রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চিরিরবন্দরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ সংঘর্ষের আশঙ্কা

oppo_0

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পুনট্টি ইউনিয়নের আমবাড়ি পাটুল গ্রামের সালাম মোল্লা নামের জনৈক ব্যক্তির দখলকৃত জমিতে লাগানো বাঁশ, ফলজ ও বনজ গাছ প্রতিপক্ষ মহসিন, আলতাফ, মোস্তাফিজারসহ কয়েকজন জোরপুর্বক কেটে ফেলেন। এতে আনুমানিক ৫৫ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন হয়েছে।

সরজমিন দেখা গেছে, উপজেলার পুনট্টি ইউনিয়নের আমবাড়ি পাটুল গ্রামের সালাম মোল্লা ও তাঁর ভাই কাসেম মোল্লা গত ৬০ বছর পূর্বে মরহুম রিয়াজ উদ্দিনের নিকট থেকে ৩৯ শতাংশ জমির মধ্যে সাড়ে ১২ শতাংশ করে মোট ২৫ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে কাসেম মোল্লা তার ক্রয়কৃত ওই সাড়ে ১২ শতাংশ জমি স্থানীয় ব্যক্তির নিকট বিক্রি করে দেন। এরপরেও ওই জমিটি সালাম মোল্লা জোরপুর্বক দখল করে নিয়ে ফলজ, বনজ ও বাঁশ লাগান। এই জমিটি নিয়ে ইতিপুর্বে ১৫-১৬ বার সালিশী বৈঠকও হয়। বৈঠকগুলোতে সালাম মোল্লা কারো কোনো কথায় কর্ণপাত না করে জমিটি নিজ দখলে রাখেন। অবশেষে জমির মূল মালিকপক্ষ স্থানীয় জনসাধারণকে কবরস্থান হিসেবে ব্যবহারের জন্য বললে ওই জমিতে অন্তত ২০টি কবর দেয়া হয়। স্থানীয় এলাকাবাসী ওই জমিটি উদ্ধারের জন্য স্থানীয় ৫ জন প্রবীণ ব্যক্তিকে সালাম মোল্লার কাছে পাঠালে তিনি সে সময় প্রভাবশালী আওয়ামী লীগের নেতা হওয়ায় অকথ্য ভাষায় গালামন্দ করে সকলকে তাড়িয়ে দেন। সেই থেকেই স্থানীয় এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে ছিল। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর জমির মূল মালিক জমিটি উদ্ধারের জন্য স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদসহ সকলের দ্বারস্থ হন। এ নিয়ে কয়েকবার লাঠি ও দেশিয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে গত ২৯ জুন সোমবার সকালে স্থানীয় এলাকাবাসী সম্মিলিত হয়ে সালাম মোল্লার দখল করা অতিরিক্ত জমিতে লাগানো গাছ ও বাঁশ কেটে পুনঃদখল করে নেয় এবং সালাম মোল্লা ও তাঁর পরিবারকে প্রায় একঘরে করে রাখে।

স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান ফিজারসহ কয়েকজন জানান, স্থানীয়ভাবে অনেকবার এ বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে। একটি পক্ষ কারো কথায় কর্ণপাত না করার কারণে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান করা যায়নি।

অভিযোগকারী সালাম মোল্লা জানান, কাগজ বা দলিল না থাকলেও তিনি ওই জমিটি দীর্ঘদিন যাবত নিজ দখলে রেখেছেন। সেখানে প্রতিপক্ষ ও এলাকাবাসী একজোট হয়ে সকল গাছপালা ও বাঁশ কেটে নিয়ে দখল করে নিয়েছে।

থানার তদন্তকারি কর্মকর্তা এস আই সাজু ইসলাম বলেন, অভিযোগের আলোকে জমির মালিকানার সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে বাঁশ ও গাছপালা কেটে এলাকাবাসী কবরস্থান করার স্বার্থে পুনর্দখল করে নিয়েছে। উভয় পক্ষকে সংঘর্ষে না জড়ানোর জন্য পুলিশ প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে।

এ ঘটনায় উভয়পক্ষের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ও সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। জরুরীভিত্তিতে উভয়পক্ষের মধ্যে মিমাংসা না হলে যেকোনো মূর্হুতে রক্ষক্ষয়ী সংঘর্ষের সূত্রপাত হতে পারে বলে এলাকাবাসী আশঙ্কা করছেন।

