শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধায় ছাত্রশক্তি থেকে পদত্যাগের ব্যাখ্যা দিয়ে সংগঠকের স্ট্যাটাস

জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির অঙ্গসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির গাইবান্ধা জেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটিতে অতনু সাহা নামের এক তরুণকে সংগঠক পদে রাখা হয়েছে। আর এই কমিটিটি প্রকাশ হওয়ার পর পদ থেকে পদত্যাগের লক্ষ্যে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন অতনু সাহা।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) Atonu Saha নামের ফেসবুক একাউন্টে পদত্যাগের ব্যাখ্যা দিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি।

এই স্ট্যাটাসে উল্লেখ করা হয়- বাংলাদেশে জুলাই পরবর্তী সময়ে অভ্যুত্থানের ধারাকে সঠিক পথে রাখতে এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশার দেশ গঠনে সর্বপ্রথম গঠিত হয় অরাজনৈতিক সংগঠন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। অতঃপর এই আকাঙ্ক্ষা-প্রত্যাশার সঠিক বাস্তবায়ন করতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির সমন্বয়ে গঠিত হয় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। যা একটি রাজনৈতিক সংগঠন।

জুলাইয়ের যেই প্রত্যাশা-আকাঙ্ক্ষা ও আর্দশকে ধারণ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর জন্ম হয়। ইতিমধ্যেই তার অনেকাংশেই ব্যতয় হয়েছে। দেশের বেশকিছু জেলা কমিটিতে তারা এমন কিছু মানুষজনকে পুর্নবাসিত করে যারা ফ্যাসিবাদের দোসর, ফ্যাসিস্টের সঙ্গী। যাদের কারণে চব্বিশের জুলাই-আগস্টে প্রাণ হারানোর পাশাপাশি পুঙ্গুত্ব বরণ করেছে আমার অসংখ্য ভাই-বোনেরা। ইতিমধ্যে ২ ডিসেম্বর গঠিত এনসিপি গাইবান্ধা জেলা কমিটির আহ্বায়ককে ফ্যাসিস্ট কাঠামোর অংশ হিসেবে আখ্যা দিয়ে আমি-আমার সহযোদ্ধা ও অনুসারীরা সবাই মিলে প্রতিবাদস্বরূপ এনসিপি গাইবান্ধা জেলা অস্থায়ী কার্যালয়ে তালাও দিয়েছিলাম। সেই কমিটি মেরুদণ্ডহীন অবস্থায় আজও বহাল আছে।

যেই খাদেমুল ইসলাম খুদির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলাম। তার আওতায় থেকে এনসিপির ছাত্র সংগঠন অর্থাৎ জাতীয় ছাত্রশক্তির হয়ে কাজ করা গাইবান্ধা জেলায় আমার পক্ষে সম্ভব না।

তাই জুলাইয়ের সকল শহীদ-আহত-পুঙ্গুত্ব বরণকারী আমার ভাই-বোনদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান রেখে আমি অতনু সাহা, জাতীয় ছাত্রশক্তি গাইবান্ধা জেলা কমিটি থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করছি।

পরবর্তীতে কখনো যদি মনে হয় এনসিপি তাদের আর্দশে অটল থাকতে পেরেছে, তখন আমি এনসিপির হয়ে রাজনীতিতে আসার বেপারে পুনরায় চিন্তা-ভাবনা করবো।

এ বিষয়ে অতনু সাহা বলেন, জাতীয় ছাত্রশক্তি গাইবান্ধা জেলা কমিটি প্রকাশের আগে কমিটির দায়িত্বশীলদের কেউ-ই কমিটির বিষয়ে আমার সাথে যোগাযোগ করেনি এবং আমার নাম যেন প্রকাশ করা না হয় এব্যাপারেও আমি তাদের একাধিকবার জানিয়ে রেখেছিলাম। মূল সংগঠন এনসিপিতে ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুর্নবাসন, ছাত্রশক্তি জেলা কমিটি প্রকাশের পূর্বে অবগত না করা এবং কমিটিতে থাকার ব্যাপারে মতামত না থাকার পরেও আমার নাম প্রকাশের কারণে এই কমিটি থেকে আমি পদত্যাগ করেছি।

