রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফলোআপ: শিশুর খাদ্য চাহিদা পুরণে দুশ্চিন্তায় মা

Digital Camera

ছিন্নমূল পরিবারের প্রসূতি নারী রোকসানা বেগম(২৩)।দাম্পত্য জীবনে কোলজুড়ে জন্ম নেয় ফুটফুটে কন্যা সন্তান।বুকের দুধ না পাওয়ায় এ শিশুকে খাওয়াতে হচ্ছে বাড়তি খাবার। কিন্তু স্বামীর বঞ্চনায় আর বাবার অর্থ সংকট। যার ফলে শিশুটির খাদ্য চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছেন। এ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়ছে প্রসূতি রোকসানা ও তার পিতা-মাতা।

সোমবার (১৫ মার্চ) সকালে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রোকসানা বেগম গাইবান্ধার সন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের ধনিয়ারকুড়া গ্রামের রিকশা চালক লুৎফর রহমানের মেয়ে। প্রায় নয় মাস আগে বিয়ে হয় সাদুল্লাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের প্রতাপ গ্রামের মাহাবুর আলীর ছেলে রাজা মিয়ার সঙ্গে। এ বিয়ের পর থেকে স্বামী-শ্বশুর-শাশুরির নানা লাঞ্চনা-বঞ্চনা সহ্য করে আসছিলেন। এরই মধ্যে ৮ মার্চ রংপুরের একটি ক্লিনিকে সিজারিয়াশিনের মাধ্যমে কন্যা সন্তানের জন্ম দেয় রোকসানা। এসময়ে খোঁজ রাখেনি স্বামী রাজা মিয়া ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন। ক্লিনিকের বিল পরিশোধ  করবেন, এমন অর্থও যোগান নিয়ে হতাশায় ভুগছিলেন। তবু মন গলেনি রাজা মিয়ার। বাধ্য হয়ে বাবা লুৎফর রহমান ঢাকায় রিকশা চালিয়ে ও বিভিন্নভাবে ঋণ করে রোকসানাকে রিলিজ করতে হয়। এরপর ১১ মার্চ দুপুরে ফুটফুটে শিশুকে নিয়ে স্বামীর বাড়িতে উঠবেন, এমন বুকভরা আশা নিয়ে ক্লিনিক থেকে ছুটে আসেন রোকসানা। এসেই দেখেন শ্বশুর বাড়ির গেইটে তালা। সেখানে ঘটে নানা কাহিনী। তারপরও শিশু কন্যাকে নিয়ে রোকসানার ঠাঁই হয়নি শ্বশুর বাড়ি। অবশেষে পুলিশের সহায়তায় ফিরতে হয়েছে বাবার বাড়িতে। যেন মড়ার উপর খাড়ার ঘা। একদিকে স্বামীর বঞ্চনা, অন্যদিকে দরিদ্র পিতার অভাব অনটন। এখন কীভাবে চিকিৎসাসেবা হবে রোকসানার। কীভাবে বাঁচাবে শিশু কন্যাকে। এ নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন প্রসূতির পরিবার। শিশুটি না পাচ্ছে ঠিকমতো বুকের দুধ। না পাচ্ছে বাড়তি খাবার। তবুও সন্তানকে বাঁচানোর চেষ্টায় স্বজনদের কাছ থেকে টাকা ধার-দেনা করে চলছিল। সেটিও প্রায় শেষের দিকে। এখন নিরুপায় হয়ে শিশুকে কোলে নিয়ে ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে থাকছে রোকসানা। দরিদ্রতার কষাঘাতে রোকসানা ও শিশুটির চিকিৎসাসেবা এবং ভালো খাদ্য চাহিদা পুরণে হিমসিম খাচেছন পিতা লুৎফর রহমান।

রোকসানার মা ফাতেমা বেগম বলেন, বিয়ের নয় মাসের মধ্যে একমাত্র মেয়ে জামাইকে ঋণ করে ৮০ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে। তাদের সুখের সংসারের জন্য এই টাকা দিয়ে সহযোগিতা করা হয়। এসব ঋণের ঘানি টানতে না টানতেই স্বামী-শ্বশুরের নানা বঞ্চনার শিকার হতে হলো রোকসানকে। বিদ্যমান পরিস্থিতে অর্থাভাবে প্রসূতি ও শিশুর খাদ্য ঘাটতি পুরণে আটকে গেছি।

শ্বশুর মাহাবুর আলী বলেন, পুত্রবধূ রোকসানার চরিত্র নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় বিয়ের ২২ দিনের মাথায় তাকে তালাকের জন্য এ্যাফিডেভিট করেছে ছেলে রাজা মিয়া। আর সেইদিন ক্লিনিক থেকে রোকসানা আমাদের বাড়িতে আসছিলো কিন্তু বাড়িতে কেউ না থাকায় পুলিশের সহায়তা শিশুকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যায়।

সাদুল্লাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুদ রানা জানান, ওইদিন রাজা মিয়ার বাড়ির উঠান থেকে নবজাতকসহ রোকসানাকে উদ্ধার করে তার পিতার বাড়ি সুন্দরগঞ্জে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে এখনো কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।