জনপ্রিয়

চিরিরবন্দরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ সংঘর্ষের আশঙ্কা

প্রকাশের সময়: ০৯:৪২:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পুনট্টি ইউনিয়নের আমবাড়ি পাটুল গ্রামের সালাম মোল্লা নামের জনৈক ব্যক্তির দখলকৃত জমিতে লাগানো বাঁশ, ফলজ ও বনজ গাছ প্রতিপক্ষ মহসিন, আলতাফ, মোস্তাফিজারসহ কয়েকজন জোরপুর্বক কেটে ফেলেন। এতে আনুমানিক ৫৫ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন হয়েছে।

সরজমিন দেখা গেছে, উপজেলার পুনট্টি ইউনিয়নের আমবাড়ি পাটুল গ্রামের সালাম মোল্লা ও তাঁর ভাই কাসেম মোল্লা গত ৬০ বছর পূর্বে মরহুম রিয়াজ উদ্দিনের নিকট থেকে ৩৯ শতাংশ জমির মধ্যে সাড়ে ১২ শতাংশ করে মোট ২৫ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে কাসেম মোল্লা তার ক্রয়কৃত ওই সাড়ে ১২ শতাংশ জমি স্থানীয় ব্যক্তির নিকট বিক্রি করে দেন। এরপরেও ওই জমিটি সালাম মোল্লা জোরপুর্বক দখল করে নিয়ে ফলজ, বনজ ও বাঁশ লাগান। এই জমিটি নিয়ে ইতিপুর্বে ১৫-১৬ বার সালিশী বৈঠকও হয়। বৈঠকগুলোতে সালাম মোল্লা কারো কোনো কথায় কর্ণপাত না করে জমিটি নিজ দখলে রাখেন। অবশেষে জমির মূল মালিকপক্ষ স্থানীয় জনসাধারণকে কবরস্থান হিসেবে ব্যবহারের জন্য বললে ওই জমিতে অন্তত ২০টি কবর দেয়া হয়। স্থানীয় এলাকাবাসী ওই জমিটি উদ্ধারের জন্য স্থানীয় ৫ জন প্রবীণ ব্যক্তিকে সালাম মোল্লার কাছে পাঠালে তিনি সে সময় প্রভাবশালী আওয়ামী লীগের নেতা হওয়ায় অকথ্য ভাষায় গালামন্দ করে সকলকে তাড়িয়ে দেন। সেই থেকেই স্থানীয় এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে ছিল। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর জমির মূল মালিক জমিটি উদ্ধারের জন্য স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদসহ সকলের দ্বারস্থ হন। এ নিয়ে কয়েকবার লাঠি ও দেশিয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে গত ২৯ জুন সোমবার সকালে স্থানীয় এলাকাবাসী সম্মিলিত হয়ে সালাম মোল্লার দখল করা অতিরিক্ত জমিতে লাগানো গাছ ও বাঁশ কেটে পুনঃদখল করে নেয় এবং সালাম মোল্লা ও তাঁর পরিবারকে প্রায় একঘরে করে রাখে।

স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান ফিজারসহ কয়েকজন জানান, স্থানীয়ভাবে অনেকবার এ বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে। একটি পক্ষ কারো কথায় কর্ণপাত না করার কারণে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান করা যায়নি।

অভিযোগকারী সালাম মোল্লা জানান, কাগজ বা দলিল না থাকলেও তিনি ওই জমিটি দীর্ঘদিন যাবত নিজ দখলে রেখেছেন। সেখানে প্রতিপক্ষ ও এলাকাবাসী একজোট হয়ে সকল গাছপালা ও বাঁশ কেটে নিয়ে দখল করে নিয়েছে।

থানার তদন্তকারি কর্মকর্তা এস আই সাজু ইসলাম বলেন, অভিযোগের আলোকে জমির মালিকানার সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে বাঁশ ও গাছপালা কেটে এলাকাবাসী কবরস্থান করার স্বার্থে পুনর্দখল করে নিয়েছে। উভয় পক্ষকে সংঘর্ষে না জড়ানোর জন্য পুলিশ প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে।

এ ঘটনায় উভয়পক্ষের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ও সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। জরুরীভিত্তিতে উভয়পক্ষের মধ্যে মিমাংসা না হলে যেকোনো মূর্হুতে রক্ষক্ষয়ী সংঘর্ষের সূত্রপাত হতে পারে বলে এলাকাবাসী আশঙ্কা করছেন।