জনপ্রিয়

গাইবান্ধায় ছাত্রশক্তি থেকে পদত্যাগের ব্যাখ্যা দিয়ে সংগঠকের স্ট্যাটাস

প্রকাশের সময়: ০৬:৩৪:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির অঙ্গসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির গাইবান্ধা জেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটিতে অতনু সাহা নামের এক তরুণকে সংগঠক পদে রাখা হয়েছে। আর এই কমিটিটি প্রকাশ হওয়ার পর পদ থেকে পদত্যাগের লক্ষ্যে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন অতনু সাহা।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) Atonu Saha নামের ফেসবুক একাউন্টে পদত্যাগের ব্যাখ্যা দিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি।

এই স্ট্যাটাসে উল্লেখ করা হয়- বাংলাদেশে জুলাই পরবর্তী সময়ে অভ্যুত্থানের ধারাকে সঠিক পথে রাখতে এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশার দেশ গঠনে সর্বপ্রথম গঠিত হয় অরাজনৈতিক সংগঠন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। অতঃপর এই আকাঙ্ক্ষা-প্রত্যাশার সঠিক বাস্তবায়ন করতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির সমন্বয়ে গঠিত হয় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। যা একটি রাজনৈতিক সংগঠন।

জুলাইয়ের যেই প্রত্যাশা-আকাঙ্ক্ষা ও আর্দশকে ধারণ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর জন্ম হয়। ইতিমধ্যেই তার অনেকাংশেই ব্যতয় হয়েছে। দেশের বেশকিছু জেলা কমিটিতে তারা এমন কিছু মানুষজনকে পুর্নবাসিত করে যারা ফ্যাসিবাদের দোসর, ফ্যাসিস্টের সঙ্গী। যাদের কারণে চব্বিশের জুলাই-আগস্টে প্রাণ হারানোর পাশাপাশি পুঙ্গুত্ব বরণ করেছে আমার অসংখ্য ভাই-বোনেরা। ইতিমধ্যে ২ ডিসেম্বর গঠিত এনসিপি গাইবান্ধা জেলা কমিটির আহ্বায়ককে ফ্যাসিস্ট কাঠামোর অংশ হিসেবে আখ্যা দিয়ে আমি-আমার সহযোদ্ধা ও অনুসারীরা সবাই মিলে প্রতিবাদস্বরূপ এনসিপি গাইবান্ধা জেলা অস্থায়ী কার্যালয়ে তালাও দিয়েছিলাম। সেই কমিটি মেরুদণ্ডহীন অবস্থায় আজও বহাল আছে।

যেই খাদেমুল ইসলাম খুদির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলাম। তার আওতায় থেকে এনসিপির ছাত্র সংগঠন অর্থাৎ জাতীয় ছাত্রশক্তির হয়ে কাজ করা গাইবান্ধা জেলায় আমার পক্ষে সম্ভব না।

তাই জুলাইয়ের সকল শহীদ-আহত-পুঙ্গুত্ব বরণকারী আমার ভাই-বোনদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান রেখে আমি অতনু সাহা, জাতীয় ছাত্রশক্তি গাইবান্ধা জেলা কমিটি থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করছি।

পরবর্তীতে কখনো যদি মনে হয় এনসিপি তাদের আর্দশে অটল থাকতে পেরেছে, তখন আমি এনসিপির হয়ে রাজনীতিতে আসার বেপারে পুনরায় চিন্তা-ভাবনা করবো।

এ বিষয়ে অতনু সাহা বলেন, জাতীয় ছাত্রশক্তি গাইবান্ধা জেলা কমিটি প্রকাশের আগে কমিটির দায়িত্বশীলদের কেউ-ই কমিটির বিষয়ে আমার সাথে যোগাযোগ করেনি এবং আমার নাম যেন প্রকাশ করা না হয় এব্যাপারেও আমি তাদের একাধিকবার জানিয়ে রেখেছিলাম। মূল সংগঠন এনসিপিতে ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুর্নবাসন, ছাত্রশক্তি জেলা কমিটি প্রকাশের পূর্বে অবগত না করা এবং কমিটিতে থাকার ব্যাপারে মতামত না থাকার পরেও আমার নাম প্রকাশের কারণে এই কমিটি থেকে আমি পদত্যাগ করেছি।