রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুন্দরগঞ্জে কুড়িয়ে পাওয়া টাকা ফেরত দিয়ে সততার পরিচয় দিলেন যুবক

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে রাত একটার সময় কুড়িয়ে পাওয়া এক লাখ টাকা তার মালিকের কাছে ফেরত দিয়েছেন এক যুবক। এমনকি টাকা ফেরত দেয়ার জন্য রাত তিনটা পর্যন্ত পাগলের মতো টাকার প্রকৃত মালিককে খুঁজতে থাকেন সে। পরে কুড়িয়ে পাওয়া টাকা প্রকৃত মালিককে সেই গভীর রাতেই ফেরত দেন। টাকা ফিরিয়ে দেয়া সেই বিষ্ময়কর যুবকের নাম নুর আলম মিয়া নুর (২২)। উপজেলার পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের মীরগঞ্জ বাজারের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম আঃ মজিদ মিয়া।
জানা যায়, মঙ্গলবার (৯ মার্চ) রাত ১ টার দিকে নুর আলম, বড় ভাই শাহজাহান ও বন্ধু লিফনসহ মীরগঞ্জ বাজারে চা খাওয়ার জন্য চায়ের দোকানে আসেন। সেখানেই এসেই টাকার বান্ডিলটা পায়। তারপর সেই টাকাগুলো নিয়ে নিজের কাছে রেখে দিয়ে টাকার প্রকৃত মালিককে খুঁজতে থাকেন। এভাবেই খুঁজতেই তাদের পুরো দুই ঘন্টা সময় অতিবাহিত হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর তারা লক্ষ্য করেন তাদের পরিচিত এক বড় ভাই পাগলের মত কিছু খুঁজতেছিল পরে তার সাথে কথা বলে জানতে পারেন তারই এক লাখ টাকা হারিয়েছে ফেলেছে। সেই থেকে তিনি হন্য হয়ে প্রায় দুঘণ্টা যাবৎ হারিয়ে যাওয়া টাকা খুঁজছেন। সেদিন রাতে নুর আলমের বড় শাহজাহান ও বন্ধু লিফনের উপস্থিতিতে টাকার বিবরণ ঠিকঠাক মিল পাওয়ায় টাকার প্রকৃত মালিক অবুঝের হাতে সেই টাকা ফেরত দেন।
হারানো টাকা ফেরত পেয়ে উচ্ছ্বসিত শফিকুল ইসলাম অবুঝ বলেন, ‘বর্তমান সময়ে নুরের মতো লোকের বেশ অভাব রয়েছে। তিনি সততার এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। পৃথিবীতে এখনও সৎ মানুষ রয়েছে, যার প্রমাণ রাখলেন নুর মিয়া। এমন ব্যক্তির জন্যই সমাজ বা পৃথিবী এখনও টিকে আছে।’
কুড়িয়ে পাওয়া টাকা ফেরত দেয়ার ঘটনাটি  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ-আল-মারুফ ও থানা অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহিল জামান অবগত হওয়ার পর গত ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সেই বিষ্ময়কর যুবক নুর আলম নুরকে সততার স্বীকৃতি স্বরুপ ক্রেস্ট ও নগদ অর্থ প্রদান করেন।
কুড়িয়ে পাওয়া টাকা ফেরত দিয়ে সততার স্বীকৃতির পুরস্কার অর্জন করা সেই বিষ্ময়কর যুবক নুর আলম নুর বলেন, আমি পরিবার থেকেই সততা শিখেছি। আমি সত্যিই গর্বিত কুড়িয়ে পাওয়া টাকা ফেরত দিতে
পেরে। ভালো কিছু করলে যে তার প্রতিদান পাওয়া যায় তা প্রমাণিত।
জনপ্রিয়

সুন্দরগঞ্জে কুড়িয়ে পাওয়া টাকা ফেরত দিয়ে সততার পরিচয় দিলেন যুবক

প্রকাশের সময়: ০৬:৫৩:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ মার্চ ২০২১
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে রাত একটার সময় কুড়িয়ে পাওয়া এক লাখ টাকা তার মালিকের কাছে ফেরত দিয়েছেন এক যুবক। এমনকি টাকা ফেরত দেয়ার জন্য রাত তিনটা পর্যন্ত পাগলের মতো টাকার প্রকৃত মালিককে খুঁজতে থাকেন সে। পরে কুড়িয়ে পাওয়া টাকা প্রকৃত মালিককে সেই গভীর রাতেই ফেরত দেন। টাকা ফিরিয়ে দেয়া সেই বিষ্ময়কর যুবকের নাম নুর আলম মিয়া নুর (২২)। উপজেলার পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের মীরগঞ্জ বাজারের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম আঃ মজিদ মিয়া।
জানা যায়, মঙ্গলবার (৯ মার্চ) রাত ১ টার দিকে নুর আলম, বড় ভাই শাহজাহান ও বন্ধু লিফনসহ মীরগঞ্জ বাজারে চা খাওয়ার জন্য চায়ের দোকানে আসেন। সেখানেই এসেই টাকার বান্ডিলটা পায়। তারপর সেই টাকাগুলো নিয়ে নিজের কাছে রেখে দিয়ে টাকার প্রকৃত মালিককে খুঁজতে থাকেন। এভাবেই খুঁজতেই তাদের পুরো দুই ঘন্টা সময় অতিবাহিত হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর তারা লক্ষ্য করেন তাদের পরিচিত এক বড় ভাই পাগলের মত কিছু খুঁজতেছিল পরে তার সাথে কথা বলে জানতে পারেন তারই এক লাখ টাকা হারিয়েছে ফেলেছে। সেই থেকে তিনি হন্য হয়ে প্রায় দুঘণ্টা যাবৎ হারিয়ে যাওয়া টাকা খুঁজছেন। সেদিন রাতে নুর আলমের বড় শাহজাহান ও বন্ধু লিফনের উপস্থিতিতে টাকার বিবরণ ঠিকঠাক মিল পাওয়ায় টাকার প্রকৃত মালিক অবুঝের হাতে সেই টাকা ফেরত দেন।
হারানো টাকা ফেরত পেয়ে উচ্ছ্বসিত শফিকুল ইসলাম অবুঝ বলেন, ‘বর্তমান সময়ে নুরের মতো লোকের বেশ অভাব রয়েছে। তিনি সততার এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। পৃথিবীতে এখনও সৎ মানুষ রয়েছে, যার প্রমাণ রাখলেন নুর মিয়া। এমন ব্যক্তির জন্যই সমাজ বা পৃথিবী এখনও টিকে আছে।’
কুড়িয়ে পাওয়া টাকা ফেরত দেয়ার ঘটনাটি  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ-আল-মারুফ ও থানা অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহিল জামান অবগত হওয়ার পর গত ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সেই বিষ্ময়কর যুবক নুর আলম নুরকে সততার স্বীকৃতি স্বরুপ ক্রেস্ট ও নগদ অর্থ প্রদান করেন।
কুড়িয়ে পাওয়া টাকা ফেরত দিয়ে সততার স্বীকৃতির পুরস্কার অর্জন করা সেই বিষ্ময়কর যুবক নুর আলম নুর বলেন, আমি পরিবার থেকেই সততা শিখেছি। আমি সত্যিই গর্বিত কুড়িয়ে পাওয়া টাকা ফেরত দিতে
পেরে। ভালো কিছু করলে যে তার প্রতিদান পাওয়া যায় তা প্রমাণিত।