রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বর্ষাকালে বেড়েছে ছাতা মেরামতের ব্যস্ততা

আষাঢ়-শ্রাবণ বর্ষাকাল হলেও বৈশাখ থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত ঘনঘন বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে। এই ৬ মাসের যেকোনো সময় বৃষ্টি আসতে পারে। তাই বৃষ্টি আসার কথা ভেবে বাড়ি থেকে বের হবার সময় ছাতা নিয়ে বের হতে হয়। সেই ছাতা পুরাতন বা নতুন হতেই পারে। আর ছাতার সমস্যা হলেই মেরামতের জন্য কারিগর দরকার হয়। ছাতা মেরামতের কারিগররাও বর্ষাকালকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। এদিকটা লক্ষ্য রেখে প্রতিবছরের মতো এবারও বর্ষাকালের শুরুতেই বগুড়ার নন্দীগ্রামে বেড়েছে ছাতা মেরামতের কারিগরদের ব্যস্ততা। নন্দীগ্রাম উপজেলার নন্দীগ্রাম হাট, কুন্দারহাট, ওমরপুর হাট ও রণবাঘা হাটসহ নন্দীগ্রাম বাসস্ট্যান্ড এবং পুরাতন বাজার এলাকায় স্থায়ী ও মৌসুমী ছাতা মেরামতের কারিগরদের ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা যাচ্ছে। পুরোনো ছাতার শিক পরিবর্তন, হাতল লাগানো, কাপড় বদলানো ও বিভিন্ন ধরনের মেরামতের কাজ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন তাঁরা। মঙ্গলবার সরেজমিনে নন্দীগ্রাম হাট, নন্দীগ্রাম বাসস্ট্যান্ড ও পুরাতন বাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বৃষ্টির কারণে অনেকেই নতুন ছাতা না কিনে পুরোনো ছাতা মেরামত করে নিচ্ছেন। ফলে বর্ষাকালকে কেন্দ্র করে বেড়েছে ছাতা মেরামতের কারিগরদের কাজের চাপ। বিশেষ করে হাটের দিনগুলোতে গ্রাহকদের ভিড় বেশি থাকছে।

নন্দীগ্রাম উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের দোহার গ্রামের মোহাম্মদ আলী (৬৫) প্রায় ৩০ বছর ধরে ছাতা মেরামতের কাজ করছেন। ৫ সন্তানের জনক মোহাম্মদ আলী জানান, বছরের প্রায় ৬ মাস এই কাজের ওপর নির্ভর করেন তিনি। বাকি সময় কৃষি কাজ করেন। সপ্তাহে চারদিন বিভিন্ন হাটে ছাতা মেরামতের কাজ করেন এবং অন্যদিনগুলোতে বাজার এলাকায় বসে ছাতা মেরামত করেন। তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুম এলেই কাজের চাপ বেড়ে যায়। সপ্তাহে চারটি হাটে কাজ করি। প্রতিটি হাটে ছাতা মেরামতের উপকরণ বিক্রি ও মজুরি বাবদ প্রায় ২ হাজার টাকা পাই। উপকরণের দাম বাদ দিয়ে সপ্তাহে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা আয় হয়ে থাকে। এই আয় দিয়েই সংসার চালাই। কুন্দারহাট এলাকার জাহিদুল ইসলাম (৫৫) মূলত গ্যাস লাইটসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিকসামগ্রী মেরামতের কাজ করেন। বর্ষাকালে অতিরিক্ত আয়ের আশায় তিনি ছাতা মেরামতের কাজও করছেন। তিনি বলেন, বর্ষাকালে ছাতা মেরামতের চাহিদা বেড়ে যায়। তাই মূল কাজের পাশাপাশি এই কাজ করছি। এতে বাড়তি কিছু আয় হয়। পুরাতন ছাতা মেরামত করেত আসা নন্দীগ্রাম ইউনিয়নের দলগাছা গ্রামের আশরাফুল আলম বলেন, নতুন ভালো মানের ছাতার দাম বেশি। তাই কম খরচে পুরোনো ছাতা মেরামত করেই ব্যবহার করছি। নন্দীগ্রাম কলেজপাড়ার শরিফুল ইসলাম বলেন, একটি ভালোমানের নতুন ছাতা কিনতে ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা লাগে। সেখানে অল্প টাকায় পুরাতন ছাতা ঠিক করে নেওয়া যায়। তাই মেরামত করাই সাশ্রয়।

