শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শ্বশুর-শাশুরিকে বাহিরে রেখে ঘরে তালা ঝুলিয়ে দিলেন শিক্ষিকা সোমা

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার বয়স্ক দম্পতি মাহবুব ইসলাম দোলন (৭৫) ও হাছনা বেগমকে (৭০) বাহিরে রেখে ঘরে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন ছেলে হাসানুর রহমানের স্কুল শিক্ষিকা স্ত্রী সোমা আক্তার। অমানবিক এ ঘটনার অভিযোগ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও থানাকে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে বুধবার (৭ জানুয়ারি) পলাশবাড়ী উপজেলার মহদীপুর ইউনিয়নের ঝালীঙ্গি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঝালীঙ্গি গ্রামের বৃদ্ধ মাহবুব ইসলাম দোলনের কাছ থেকে সুকৌশলে জমি লিখে নেয় তার একমাত্র ছেলে হাসানুর রহমান। এরপর হাসানুর রহমান ও তার স্ত্রী সোমা আক্তার ওই বয়স্ক দম্পতির সঙ্গে প্রায়ই দুর্ব্যবহার করাসহ ভরণপোষণ বন্ধ এবং শারীরিক-মানসিক নির্যাতন করে আসছিলেন। এরই একপর্যায়ে বুধবার বিকেলের দিকে অসুস্থ অবস্থায় ওষুধ কিনতে বাড়ির বাইরে যান বয়স্ক দম্পতি। সেই সুযোগে তাদের একমাত্র পুত্রবধূ সাঁতারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সোমা আক্তার তার বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়ির শয়নকক্ষে ঢুকে তাদের শীতকালীন ব্যবহৃত লেপ, তোষক, কাঁথা, কম্বল, বালিশসহ প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র বাইরে বের করে ঘরে তালা লাগিয়ে দেন। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এরপর ভুক্তভোগী মাহবুব ইসলাম দোলন প্রতিকার চেয়ে ইউএনও বরাবর অভিযোগ দাখিল করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সোমা আক্তার বলেন, শ্বশুর-শাশুরিকে বের করে দেওয়া কিংবা ঘরে তালা দেওয়ার ঘটনায় আমি কোনভাবেই জড়িত নই। আমাকে হেনস্তা করার জন্য এমন ঘটনা পরিকল্পিত।

মহদীপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আজাদুল সরকার বলেন, কিছুদিন আগে একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছেলে এবং বাবা-মা’র মধ্যে বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে উত্তেজনা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে একাধিকবার দেন দরবার-করা হয়েছে।

পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জাবের আহমেদ বলেন, বৃদ্ধ মাহবুব ইসলাম দোলনের অভিযোগের প্রক্ষিতে বুধবার রাতে  ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়। এসময় অভিযোগের সত্যতা পরিলক্ষিত হয়। এমন অমানবিক কাজ করার জন্য অভিযুক্ত সোমা আক্তারের নামে মামলা রুজুসহ অধিকতর তদন্তের জন্য ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বয়স্ক এই দম্পতির আইনী যাবতীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় গ্রামপুলিশ ও প্যানেল চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

জনপ্রিয়

শ্বশুর-শাশুরিকে বাহিরে রেখে ঘরে তালা ঝুলিয়ে দিলেন শিক্ষিকা সোমা

প্রকাশের সময়: ০৬:৪৮:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার বয়স্ক দম্পতি মাহবুব ইসলাম দোলন (৭৫) ও হাছনা বেগমকে (৭০) বাহিরে রেখে ঘরে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন ছেলে হাসানুর রহমানের স্কুল শিক্ষিকা স্ত্রী সোমা আক্তার। অমানবিক এ ঘটনার অভিযোগ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও থানাকে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে বুধবার (৭ জানুয়ারি) পলাশবাড়ী উপজেলার মহদীপুর ইউনিয়নের ঝালীঙ্গি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঝালীঙ্গি গ্রামের বৃদ্ধ মাহবুব ইসলাম দোলনের কাছ থেকে সুকৌশলে জমি লিখে নেয় তার একমাত্র ছেলে হাসানুর রহমান। এরপর হাসানুর রহমান ও তার স্ত্রী সোমা আক্তার ওই বয়স্ক দম্পতির সঙ্গে প্রায়ই দুর্ব্যবহার করাসহ ভরণপোষণ বন্ধ এবং শারীরিক-মানসিক নির্যাতন করে আসছিলেন। এরই একপর্যায়ে বুধবার বিকেলের দিকে অসুস্থ অবস্থায় ওষুধ কিনতে বাড়ির বাইরে যান বয়স্ক দম্পতি। সেই সুযোগে তাদের একমাত্র পুত্রবধূ সাঁতারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সোমা আক্তার তার বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়ির শয়নকক্ষে ঢুকে তাদের শীতকালীন ব্যবহৃত লেপ, তোষক, কাঁথা, কম্বল, বালিশসহ প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র বাইরে বের করে ঘরে তালা লাগিয়ে দেন। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এরপর ভুক্তভোগী মাহবুব ইসলাম দোলন প্রতিকার চেয়ে ইউএনও বরাবর অভিযোগ দাখিল করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সোমা আক্তার বলেন, শ্বশুর-শাশুরিকে বের করে দেওয়া কিংবা ঘরে তালা দেওয়ার ঘটনায় আমি কোনভাবেই জড়িত নই। আমাকে হেনস্তা করার জন্য এমন ঘটনা পরিকল্পিত।

মহদীপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আজাদুল সরকার বলেন, কিছুদিন আগে একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছেলে এবং বাবা-মা’র মধ্যে বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে উত্তেজনা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে একাধিকবার দেন দরবার-করা হয়েছে।

পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জাবের আহমেদ বলেন, বৃদ্ধ মাহবুব ইসলাম দোলনের অভিযোগের প্রক্ষিতে বুধবার রাতে  ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়। এসময় অভিযোগের সত্যতা পরিলক্ষিত হয়। এমন অমানবিক কাজ করার জন্য অভিযুক্ত সোমা আক্তারের নামে মামলা রুজুসহ অধিকতর তদন্তের জন্য ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বয়স্ক এই দম্পতির আইনী যাবতীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় গ্রামপুলিশ ও প্যানেল চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।