বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিলুপ্তির পথে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী খড়ের ঘর

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে খড়ের ছাউনির তৈরি করা ঘর।গ্রামবাংলা থেকে বিলুপ্ত প্রায় খড়ের ছাউনির তৈরি ঘর। কিছুদিন আগেও উপজেলার প্রতিটি পাড়া-মহল্লায়, গ্রাম-গঞ্জে সেই চিরচেনা খড়ের ছাউনির ঘরের প্রচলন ছিল ।বর্তমানে আধুনিকতার ছোঁয়ায় তা হারিয়ে যেতে বসেছে।
আধুনিকতার ছোঁয়ায় বর্তমানে খড়ের তৈরি ঘর বিলুপ্তির পথে বললেই চলে। বিগত কয়েক বছর আগেও যেখানে প্রতিটি গ্রাম-গঞ্জে ৪-৫টি খড়ের তৈরি ঘর চোখে পড়ত । বর্তমানে কয়েকটি গ্রাম বা পাড়া মহল্লা মিলেও সেই সময়ের খড়ের তৈরি ঘর তেমনটা আর চোখে পড়েনা।
আধুনিকতার ছোঁয়ায় বর্তমানে টিনের অত্যাধুনিক ব্যবহারের ফলে খড়ের ছাউনির তৈরি ঘর বিলুপ্ত হচ্ছে। তবে উপজেলার গ্রাম – গঞ্জে,পাড়া বা মহল্লার মাঝে মাঝে ২-১টি খড়ের ছাউনির ঘর দেখা যায়।

গ্রাম বাসীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আজ থেকে ২০-২৫ বছর আগেও গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়ীতে খড়ের ছাউনির ঘর ছিল। গ্রাম-গঞ্জের প্রতিটি মানুষ খড় দিয়ে ঘরের ছাউনি দিত। গরমের দিনে ঠান্ডা আর শীতের দিনে গরম, তাই তারা এই ঘরকে গরীবের এসি ঘর বলে।সমাজের বিত্তবানরা শখের বসে কখনও কখনও পাকা ঘরের চিলকোঠায় খড় ব্যবহার করতো।
আধুনিকতার ছোঁয়ায় এখন আর আমাদের বাড়ীতে খড়ের ঘর নেই। কিছুদিন আগে খড়ের ছাউনি ফেলে টিনের ছাউনি দেই। শীত ও গরমে উভয় দিনে খড়ের ছাউনির ঘর বেশ আরামদায়ক। এ ছাড়া ১ থেকে ২ বছর পরপর খড় পরিবর্তন করতে হয় বলে একে অনেকেই ঝামেলা মনে করে। সেই থেকে খড়ের ছাউনি ঘরের সংখ্যা কমতে শুরু করে। বর্তমানে এই ঘর খুব একটা চোখে পড়ে না। হারিয়ে যেতে বসেছে বাঙালির ঐতিহ্যের এই চিহ্নটি। হয়তো সেই দিন আর বেশি দুরে নয়, খড়ের ছাউনির ঘরের কথা মানুষের মন থেকে চিরতরে হারিয়ে যাবে। আর আগামী প্রজন্মের কাছে রূপকথার গল্প হয়ে থাকবে। আগামী প্রজম্ম রূপকথার গল্পে এই ঘরকে স্থান দিতে স্বাছন্দবোধ করবে।

খড়ের ঘর নিয়ে কথোপকথনের সময় জাগো২৪.নেট এর প্রতিবেদক কে শ্রীঃ দেবেন্দ্রনাথ বলেন, মানুষের আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নতির সাথে সাথে জীবন মানের ও উন্নয়ন সাধিত হয়েছে।বর্তমান সময়ে প্রজন্মের ধনী এবং মধ্যবিত্তরা পূর্ব পুরুষদের ঐতিহ্য বহনকারী খড়ের ঘর ভেঙে লোহা, সিমেন্টের বিলাসবহুল বাড়ি বানানোর দিকে বেশি ঝুঁকেই চলেছেন।সমাজের নিম্ন শ্রেণির মানুষগুলোর ততটা সামর্থ্য না থাকলে টিনের বেড়া আর টিনের চালা দিয়েও বানানো হচ্ছে ঝকমকে সুন্দর ঘরবাড়ি। আর তাতেই নাকি তাদের সম্মান আর করছেন শান্তির বসবাস।

উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের সাহাবাজ গ্রামের খড়ের ঘরের কারিগর জাফর মিয়া বলেন, খড়ের ঘর তৈরি করতে আমাদের সময় লাগত কয়েক দিন। স্বল্প ব্যয়ে তৈরি করা হতো এসব ঘর। আধুনিকতার দিনে খড়ের তৈরি এসব ঘর এখন আর চোখে পড়ে না। খড়ের ঘরগুলো গরমে থাকার জন্য বেশ আরামদায়ক গরমের দিনে ঠান্ডা থাকে খড়ের ঘরগুলো কিন্তু এখন আর তেমনটা চোখে পড়ে না খড়ের ঘর।

জানা গেছে, খড়ের ছাউনির ঘর তৈরির জন্য গ্রামে কিছু কারিগর ছিল। তাদের মজুরি ছিল ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। বিশেষ কায়দায় খড়কে সাজিয়ে কয়েকটি ধাপের মাধ্যমে ছাউনি দেয়া হতো। সাধারণত বন্যা, ভূমিকম্প, ঝড় কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এসব ঘর দীর্ঘদিন পর্যন্ত টিকে থাকে।

জনপ্রিয়

সুন্দরগঞ্জে দৈনিক করতোয়া পত্রিকার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন

বিলুপ্তির পথে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী খড়ের ঘর

প্রকাশের সময়: ১০:১৯:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ মার্চ ২০২১

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে খড়ের ছাউনির তৈরি করা ঘর।গ্রামবাংলা থেকে বিলুপ্ত প্রায় খড়ের ছাউনির তৈরি ঘর। কিছুদিন আগেও উপজেলার প্রতিটি পাড়া-মহল্লায়, গ্রাম-গঞ্জে সেই চিরচেনা খড়ের ছাউনির ঘরের প্রচলন ছিল ।বর্তমানে আধুনিকতার ছোঁয়ায় তা হারিয়ে যেতে বসেছে।
আধুনিকতার ছোঁয়ায় বর্তমানে খড়ের তৈরি ঘর বিলুপ্তির পথে বললেই চলে। বিগত কয়েক বছর আগেও যেখানে প্রতিটি গ্রাম-গঞ্জে ৪-৫টি খড়ের তৈরি ঘর চোখে পড়ত । বর্তমানে কয়েকটি গ্রাম বা পাড়া মহল্লা মিলেও সেই সময়ের খড়ের তৈরি ঘর তেমনটা আর চোখে পড়েনা।
আধুনিকতার ছোঁয়ায় বর্তমানে টিনের অত্যাধুনিক ব্যবহারের ফলে খড়ের ছাউনির তৈরি ঘর বিলুপ্ত হচ্ছে। তবে উপজেলার গ্রাম – গঞ্জে,পাড়া বা মহল্লার মাঝে মাঝে ২-১টি খড়ের ছাউনির ঘর দেখা যায়।

গ্রাম বাসীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আজ থেকে ২০-২৫ বছর আগেও গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়ীতে খড়ের ছাউনির ঘর ছিল। গ্রাম-গঞ্জের প্রতিটি মানুষ খড় দিয়ে ঘরের ছাউনি দিত। গরমের দিনে ঠান্ডা আর শীতের দিনে গরম, তাই তারা এই ঘরকে গরীবের এসি ঘর বলে।সমাজের বিত্তবানরা শখের বসে কখনও কখনও পাকা ঘরের চিলকোঠায় খড় ব্যবহার করতো।
আধুনিকতার ছোঁয়ায় এখন আর আমাদের বাড়ীতে খড়ের ঘর নেই। কিছুদিন আগে খড়ের ছাউনি ফেলে টিনের ছাউনি দেই। শীত ও গরমে উভয় দিনে খড়ের ছাউনির ঘর বেশ আরামদায়ক। এ ছাড়া ১ থেকে ২ বছর পরপর খড় পরিবর্তন করতে হয় বলে একে অনেকেই ঝামেলা মনে করে। সেই থেকে খড়ের ছাউনি ঘরের সংখ্যা কমতে শুরু করে। বর্তমানে এই ঘর খুব একটা চোখে পড়ে না। হারিয়ে যেতে বসেছে বাঙালির ঐতিহ্যের এই চিহ্নটি। হয়তো সেই দিন আর বেশি দুরে নয়, খড়ের ছাউনির ঘরের কথা মানুষের মন থেকে চিরতরে হারিয়ে যাবে। আর আগামী প্রজন্মের কাছে রূপকথার গল্প হয়ে থাকবে। আগামী প্রজম্ম রূপকথার গল্পে এই ঘরকে স্থান দিতে স্বাছন্দবোধ করবে।

খড়ের ঘর নিয়ে কথোপকথনের সময় জাগো২৪.নেট এর প্রতিবেদক কে শ্রীঃ দেবেন্দ্রনাথ বলেন, মানুষের আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নতির সাথে সাথে জীবন মানের ও উন্নয়ন সাধিত হয়েছে।বর্তমান সময়ে প্রজন্মের ধনী এবং মধ্যবিত্তরা পূর্ব পুরুষদের ঐতিহ্য বহনকারী খড়ের ঘর ভেঙে লোহা, সিমেন্টের বিলাসবহুল বাড়ি বানানোর দিকে বেশি ঝুঁকেই চলেছেন।সমাজের নিম্ন শ্রেণির মানুষগুলোর ততটা সামর্থ্য না থাকলে টিনের বেড়া আর টিনের চালা দিয়েও বানানো হচ্ছে ঝকমকে সুন্দর ঘরবাড়ি। আর তাতেই নাকি তাদের সম্মান আর করছেন শান্তির বসবাস।

উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের সাহাবাজ গ্রামের খড়ের ঘরের কারিগর জাফর মিয়া বলেন, খড়ের ঘর তৈরি করতে আমাদের সময় লাগত কয়েক দিন। স্বল্প ব্যয়ে তৈরি করা হতো এসব ঘর। আধুনিকতার দিনে খড়ের তৈরি এসব ঘর এখন আর চোখে পড়ে না। খড়ের ঘরগুলো গরমে থাকার জন্য বেশ আরামদায়ক গরমের দিনে ঠান্ডা থাকে খড়ের ঘরগুলো কিন্তু এখন আর তেমনটা চোখে পড়ে না খড়ের ঘর।

জানা গেছে, খড়ের ছাউনির ঘর তৈরির জন্য গ্রামে কিছু কারিগর ছিল। তাদের মজুরি ছিল ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। বিশেষ কায়দায় খড়কে সাজিয়ে কয়েকটি ধাপের মাধ্যমে ছাউনি দেয়া হতো। সাধারণত বন্যা, ভূমিকম্প, ঝড় কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এসব ঘর দীর্ঘদিন পর্যন্ত টিকে থাকে।