ছাতা মেরামতের কারিগররা জানান, ছাতার শিক পরিবর্তনে ৩০ থেকে ৬০ টাকা, হাতল লাগাতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা ও সম্পূর্ণ মেরামতে ৮০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। নতুন কাপড় লাগানোর খরচ আরও বেশি। নন্দীগ্রাম মডেল সারকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী আজম বলেন, আধুনিকতার ছোঁয়ায় অনেক পুরোনো পেশা হারিয়ে গেলেও বর্ষা এলেই ছাতা মেরামতের কারিগরদের প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে আসে। পুরোনো ছাতা মেরামতের মাধ্যমে তাঁরা যেমন সাধারণ মানুষের খরচ কমাচ্ছেন, তেমনি নিজেদের জীবিকার সংস্থানও করছেন। বর্ষার এই সময়ে বিভিন্ন হাট-বাজারে ছাতা মেরামতের কারিগরদের ব্যস্ততা যেনো গ্রামীণ জনজীবনের এক চিরচেনা দৃশ্য হয়ে উঠেছে। নন্দীগ্রাম উপজেলা শিল্প ও বণিক সমিতির কোষাধ্যক্ষ আলহাজ্ব মাহবুবুর রহমান বলেন, বর্ষা মৌসুম এলেই ছাতা মেরামতের সঙ্গে জড়িত কারিগরদের কাজের চাপ বেড়ে যায়। নতুন ছাতার দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষ এখন পুরাতন ছাতা মেরামতের দিকে ঝুঁকছেন। এতে একদিকে সাধারণ মানুষের খরচ কমছে, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের এই পেশার সঙ্গে জড়িত মানুষগুলোও জীবিকা নির্বাহের সুযোগ পাচ্ছেন।

জনপ্রিয়

বর্ষাকালে বেড়েছে ছাতা মেরামতের ব্যস্ততা

প্রকাশের সময়: ০৯:০৬:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

আষাঢ়-শ্রাবণ বর্ষাকাল হলেও বৈশাখ থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত ঘনঘন বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে। এই ৬ মাসের যেকোনো সময় বৃষ্টি আসতে পারে। তাই বৃষ্টি আসার কথা ভেবে বাড়ি থেকে বের হবার সময় ছাতা নিয়ে বের হতে হয়। সেই ছাতা পুরাতন বা নতুন হতেই পারে। আর ছাতার সমস্যা হলেই মেরামতের জন্য কারিগর দরকার হয়। ছাতা মেরামতের কারিগররাও বর্ষাকালকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। এদিকটা লক্ষ্য রেখে প্রতিবছরের মতো এবারও বর্ষাকালের শুরুতেই বগুড়ার নন্দীগ্রামে বেড়েছে ছাতা মেরামতের কারিগরদের ব্যস্ততা। নন্দীগ্রাম উপজেলার নন্দীগ্রাম হাট, কুন্দারহাট, ওমরপুর হাট ও রণবাঘা হাটসহ নন্দীগ্রাম বাসস্ট্যান্ড এবং পুরাতন বাজার এলাকায় স্থায়ী ও মৌসুমী ছাতা মেরামতের কারিগরদের ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা যাচ্ছে। পুরোনো ছাতার শিক পরিবর্তন, হাতল লাগানো, কাপড় বদলানো ও বিভিন্ন ধরনের মেরামতের কাজ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন তাঁরা। মঙ্গলবার সরেজমিনে নন্দীগ্রাম হাট, নন্দীগ্রাম বাসস্ট্যান্ড ও পুরাতন বাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বৃষ্টির কারণে অনেকেই নতুন ছাতা না কিনে পুরোনো ছাতা মেরামত করে নিচ্ছেন। ফলে বর্ষাকালকে কেন্দ্র করে বেড়েছে ছাতা মেরামতের কারিগরদের কাজের চাপ। বিশেষ করে হাটের দিনগুলোতে গ্রাহকদের ভিড় বেশি থাকছে।

