গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ইসবপুর দ্বি-মূখী ইসলামীয়া দাখিল মাদরাসার সুপার মুহা. রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ ওঠার পরও বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর সীমাহীন অভিযোগের তথ্য-প্রমাণ থাকলেও দীর্ঘ এক বছরেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যার কারনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকসহ স্থানীয় সচেতন মহল।
সম্প্রতি ওই মাদরাসায় গিয়ে দেখা যায়, সুপার রেজাউল করিমের নানা অপকর্মের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সামাবেশ কর্মসূচি পালন করছে এলাকাবাসী। তাঁর দীর্ঘ অনুপস্থিত আর দুর্নীতির কারনে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ইসবপুর দ্বি-মূখী ইসলামীয়া দাখিল মাদরাসায় সুপার মুহা. রেজাউল করিম গোপনে অবৈধভাবে পরিচালনা কমিটি গঠনসহ বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তী এই কমিটি বাতিল করে শিক্ষাবোর্ড। সেইসঙ্গে শিক্ষকদের বেতন স্কেল বৃদ্ধির নামে টাকা গ্রহণ ও জেনারেল ফান্ডের অর্থ আতসাত করেছেন তিনি। এছাড়াও একাধিক শিক্ষক-কর্মচারীকে শোকজ দিয়ে লাখ লাখ টাকা তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়ে সেই শোকজ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন তিনি।
শুধু তায় নয়, অভিযুক্ত সুপারের ছেলে তানভীরুল ইসলামকে ২০২৫ সালে একইসাথে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার্থী দেখিয়ে প্রক্সির মাধ্যমে তাকে পাস করিয়ে নিয়েছে। আর এই ছেলেকে কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পাঁয়তারা করছে এই সুপার। একইসঙ্গে টানা দুই মাসের হাজিরা স্বাক্ষর একইদিনে সম্পাদন করার অভিযোগও রয়েছে। আর ভুয়া কমিটি বাতিল হলেও গত ৬ মাস ধরে কমিটি গঠন করা হয়নি। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের নামীয় জমি লিজের নামে অর্থ আত্নসাতের ঘটনাও রয়েছে। এসব অভিযোগ লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বিভাগ ও ইউএনও’র কাছে জমা দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক বলেন, দুর্নীতির অভিযোগ থাকা কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রধানের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত হওয়া উচিত। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, অন্যথায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাবে।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানান, অভিযোগের কারণে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি হলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবার জন্যই ইতিবাচক হবে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাদরাসা সুপারের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, ওই সুপারের বিরুদ্ধে সর্বশেষ গত মাসে ইউএনওর বরাবরে অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। কিন্তু এই অভিযোগ তিনি আমলে না নিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন ভাতা ছাড় করছেন। যা খুবই রহস্যজনক।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার হারুন অর রশিদ বলেন, কয়েক মাস আগে সুপার রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছে। অভিযোগের সঠিকতা আছে বলে তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।
এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান বলেন, ওই সুপারের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগের বিষয়টি জানা নেই। প্রতিষ্ঠানটির বেতনভাতা ছাড় করা হচ্ছে।
করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট 















