দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে এক্সেল লোড প্রকল্প বাস্তবায়নে জনবসতি উচ্ছেদ করে জমি অধিগ্রহন না করার জন্য প্রধান মন্ত্রীর দৃষ্টি আর্কষন করে সংবাদ সম্মেলন করছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।মুজিব শতবর্ষে গৃহহীন পাচ্ছে আশ্রয় আমরা কেন হবো
গৃহহীন বাস্তু ভিটা হারা, এই প্রতিপাদ্য সংবাদ সম্মেলনকারীদের।
গতকাল বিকেলে হাকিমপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী হিলি সিপি হতে চারমাথা এলাকাবাসী।
সংবাদ সম্মেলনে তারা লিখিত অভিযোগ করেন, যাতে লিখা রয়েছে, হাকিমপুর (হিলি) থানার গুরুত্বপুর্ণ বানিজ্যিক এলাকা সিপি রোড হইতে চারমাথার এলাকা। সরকারের গৃহীত প্রকল্পে সারা দেশে ২১টি এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের অধিনে একটি হিলি স্থলবন্দরে বাস্তবায়িত হবে। বর্তমানে প্রস্তাবিত এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য যে ভূমির প্রস্তাব করা হইয়াছে সেই ভূমিটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও ঘন জনবসতিপূর্ণ এলাকা ও হিলির প্রাণ কেন্দ্র। এই জায়গাগুলোর উপর ১১ টি বহুতল ভবন ৪ টি সরকারি বেসরকারি ব্যাংক যেমন, সোনালি ব্যাংক, যুমনা ব্যাংক, ইসলামি ব্যাংক ও ডাচ-বাংলা ব্যাংকের শাখা ও এজেন্ট শাখা , আমদানীকারক, সিএন্ডএফ এজেন্ট ও অন্যান্য অফিস। একটি বহুতল আবাসিক হোটেল, ১০ টিরও অধিক খাবার হোটেল, প্রায় ১০০ টির অধিক,বিভিন্ন দোকান পাট বিদ্যমান। এখানে প্রতি শতাংশ জমির বাজার মূল্য প্রায় পঁচিশ লক্ষ টাকা।
যে রাস্তাটি এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাব করা হইয়াছে সেটি এলজিইডি রাস্তা। শুধু মাত্র ভারতীয় ট্রাক ও বাংলা ট্রাক হিলি স্থলবন্দরে প্রবেশ করার জন্য এ রাস্তায় চলাচল করে। হিলি স্থলবন্দর কতৃর্পক্ষ যানযট নিরসনে বন্দরের পশ্চিম পাশ দিয়ে কবর স্থানের নিকট একটি গেট খোলার প্রস্তাব করেছে। প্রস্তাবটি অনুমোদিত হইলে বন্দরের সকল লোডকৃত বাংলা ট্রাক ঐ গেট দিয়ে বাহির হয়ে আঞ্চলিক মহাসড়কে উঠবে। তখন বর্তমানে প্রস্তাবিত ওজন এক্সেলটি সরকারের কোন কাজে আসিবে না। প্রস্তাবিত এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রন কেন্দ্র হইতে মাত্র ৮০০ গজ পশ্চিমে আঞ্চলিক মহাসড়কের রাস্তা। ঐ রাস্তায় ওজন স্কেল টি স্থাপন করিলে বন্দরের লোডকৃত ট্রাক সহ পঞ্চগড় হতে আসা পাথর ও বালুবাহী ট্রাক ঠাকুরগাঁ হতে আলু ও ভূট্রা বাহী ট্রাক, দিনাজপুরের মধ্যপাড়া হইতে পাথর ও কয়লাবাহী ট্রাক ও দিনাজপুরের চাউলবাহী ট্রাক তথা পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁ, নীলফামারী, দিনাজপুর হইতে মালবাহী যে সমস্ত ট্রাকগুলি হিলির উপর দিয়ে যাতায়াত করে সেই সমস্ত ট্রাক গুলির ওজন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভম হবে।
পাশাপাশি সরকার ভবিষৎতে মহাসড়কে যে টোল আদায়ের চিন্তা ভাবনা করেছেন তাও এই ওজন স্কেলেরঘরে আদায় করা সহজ হবে। তাছাড়াও হিলি স্থলবন্দর দিয়ে যেসকল মালামাল আমদানী করা হয় তাহার সিংহভাগ লোকাল ট্রাক দিয়ে বন্দর থেকে হিলির বিভিন্ন গোডাউনে আনলোড করা হয়। গোডাউন হইতে পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়।
আরো উল্লেখ্য যে রেলওয়াগনে করে হিলি রেল স্টেশনে পাথর, গম, চাউল আন-লোড হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে গমণ করে। তাহা হইলে প্রস্তাবিত স্থানে ওজন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রটি স্থাপন করলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হবে না। বর্তমানে এমনিতেই ভারতীয় গাড়ি ও বাংলা গাড়ি বন্দরে প্রবেশ জন্য রাস্তায় অপেক্ষাওমান থাকে। ফলে রাস্তায় যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রস্তাবিত স্থানে এক্সেল লোড স্থাপিত হইলে আরো মহা যানজটের সৃষ্টি হবে ও জনদূর্ভক আরো বাড়বে। পাশাপাশি সরকার অনুমোদিত ওজন সীমার অতিরিক্ত ওজন রোধ করা সম্ভব হবে না। এর ফলে সরকারের বিপুল পরিমান অর্থই অপচয় হবে মাত্র।