নন্দীগ্রাম উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের দোহার গ্রামের মোহাম্মদ আলী (৬৫) প্রায় ৩০ বছর ধরে ছাতা মেরামতের কাজ করছেন। ৫ সন্তানের জনক মোহাম্মদ আলী জানান, বছরের প্রায় ৬ মাস এই কাজের ওপর নির্ভর করেন তিনি। বাকি সময় কৃষি কাজ করেন। সপ্তাহে চারদিন বিভিন্ন হাটে ছাতা মেরামতের কাজ করেন এবং অন্যদিনগুলোতে বাজার এলাকায় বসে ছাতা মেরামত করেন। তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুম এলেই কাজের চাপ বেড়ে যায়। সপ্তাহে চারটি হাটে কাজ করি। প্রতিটি হাটে ছাতা মেরামতের উপকরণ বিক্রি ও মজুরি বাবদ প্রায় ২ হাজার টাকা পাই। উপকরণের দাম বাদ দিয়ে সপ্তাহে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা আয় হয়ে থাকে। এই আয় দিয়েই সংসার চালাই। কুন্দারহাট এলাকার জাহিদুল ইসলাম (৫৫) মূলত গ্যাস লাইটসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিকসামগ্রী মেরামতের কাজ করেন। বর্ষাকালে অতিরিক্ত আয়ের আশায় তিনি ছাতা মেরামতের কাজও করছেন। তিনি বলেন, বর্ষাকালে ছাতা মেরামতের চাহিদা বেড়ে যায়। তাই মূল কাজের পাশাপাশি এই কাজ করছি। এতে বাড়তি কিছু আয় হয়। পুরাতন ছাতা মেরামত করেত আসা নন্দীগ্রাম ইউনিয়নের দলগাছা গ্রামের আশরাফুল আলম বলেন, নতুন ভালো মানের ছাতার দাম বেশি। তাই কম খরচে পুরোনো ছাতা মেরামত করেই ব্যবহার করছি। নন্দীগ্রাম কলেজপাড়ার শরিফুল ইসলাম বলেন, একটি ভালোমানের নতুন ছাতা কিনতে ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা লাগে। সেখানে অল্প টাকায় পুরাতন ছাতা ঠিক করে নেওয়া যায়। তাই মেরামত করাই সাশ্রয়।

ছাতা মেরামতের কারিগররা জানান, ছাতার শিক পরিবর্তনে ৩০ থেকে ৬০ টাকা, হাতল লাগাতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা ও সম্পূর্ণ মেরামতে ৮০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। নতুন কাপড় লাগানোর খরচ আরও বেশি। নন্দীগ্রাম মডেল সারকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী আজম বলেন, আধুনিকতার ছোঁয়ায় অনেক পুরোনো পেশা হারিয়ে গেলেও বর্ষা এলেই ছাতা মেরামতের কারিগরদের প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে আসে। পুরোনো ছাতা মেরামতের মাধ্যমে তাঁরা যেমন সাধারণ মানুষের খরচ কমাচ্ছেন, তেমনি নিজেদের জীবিকার সংস্থানও করছেন। বর্ষার এই সময়ে বিভিন্ন হাট-বাজারে ছাতা মেরামতের কারিগরদের ব্যস্ততা যেনো গ্রামীণ জনজীবনের এক চিরচেনা দৃশ্য হয়ে উঠেছে। নন্দীগ্রাম উপজেলা শিল্প ও বণিক সমিতির কোষাধ্যক্ষ আলহাজ্ব মাহবুবুর রহমান বলেন, বর্ষা মৌসুম এলেই ছাতা মেরামতের সঙ্গে জড়িত কারিগরদের কাজের চাপ বেড়ে যায়। নতুন ছাতার দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষ এখন পুরাতন ছাতা মেরামতের দিকে ঝুঁকছেন। এতে একদিকে সাধারণ মানুষের খরচ কমছে, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের এই পেশার সঙ্গে জড়িত মানুষগুলোও জীবিকা নির্বাহের সুযোগ পাচ্ছেন।