই পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মো. রফিকুল ইসলাম, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) 

















