রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ধান ক্ষেত পরিচর্যায় বেড়েছে নারী শ্রমিকের কদর

গাইবান্ধা জেলার নিভৃত গ্রামাঞ্চলের মাঠজুড়ে কৃষকরা রোপন করেছেন বোরো ধানচারা। রোপণকৃত এ ক্ষেত হলদে বর্ণ থেকে এখন সবুজে পরিণত হয়েছে। অধিক ফলন পাবার আশায় ইতোমধ্যে কৃষকরা ধান ক্ষেত পরিচর্যা করতে মাঠে নেমেছে। আর এই পরিচর্যা কাজে পুরুষের তুলনায় কদর বেড়েছে নারী শ্রমিকদের।

সরেজমিনে  গাইবান্ধার মাঠপর্যায়ে দেখা যায়, কৃষকদের ধান ক্ষেত পরিচর্যায় চরম ব্যস্ত সময় পার করছিলেন একদল নারী শ্রমিক। তারা সারিবদ্ধভাবে ধানগাছের ফাঁকে বসে দুইহাতে উপরে ফেলছিলেন আগাছাগুলো।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, বন্যা প্রবণ জেলা গাইবান্ধা। প্রতি বছরে বন্যার কারণে এ জেলার নিম্নাঞ্চলের কৃষকরা ক্ষেত থেকে আমন ধান ঘরে তুলতে পারে না। যদিও কিছু ফসল পান, সেটি আশানুরূপ নয়।ফলে ইরি-বোরো মৌসুমে কোমর বেঁধে বোরো ধান চাষবাদে মাঠে নেমে পড়েন এখানকার কৃষক। এই সোনালী ফসল ঘরে তুলে এক বছরের খাদ্য চাহিদা মিটিয়ে পরিবারের মৌলিক চাহিদাও মেটানোর চেষ্টা করে তারা। এ বছরেও তা ব্যর্তয় ঘটেনি।গত বছরের দীর্ঘস্থায়ী বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এ বছর অধিক জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রথম দফায় সার-কিটনাশক প্রয়োগ শেষে দ্বিতীয় দফায় পরিচর্যা (নিড়ানী) কাজ শুরু করা হয়। এ কাজে পুরুষ শ্রমিকের মজুরী বেশী থাকায়, সেটি নারী শ্রমিক দিয়ে করানো হচ্ছে।এ কারণে নারী শ্রমিকদের কদর বেড়েছে অনেকটাই।দরিদ্র-ছিন্নমূল পরিবারের এসব নারীরা সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরে আনতে অন্যের জমিতে কাজ করে যাচ্ছে দৃঢ় মনোবল নিয়ে।

সম্প্রতি গাইবান্ধার বিস্তৃর্ণ মাঠজুড়ে বোরো ফসলের ক্ষেত এখন গাঢ় সবুজের বিপ্লব। নজর কাড়ছে সবুজের সমাহারে। ফাল্গুণের দখিনা হাওয়ায় ধানগাছের পাতায় দুলছে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে অধিক ফলন ঘরে তুলতে পারবে বলে এমনটাই আশা করছেন কৃষকরা।

ফুলছড়ির এলাকার কৃষক আজহার আলী জানান, গত বছরে ৫ বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছিল। গেল বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এ বছরে ৬ বিঘাতে চাষাবাদ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ধান ক্ষেত পরিচর্যায় পুরুষ শ্রমিকের মজুরী বেশী থাকায় কম মজুরীতে নারী শ্রমিক দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে।অধিকাংশ কৃষকের একযোগে পরিচর্যার সময়ে নারী শ্রমিকের সংকটও দেখা দিয়েছে।

সাঘাটা এলাকার শ্রমিক মেহেন্নেকা বেগম বলেন, স্বামী-সন্তান নিয়ে দরিদ্রের কষাঘাতে ভুগতে হচ্ছিল। তাই সংসারের অভাব ঘোচানোর জন্য স্বামীর পাশাপাশি অন্যের জমিতে কাজ করে যাচ্ছি। এতে করে ধীরে ধীরে আর্থিক স্বচ্ছলতা ফির আনতে সক্ষম হচ্ছি।

সুন্দরগঞ্জের আরেক শ্রমিক মরিয়ম বেগম জাগো২৪.নেট-কে জানান, একজন পুরুষ শ্রমিকের দৈনিক মজুরী ৩০০ টাকা। সেখানে নারী শ্রমিকের ২০০ টাকা মজুরী দিচ্ছেন কৃষকরা। এতে করে মজুরী বৈষম্যের শিকার হতে হচ্ছে।

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ পরিচালক মাসুদুর রহমান  জাগো২৪.নেট-কে জানান, চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে গাইবান্ধা জেলায় এক লাখ ২৫ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেটি অর্জিত হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশী পরিমাণে। এসব জমিতে সার-কিটনাশক প্রয়োগসহ এখন পরিচর্যা কাজ চলছে পুরোদমে।

 

