রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কচুর লতিতে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন কৃষকের

Oplus_131072

মো. রফিকুল ইসলাম: স্বল্প সময়ে, স্বল্প খরচে বেশি লাভ ‘লতিরাজ’ কচু চাষে। ভালো ফলন, সুস্বাদু এবং বাজারে চাহিদার কারণে দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এই লতিরাজ কচু চাষ। ‘লতিরাজ’ কচুর একটি উন্নত জাত। যা স্বাদ ও পুষ্টিগুণে অনন্য হওয়ায় স্থানীয়ভাবে গরীবের পুষ্টিকর সব্জি হিসেবেও পরিচিত রয়েছে। চাষে ভালো ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় কৃষকরা এখন এ জাতের কচু চাষ করে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছেন। দিনাজপুর জেলার মধ্যে খানসামা উপজেলায় সবচেয়ে বেশি চাষও হয় এই ‘লতিরাজ’ কচু।

স্থানীয় কয়েকজন কৃষক জানান, ‘লতিরাজ’ কচুর লতি, পাতা ও কন্দ তিনটিই কাজে লাগে। লতি ও কন্দ সব্জি হিসেবে এবং পাতা শাক হিসেবে খাওয়া যায়। কেউ কেই এর পাতা দিয়ে জৈব সারও তৈরি করছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্পের সহযোগিতায় নিরাপদ এই সব্জি চাষ করে সফলতা পেয়েছেন উপজেলার গোয়ালডিহি ইউনিয়নের দুবলিয়া গ্রামের কৃষক মুকুল চন্দ্র রায়।

সরজমিন দেখা গেছে, কচুখেতে কৃষক মুকুল চন্দ্র রায় ‘লতিরাজ’ কচুর লতি সংগ্রহ করছেন। সবুজ মাঠজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কচু গাছে ভরপুর লতি। চাষি মুকুল চন্দ্র রায় জানান, কৃষি বিভাগের পরামর্শক্রমে গত বছরের অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময়ে কুমিল্লা থেকে সংগ্রহ করা বারি-১ জাতের ৭ হাজার লতিরাজ কচুর চারা ৫০ শতক জমিতে রোপণ করেন। রোপণের ৬০ থেকে ৬৫ দিনের মধ্যে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে লতি বিক্রি শুরু করেন। বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে ৫ থেকে ৬ মণ কচুর লতি উত্তোলন করে বাজারজাত করছেন তিনি। মৌসুমজুড়ে লতি বিক্রি করে অন্তত ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা আয় হবে বলে আশা করছেন। এছাড়া মৌসুম শেষে কচুর কন্দ বিক্রি করেও আরও অন্তত অর্ধ লাখ টাকা আয় হবে। তিনি আরও জানান, কচু চাষে ৫০ শতক জমি প্রস্তুত থেকে কর্তন পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে অন্তত ১ লাখ টাকা। তুলনামূলক স্বল্প খরচ, শ্রম আর ভালো মুনাফা সবমিলিয়ে এটি তার জন্য লাভজনক ফসলে পরিণত হয়েছে। আগামীতে ‘লতিরাজ’ কচু চাষ বৃদ্ধি করবেন বলে তিনি জানান।

স্থানীয় কয়েকজন কৃষক জানান, ‘লতিরাজ’ কচুর লতি, পাতা ও কন্দ তিনটিই কাজে লাগে। লতি ও কন্দ সব্জি হিসেবে এবং পাতা শাক হিসেবে খাওয়া যায়। কেউ কেউ পাতা দিয়ে জৈব সারও তৈরি করছেন।

উপজেলার গোয়ালডিহি ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা গোপাল রায় বলেন, স্বল্প সময়ে ভালো ফলন, স্বাদে সুস্বাদু ও বাজারে চাহিদার কারণে এ জাতের কচু চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে আমরা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছি।

খানসামা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার বলেন, কন্দাল ফসল প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের লতিরাজ কচু চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। ভালো ফলন ও বাজারে চাহিদার কারণে চাষিরা আগ্রহ দেখাচ্ছেন। ভালো বাজারদরও পাচ্ছেন। সঠিকভাবে নির্দেশনা অনুসরণে কচু চাষে দেশজুড়ে নতুন দিগন্ত উম্মোচিত হবে।