জনপ্রিয়

ফলোআপ: শিশুর খাদ্য চাহিদা পুরণে দুশ্চিন্তায় মা

প্রকাশের সময়: ০২:১৩:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ মার্চ ২০২১

ছিন্নমূল পরিবারের প্রসূতি নারী রোকসানা বেগম(২৩)।দাম্পত্য জীবনে কোলজুড়ে জন্ম নেয় ফুটফুটে কন্যা সন্তান।বুকের দুধ না পাওয়ায় এ শিশুকে খাওয়াতে হচ্ছে বাড়তি খাবার। কিন্তু স্বামীর বঞ্চনায় আর বাবার অর্থ সংকট। যার ফলে শিশুটির খাদ্য চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছেন। এ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়ছে প্রসূতি রোকসানা ও তার পিতা-মাতা।

সোমবার (১৫ মার্চ) সকালে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রোকসানা বেগম গাইবান্ধার সন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের ধনিয়ারকুড়া গ্রামের রিকশা চালক লুৎফর রহমানের মেয়ে। প্রায় নয় মাস আগে বিয়ে হয় সাদুল্লাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের প্রতাপ গ্রামের মাহাবুর আলীর ছেলে রাজা মিয়ার সঙ্গে। এ বিয়ের পর থেকে স্বামী-শ্বশুর-শাশুরির নানা লাঞ্চনা-বঞ্চনা সহ্য করে আসছিলেন। এরই মধ্যে ৮ মার্চ রংপুরের একটি ক্লিনিকে সিজারিয়াশিনের মাধ্যমে কন্যা সন্তানের জন্ম দেয় রোকসানা। এসময়ে খোঁজ রাখেনি স্বামী রাজা মিয়া ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন। ক্লিনিকের বিল পরিশোধ  করবেন, এমন অর্থও যোগান নিয়ে হতাশায় ভুগছিলেন। তবু মন গলেনি রাজা মিয়ার। বাধ্য হয়ে বাবা লুৎফর রহমান ঢাকায় রিকশা চালিয়ে ও বিভিন্নভাবে ঋণ করে রোকসানাকে রিলিজ করতে হয়। এরপর ১১ মার্চ দুপুরে ফুটফুটে শিশুকে নিয়ে স্বামীর বাড়িতে উঠবেন, এমন বুকভরা আশা নিয়ে ক্লিনিক থেকে ছুটে আসেন রোকসানা। এসেই দেখেন শ্বশুর বাড়ির গেইটে তালা। সেখানে ঘটে নানা কাহিনী। তারপরও শিশু কন্যাকে নিয়ে রোকসানার ঠাঁই হয়নি শ্বশুর বাড়ি। অবশেষে পুলিশের সহায়তায় ফিরতে হয়েছে বাবার বাড়িতে। যেন মড়ার উপর খাড়ার ঘা। একদিকে স্বামীর বঞ্চনা, অন্যদিকে দরিদ্র পিতার অভাব অনটন। এখন কীভাবে চিকিৎসাসেবা হবে রোকসানার। কীভাবে বাঁচাবে শিশু কন্যাকে। এ নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন প্রসূতির পরিবার। শিশুটি না পাচ্ছে ঠিকমতো বুকের দুধ। না পাচ্ছে বাড়তি খাবার। তবুও সন্তানকে বাঁচানোর চেষ্টায় স্বজনদের কাছ থেকে টাকা ধার-দেনা করে চলছিল। সেটিও প্রায় শেষের দিকে। এখন নিরুপায় হয়ে শিশুকে কোলে নিয়ে ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে থাকছে রোকসানা। দরিদ্রতার কষাঘাতে রোকসানা ও শিশুটির চিকিৎসাসেবা এবং ভালো খাদ্য চাহিদা পুরণে হিমসিম খাচেছন পিতা লুৎফর রহমান।

রোকসানার মা ফাতেমা বেগম বলেন, বিয়ের নয় মাসের মধ্যে একমাত্র মেয়ে জামাইকে ঋণ করে ৮০ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে। তাদের সুখের সংসারের জন্য এই টাকা দিয়ে সহযোগিতা করা হয়। এসব ঋণের ঘানি টানতে না টানতেই স্বামী-শ্বশুরের নানা বঞ্চনার শিকার হতে হলো রোকসানকে। বিদ্যমান পরিস্থিতে অর্থাভাবে প্রসূতি ও শিশুর খাদ্য ঘাটতি পুরণে আটকে গেছি।

শ্বশুর মাহাবুর আলী বলেন, পুত্রবধূ রোকসানার চরিত্র নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় বিয়ের ২২ দিনের মাথায় তাকে তালাকের জন্য এ্যাফিডেভিট করেছে ছেলে রাজা মিয়া। আর সেইদিন ক্লিনিক থেকে রোকসানা আমাদের বাড়িতে আসছিলো কিন্তু বাড়িতে কেউ না থাকায় পুলিশের সহায়তা শিশুকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যায়।

সাদুল্লাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুদ রানা জানান, ওইদিন রাজা মিয়ার বাড়ির উঠান থেকে নবজাতকসহ রোকসানাকে উদ্ধার করে তার পিতার বাড়ি সুন্দরগঞ্জে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে এখনো কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।