জনপ্রিয়

ধান ক্ষেত পরিচর্যায় বেড়েছে নারী শ্রমিকের কদর

প্রকাশের সময়: ০৭:১৫:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ মার্চ ২০২১

গাইবান্ধা জেলার নিভৃত গ্রামাঞ্চলের মাঠজুড়ে কৃষকরা রোপন করেছেন বোরো ধানচারা। রোপণকৃত এ ক্ষেত হলদে বর্ণ থেকে এখন সবুজে পরিণত হয়েছে। অধিক ফলন পাবার আশায় ইতোমধ্যে কৃষকরা ধান ক্ষেত পরিচর্যা করতে মাঠে নেমেছে। আর এই পরিচর্যা কাজে পুরুষের তুলনায় কদর বেড়েছে নারী শ্রমিকদের।

সরেজমিনে  গাইবান্ধার মাঠপর্যায়ে দেখা যায়, কৃষকদের ধান ক্ষেত পরিচর্যায় চরম ব্যস্ত সময় পার করছিলেন একদল নারী শ্রমিক। তারা সারিবদ্ধভাবে ধানগাছের ফাঁকে বসে দুইহাতে উপরে ফেলছিলেন আগাছাগুলো।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, বন্যা প্রবণ জেলা গাইবান্ধা। প্রতি বছরে বন্যার কারণে এ জেলার নিম্নাঞ্চলের কৃষকরা ক্ষেত থেকে আমন ধান ঘরে তুলতে পারে না। যদিও কিছু ফসল পান, সেটি আশানুরূপ নয়।ফলে ইরি-বোরো মৌসুমে কোমর বেঁধে বোরো ধান চাষবাদে মাঠে নেমে পড়েন এখানকার কৃষক। এই সোনালী ফসল ঘরে তুলে এক বছরের খাদ্য চাহিদা মিটিয়ে পরিবারের মৌলিক চাহিদাও মেটানোর চেষ্টা করে তারা। এ বছরেও তা ব্যর্তয় ঘটেনি।গত বছরের দীর্ঘস্থায়ী বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এ বছর অধিক জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রথম দফায় সার-কিটনাশক প্রয়োগ শেষে দ্বিতীয় দফায় পরিচর্যা (নিড়ানী) কাজ শুরু করা হয়। এ কাজে পুরুষ শ্রমিকের মজুরী বেশী থাকায়, সেটি নারী শ্রমিক দিয়ে করানো হচ্ছে।এ কারণে নারী শ্রমিকদের কদর বেড়েছে অনেকটাই।দরিদ্র-ছিন্নমূল পরিবারের এসব নারীরা সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরে আনতে অন্যের জমিতে কাজ করে যাচ্ছে দৃঢ় মনোবল নিয়ে।

সম্প্রতি গাইবান্ধার বিস্তৃর্ণ মাঠজুড়ে বোরো ফসলের ক্ষেত এখন গাঢ় সবুজের বিপ্লব। নজর কাড়ছে সবুজের সমাহারে। ফাল্গুণের দখিনা হাওয়ায় ধানগাছের পাতায় দুলছে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে অধিক ফলন ঘরে তুলতে পারবে বলে এমনটাই আশা করছেন কৃষকরা।

ফুলছড়ির এলাকার কৃষক আজহার আলী জানান, গত বছরে ৫ বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছিল। গেল বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এ বছরে ৬ বিঘাতে চাষাবাদ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ধান ক্ষেত পরিচর্যায় পুরুষ শ্রমিকের মজুরী বেশী থাকায় কম মজুরীতে নারী শ্রমিক দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে।অধিকাংশ কৃষকের একযোগে পরিচর্যার সময়ে নারী শ্রমিকের সংকটও দেখা দিয়েছে।

সাঘাটা এলাকার শ্রমিক মেহেন্নেকা বেগম বলেন, স্বামী-সন্তান নিয়ে দরিদ্রের কষাঘাতে ভুগতে হচ্ছিল। তাই সংসারের অভাব ঘোচানোর জন্য স্বামীর পাশাপাশি অন্যের জমিতে কাজ করে যাচ্ছি। এতে করে ধীরে ধীরে আর্থিক স্বচ্ছলতা ফির আনতে সক্ষম হচ্ছি।

সুন্দরগঞ্জের আরেক শ্রমিক মরিয়ম বেগম জাগো২৪.নেট-কে জানান, একজন পুরুষ শ্রমিকের দৈনিক মজুরী ৩০০ টাকা। সেখানে নারী শ্রমিকের ২০০ টাকা মজুরী দিচ্ছেন কৃষকরা। এতে করে মজুরী বৈষম্যের শিকার হতে হচ্ছে।

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ পরিচালক মাসুদুর রহমান  জাগো২৪.নেট-কে জানান, চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে গাইবান্ধা জেলায় এক লাখ ২৫ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেটি অর্জিত হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশী পরিমাণে। এসব জমিতে সার-কিটনাশক প্রয়োগসহ এখন পরিচর্যা কাজ চলছে পুরোদমে।