জনপ্রিয়

কচুর লতিতে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন কৃষকের

প্রকাশের সময়: ০৫:১২:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ জুলাই ২০২৫

মো. রফিকুল ইসলাম: স্বল্প সময়ে, স্বল্প খরচে বেশি লাভ ‘লতিরাজ’ কচু চাষে। ভালো ফলন, সুস্বাদু এবং বাজারে চাহিদার কারণে দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এই লতিরাজ কচু চাষ। ‘লতিরাজ’ কচুর একটি উন্নত জাত। যা স্বাদ ও পুষ্টিগুণে অনন্য হওয়ায় স্থানীয়ভাবে গরীবের পুষ্টিকর সব্জি হিসেবেও পরিচিত রয়েছে। চাষে ভালো ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় কৃষকরা এখন এ জাতের কচু চাষ করে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছেন। দিনাজপুর জেলার মধ্যে খানসামা উপজেলায় সবচেয়ে বেশি চাষও হয় এই ‘লতিরাজ’ কচু।

স্থানীয় কয়েকজন কৃষক জানান, ‘লতিরাজ’ কচুর লতি, পাতা ও কন্দ তিনটিই কাজে লাগে। লতি ও কন্দ সব্জি হিসেবে এবং পাতা শাক হিসেবে খাওয়া যায়। কেউ কেই এর পাতা দিয়ে জৈব সারও তৈরি করছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্পের সহযোগিতায় নিরাপদ এই সব্জি চাষ করে সফলতা পেয়েছেন উপজেলার গোয়ালডিহি ইউনিয়নের দুবলিয়া গ্রামের কৃষক মুকুল চন্দ্র রায়।

সরজমিন দেখা গেছে, কচুখেতে কৃষক মুকুল চন্দ্র রায় ‘লতিরাজ’ কচুর লতি সংগ্রহ করছেন। সবুজ মাঠজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কচু গাছে ভরপুর লতি। চাষি মুকুল চন্দ্র রায় জানান, কৃষি বিভাগের পরামর্শক্রমে গত বছরের অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময়ে কুমিল্লা থেকে সংগ্রহ করা বারি-১ জাতের ৭ হাজার লতিরাজ কচুর চারা ৫০ শতক জমিতে রোপণ করেন। রোপণের ৬০ থেকে ৬৫ দিনের মধ্যে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে লতি বিক্রি শুরু করেন। বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে ৫ থেকে ৬ মণ কচুর লতি উত্তোলন করে বাজারজাত করছেন তিনি। মৌসুমজুড়ে লতি বিক্রি করে অন্তত ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা আয় হবে বলে আশা করছেন। এছাড়া মৌসুম শেষে কচুর কন্দ বিক্রি করেও আরও অন্তত অর্ধ লাখ টাকা আয় হবে। তিনি আরও জানান, কচু চাষে ৫০ শতক জমি প্রস্তুত থেকে কর্তন পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে অন্তত ১ লাখ টাকা। তুলনামূলক স্বল্প খরচ, শ্রম আর ভালো মুনাফা সবমিলিয়ে এটি তার জন্য লাভজনক ফসলে পরিণত হয়েছে। আগামীতে ‘লতিরাজ’ কচু চাষ বৃদ্ধি করবেন বলে তিনি জানান।

স্থানীয় কয়েকজন কৃষক জানান, ‘লতিরাজ’ কচুর লতি, পাতা ও কন্দ তিনটিই কাজে লাগে। লতি ও কন্দ সব্জি হিসেবে এবং পাতা শাক হিসেবে খাওয়া যায়। কেউ কেউ পাতা দিয়ে জৈব সারও তৈরি করছেন।

উপজেলার গোয়ালডিহি ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা গোপাল রায় বলেন, স্বল্প সময়ে ভালো ফলন, স্বাদে সুস্বাদু ও বাজারে চাহিদার কারণে এ জাতের কচু চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে আমরা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছি।

খানসামা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার বলেন, কন্দাল ফসল প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের লতিরাজ কচু চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। ভালো ফলন ও বাজারে চাহিদার কারণে চাষিরা আগ্রহ দেখাচ্ছেন। ভালো বাজারদরও পাচ্ছেন। সঠিকভাবে নির্দেশনা অনুসরণে কচু চাষে দেশজুড়ে নতুন দিগন্ত উম্মোচিত হবে।