দেশের অন্যান্য বন্দরে এই একই প্রকল্প বাস্তবায়ণ করা হচ্ছে। সেগুলো বন্দর হইতে বেশ কিছু দূরে, এমন ভাবে স্থাপন করা হচ্ছে যাহাতে কোন ট্রাকই ওজন বা এক্সেল ব্যতিত অন্য কোন রাস্তা দিয়ে যেতে পারবে না। প্রক্ষান্তরে অধিক টাকা ব্যায়ে প্রস্তাবিত স্থানে এক্সেল লোড স্থাপন করে মাত্র কয়েকটি বন্দরের গাড়ি ওজন করা ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই। ফলে সরকার বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হইবে। বন্দরে সিংহভাগ গাড়ী লোকাল গোডাউনে আনলোড হয়। গাড়ি গুলোর ওজন মাপার জন্য বন্দরের ভিতরে দুটি ওজন স্কেল রয়েছে। হিলির জিরো পয়েন্ট থেকে পৌরসভা পর্যন্ত হিলির প্রধান ব্যবসা বাণিজ্য কেন্দ্র পাশাপাশি একটি ঘন বসতিপূর্ণ এলাকা। সেহেুতু বর্তমান প্রস্তাবিত প্রকল্পটির জন্য স্থান নিধার্রণ কোন ভাবেই সঠিক হয়নি।
প্রকল্পটি প্রস্তাবিত জায়গায় নির্মিত হইলে আবাসিক বানিজ্যিক সরকারি এই তিন শ্রেণি সহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে রোগী চলাচলের উপর প্রভাব পড়বে।
এলাকাবাসির দীর্ঘ দিনের দাবি, যেহেতু হিলি একটি ট্রানজিট শহর। অথ্যাৎ পঞ্চগড় হইতে রাজশাহী বগুড়া এবং বগুড়া জয়পুরহাট নওগাঁ হইতে রংপুর পঞ্চগড় যাওয়ার ভায়া পথ হিলি। এ শহরের বাহির দিয়ে একটি বিকল্প রাস্তা করা হলে শহর যানজট মুক্ত ও সৌন্দযর্য বর্ধিত হবে পাশাপাশি আমদানি রপ্তানি বাণিজ্য স্বাভাবিক চলাচল করবে।
প্রস্তাবিত স্থানে এক্সেল লোড প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করলে সরকারের কয়েক শো কোটি টাকা ক্ষতিগ্রস্থ হইবে।পাশাপাশি এলাকার সাধারণ জনগণের দূর্ভগ বাড়বে। এছাড়াও ভারত হইতে আসা পানির কারণে হিলি স্থলবন্দর সহ গোটা হিলিতে
জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হইবে। যাহার ফলে হিলি স্থলবন্দরে আমদানীকৃত মালামাল জলাবদ্ধতায় নষ্ট হইবে এবং হিলিতে অবস্থিত বিস্তৃণ্য ফসলি জমির ফসল নষ্ট হইবে এমনকি
হিলির কয়েক হাজার পরিবারের জীবন জীবিকার উপর প্রভাব পড়বে।
এই জন্য আমরা এলকাবাসী হিলি স্থল বন্দরে এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প প্রস্তাবিত স্থানে অধিগ্রহণের প্রস্তাব প্রত্যাহার করছি এবং সরকারের উদ্দেশ্য সফল করার জন্যে হাকিমপুরের আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রটি স্থাপন করার জন্য জোড় দাবি জানাচ্ছি।
সরকার যেখানে বঙ্গবন্ধুর জন্ম শত বার্ষিকীউপলক্ষ্যে গৃহহীনকে গৃহ প্রদান করিতেছে যেখানে আমরা হিলিবাসী গৃহহীন হইয়া পড়ছি। এখানে উল্লেখ্য যে, প্রথমত, হাকিমপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে বাসুদেবপুর (মুহাড়াপাড়া) বিজিবি ক্যাম্পের পাশে প্রকল্পটি নির্মাণ করা হইলে কোন ঘরবাড়ি পড়বে না। ফলে সরকার ক্ষতিপূরণ বাবদ কোন অর্থই ব্যয় হইবে না। ফলে অল্প খরচে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন সম্ভব।
দ্বিতীয়, আঞ্চলিক মহাসড়ক পশু হাসপাতালের নিকট সরকারের অধিগ্রহনকৃত বিশাল জায়গা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। সেখানেও এক্সেল লোড প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। তৃতীয়ত, হিলি হাকিমপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে চারমাথা হইতে রাজধানী মোড় পর্যন্ত ফোরলেন রাস্তা হচ্ছে। সেখানে রাস্তা সংলগ্ন বিশাল সরকারী খাস জমি আছে যাহা কিছু জনগণ এমনিতেই ভোগ দখল করিতেছে। এই তিনটি জায়গার মধ্যে যেকোন একটি স্থানে উক্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করিলে বর্তমান প্রস্তাবিত জায়গাটির চেয়ে অনেক কম খরচে সরকার প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করিতে পারিবে। ফলে সরকারের বিপুল পরিমান অর্থ সাশ্রয় হইবে। যাহার পরিমাণ প্রায় ২০০ কোটি টাকা। পাশাপাশি সরকার যে উদ্দেশ্যে প্রকল্পটি করিতেছে তাহা সফল হইবে।
আমরা আশাবাদী সরকার আমাদের মতো অসহায় মানুষগুলোকে দেখবেন এবং সরকারও অনেক লাভবান হবেন।
মোসলেম উদ্দিন, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, দিনাজপুর 
















