তোফায়েল হোসেন জাকির: পৌষের ঘন কুয়াশা আর উত্তরের হিমেল হাওয়ায় গাইবান্ধা সাদুল্লাপুর উপজেলাজুড়ে বেড়েছে শীতের প্রকোপ। তীব্র এই শীতের কবল মানুষের পাশাপাশি কাঁপছে গবাদী পশু-পাখিও। এসব প্রাণি রক্ষায় গাঁয়ে মুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে- কম্বল। তবু থামছে না কাঁপুনি। শীতে কাবু এসব গরু-ছাগল নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন গৃহস্থরা।
স্থানীয়রা বলছেন- বিশেষ করে খামারের প্রাণির শীতজনিত রোগের আশঙ্কা করছেন খামারীরা। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে প্রাণিসম্পদ বিভাগের কোন সহযোগিতা পাচ্ছেন না বলে তাদের অভিযোগ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পৌষের প্রথম সপ্তাহ এসে সাদুল্লাপুর উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে শীতের তীব্রতা বেড়েই চলেছে। কনকনে শীতে যবুথবু হয়ে পড়ছে মানুষসহ পশুপাখি। এ অঞ্চলে কয়েকদিন ধরে সূর্য্যের মূখ দেখা মেলে না। চারদিকে ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকছে। সেই সঙ্গে উত্তরের মৃদু হিমেল হাওয়া বইছে। দিনশেষে রাত ঘনিয়ে আসার সাথে সাথেই বাড়তে থাকে কুয়াশার দাপট। যেন বৃষ্টির মতো ঝড়ছে এসব কুয়াশা। এ কারণে বেড়েই চলেছে শীতের তীব্রতা। কনকনে এই ঠান্ডায় যবুথবু হওয়া পশুপাখিগুলো নাজেহাল হয়ে পড়ছে। এ নিয়ে শীতজনিত নানা রোগের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শিউলি আক্তার নামের গৃহবধূ জানান, তার স্বামী নুরুল ইসলাম পেশায় একজন দিনমজুর। এনজিও ঋণের টাকায় একটি বকনা বাছুর কিনেছেন। সেটির প্রজনন থেকে এখন তার ২টি গরু হয়েছে। এ থেকে দিনবদলের স্বপ্ন দেখছেন। কিন্তু এরই মধ্যে শীতে দাপটে ওইসব প্রাণি রক্ষায় চরম দুশ্চিনতায় আছেন তিনি।
শাহাদৎ হোসেন নামের এক কৃষক বলেন, গরু-ছাগল লালন-পালন করেই সংসার চালাই। কিন্তু গত কয়েক দিনের ঠান্ডায় এসব প্রাণি কাবু হয়ে পড়ছে। কম্বল মুড়িয়ে দিয়েও কাজ হচ্ছে না। এ নিয়ে প্রাণিম্পদ বিভাগে জানানো হলেও সঠিক কোন পরামর্শ পাওয়া যায়নি।
উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (সম্প্রসারণ) আব্দুল মোনায়েম খন্দকার বলেন, শীতকালে গরু-ছাগল পালনে যত্নশীল হতে হবে। বিশেষ করে ছাগলের ঘরে ঠান্ডা বাতাস যেন না ঢোকে, রাতে যেন তাপমাত্রা কোনভাবেই কমে না আসে সে ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে। সেইসঙ্গে পানীয় পানে হালকা গরম পানি দিলে ভালো হয়।
সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. আব্দুল্লাহেল কাফী বলেন, পশুপাখি যেনো শীত আক্রান্ত না হয়, সেব্যাপারে কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
তোফায়েল হোসেন জাকির, জাগো২৪.নেট 
























