শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুন্দরগঞ্জে আগুনে পুড়লো ১৪ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে খড় শুকানোর বিরোধে রাতের আধারে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। এতে ১৪ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই। নগদ অর্থসহ প্রায় অর্ধকোটি টাকার মালামাল ভস্মীভূত হয়েছে বলে জানান ক্ষতিগ্রস্থরা।
শনিবার ভোর রাতে উপজেলার শান্তিরাম ইউনিয়নের ফোরকানিয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটেছে।
খবর পেয়ে সুন্দরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন মুদি ব্যবসায়ী মো. লেবু মিয়া। তার দোকানের প্রায় পনের লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। এছাড়া মো. আজিজুর মিয়া (লালটু) পরিচালিত মুদি ও ভ্যারাইটিজ স্টোরে প্রায় আট লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
অন্যদের মধ্যে মো. শহিদুল ইসলামের টি-স্টলে এক লাখ টাকা, মো. আব্দুল মোহাইমেনের ওষুধের দোকানে দেড় লাখ টাকা, মো. আনওয়ারুল ইসলামের ওষুধের দোকানে এক লাখ টাকা, মো. কামরুজ্জামান আকন্দের ওষুধের দোকানে এক হাজার টাকা, মো. নওশা মিয়ার মুদি দোকানে এক লাখ ২০ হাজার টাকা, মো. আল আমিন মিয়ার টেলিকম ব্যবসায় এক লাখ টাকা, মো. মসলিম আলীর কাঁচামালের দোকানে ৯০ হাজার টাকা, মো. আল আমিন মিয়ার কফি হাউজ ও কনফেকশনারিতে এক লাখ টাকা এবং মো. আব্দুর রশিদের মুদি দোকানে ৮০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এছাড়া মো. জাহিদুল ইসলামের কীটনাশক ও সারের দোকানে ৭০ হাজার টাকা, মো. আব্দুল রহমানের কাঁচামালের দোকানে ৮০ হাজার টাকা এবং মো. নুরুল ইসলামের কাঁচামালের দোকানে ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সব মিলিয়ে প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় অর্ধকোটি টাকারও বেশি। স্থানীয়দের দাবি, দোকানের পাশাপাশি কিছু ঘরবাড়িও আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ফলে বাস্তব ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, ধানের খড় (পল) শুকানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। তাদের সন্দেহ, ওই বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগানো হয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে তারা কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দেখাতে পারেননি। বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
প্রত্যক্ষদর্শী মো. মিজানুর রহমান (২৮) জানান, আনুমানিক ভোর চার টার দিকে পটপট শব্দে ঘুম ভাঙ্গে। এসে দেখি আগুন দাউদাউ করে জ্বলছে। পরে ঘর মালিকের ফোন দেই। পরে সবাই এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালান। ফায়ার সার্ভিসকে ফোন দেই। ১০ মিনিটের রাস্তা ১ ঘন্টা পরে আসেন তারা। ততক্ষণে পুড়ে ছাই।
নান্টু স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. আজিজুর রহমান বলেন, ‘এর আগেও আমার দোকানে কয়েকবার চুরি হয়েছিল। নগদ টাকা ও মালামাল চুরি করে নিয়ে গিয়েছিল দুর্বৃত্তরা। এবার আগুনে দোকানের সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বহু বছরের কষ্টে গড়ে তোলা ব্যবসা মুহূর্তের মধ্যে শেষ হয়ে গেল। এনআরবিসি ও ব্যাক ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংক লোন আছে। পরিবার কিভাবে চলবে আর কিস্তি কি ভাবে দিবো। এখন আমি একেবারেই নিঃস্ব হয়ে গেলাম।’
সুন্দরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার মো. লিটন বলেন, ‘ভোর ৩টা ৪০ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাই। পরে সকাল ৫টা ০৩ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি। আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।’
শান্তিরাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবিএম মিজানুর রহমান খোকন বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তালিকা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও ব্যবসায়ীদের সহায়তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।’
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, ‘বিষয়টি জানতে পেরেছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহায়তার জন্য চেষ্টা করা হবে।’
জনপ্রিয়

পাবনা-ঢাকা ট্রেন চলাচল আগস্টে চালু হচ্ছে : রেল ও সেতুমন্ত্রী

সুন্দরগঞ্জে আগুনে পুড়লো ১৪ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান

প্রকাশের সময়: ০৮:৪০:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে খড় শুকানোর বিরোধে রাতের আধারে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। এতে ১৪ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই। নগদ অর্থসহ প্রায় অর্ধকোটি টাকার মালামাল ভস্মীভূত হয়েছে বলে জানান ক্ষতিগ্রস্থরা।
শনিবার ভোর রাতে উপজেলার শান্তিরাম ইউনিয়নের ফোরকানিয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটেছে।
খবর পেয়ে সুন্দরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন মুদি ব্যবসায়ী মো. লেবু মিয়া। তার দোকানের প্রায় পনের লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। এছাড়া মো. আজিজুর মিয়া (লালটু) পরিচালিত মুদি ও ভ্যারাইটিজ স্টোরে প্রায় আট লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
অন্যদের মধ্যে মো. শহিদুল ইসলামের টি-স্টলে এক লাখ টাকা, মো. আব্দুল মোহাইমেনের ওষুধের দোকানে দেড় লাখ টাকা, মো. আনওয়ারুল ইসলামের ওষুধের দোকানে এক লাখ টাকা, মো. কামরুজ্জামান আকন্দের ওষুধের দোকানে এক হাজার টাকা, মো. নওশা মিয়ার মুদি দোকানে এক লাখ ২০ হাজার টাকা, মো. আল আমিন মিয়ার টেলিকম ব্যবসায় এক লাখ টাকা, মো. মসলিম আলীর কাঁচামালের দোকানে ৯০ হাজার টাকা, মো. আল আমিন মিয়ার কফি হাউজ ও কনফেকশনারিতে এক লাখ টাকা এবং মো. আব্দুর রশিদের মুদি দোকানে ৮০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এছাড়া মো. জাহিদুল ইসলামের কীটনাশক ও সারের দোকানে ৭০ হাজার টাকা, মো. আব্দুল রহমানের কাঁচামালের দোকানে ৮০ হাজার টাকা এবং মো. নুরুল ইসলামের কাঁচামালের দোকানে ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সব মিলিয়ে প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় অর্ধকোটি টাকারও বেশি। স্থানীয়দের দাবি, দোকানের পাশাপাশি কিছু ঘরবাড়িও আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ফলে বাস্তব ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, ধানের খড় (পল) শুকানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। তাদের সন্দেহ, ওই বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগানো হয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে তারা কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দেখাতে পারেননি। বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
প্রত্যক্ষদর্শী মো. মিজানুর রহমান (২৮) জানান, আনুমানিক ভোর চার টার দিকে পটপট শব্দে ঘুম ভাঙ্গে। এসে দেখি আগুন দাউদাউ করে জ্বলছে। পরে ঘর মালিকের ফোন দেই। পরে সবাই এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালান। ফায়ার সার্ভিসকে ফোন দেই। ১০ মিনিটের রাস্তা ১ ঘন্টা পরে আসেন তারা। ততক্ষণে পুড়ে ছাই।
নান্টু স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. আজিজুর রহমান বলেন, ‘এর আগেও আমার দোকানে কয়েকবার চুরি হয়েছিল। নগদ টাকা ও মালামাল চুরি করে নিয়ে গিয়েছিল দুর্বৃত্তরা। এবার আগুনে দোকানের সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বহু বছরের কষ্টে গড়ে তোলা ব্যবসা মুহূর্তের মধ্যে শেষ হয়ে গেল। এনআরবিসি ও ব্যাক ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংক লোন আছে। পরিবার কিভাবে চলবে আর কিস্তি কি ভাবে দিবো। এখন আমি একেবারেই নিঃস্ব হয়ে গেলাম।’
সুন্দরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার মো. লিটন বলেন, ‘ভোর ৩টা ৪০ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাই। পরে সকাল ৫টা ০৩ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি। আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।’
শান্তিরাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবিএম মিজানুর রহমান খোকন বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তালিকা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও ব্যবসায়ীদের সহায়তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।’
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, ‘বিষয়টি জানতে পেরেছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহায়তার জন্য চেষ্টা করা হবে।’