সদ্য প্রয়াত হয়েছেন নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের তুখোড় ছাত্রনেতা, সাংবাদিক, রাজনীতিক ও সংস্কৃতি সংগঠক মাহমুদুল গণি রিজন। গত ২৭ এপ্রিল সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি জেলা কমিটির সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী গাইবান্ধা জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন গাইবান্ধা জেলা সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রিজন। তার হঠাৎ প্রয়াণে গাইবান্ধার রাজনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ বিভিন্ন অঙ্গনে নেমে আসে শোকের ছায়া।
অকাল প্রয়াত মাহমুদুল গণি রিজন-এর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গাইবান্ধায় আয়োজন করা হয় স্মরণ সভা। শনিবার (০৮ মে) সকাল ১১টায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি গাইবান্ধা জেলা কার্যালয় চত্বরে এ স্মরণ সভার আয়োজন করে। সদ্য প্রয়াত মাহমুদুল গণি রিজনকে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করেছে পার্টির নেতাকর্মীরাসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ। জেলা সিপিবি সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মুকুলের সঞ্চালনায় স্মরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন সিপিবি প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জেলা সভাপতি মিহির ঘোষ।
শনিবার সকালে স্মরণ সভায় কালো ব্যাজ ধারণ, শোক বইতে শোক অনুভূতি প্রকাশ, রিজনের বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের আলোকচিত্র প্রদর্শন, নীরবতা পালন, প্রয়াত রিজনকে নিবেদিত স্বরচিত কবিতা পাঠ, কমিউনিষ্ট আন্তর্জাতিক সংগীত পরিবেশনের সাথে লাল সালাম জানিয়ে রিজনকে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর শুরু হয় স্মৃতিচারন ও আলোচনা। এরআগে সিপিবি জেলা কর্যালয় থেকে একটি শোকর্যালি বের হয়ে শহরের গুরুত্বপুর্ণগুলো সড়ক ঘুরে আবারও সিপিবি কর্যালয়ে এসে শেষ হয়।
স্মরণ সভায় আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, মাহমুদুল গণি রিজন মৃদুভাষী, সদালাপী ও পরোপোকারী মানুষ ছিলেন। অর্থ সম্পদের প্রতি তার কোন লোভ ছিলোনা। সবাইকে মন থেকে ভালোবাসতেন। তিনি ছিলেন গাইবান্ধার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অনন্য সংগঠক। ছিলেন একজন সমাজসেবক। অমায়িক, বন্ধুবৎসল, হৃদয়বান মানুষ হিসেবে মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
বক্তারা বলেন, আমরা ভাবতেই পারিনা তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই। তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন তা বিশ্বাস করতেও আমাদের কষ্ট হয়। তিনি শুধু একজন রাজনৈতিক নয়, তিনি ছিলেন একাধারে একজন সংস্কৃতি সংগঠক এবং সাংবাদিক। তবে তার রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে তিনি একজন আলোকিত এবং ভালোমানুষ ছিলেন। মাহমুদুল গণি রিজন অসম সমাজ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ছিলেন সোচ্চার এবং প্রতিবাদী কন্ঠ। কিন্তু দুর্ভাগ্য এই যে, আমরা তাকে অকালে হারিয়েছি।
স্মরণ সভায় স্মৃতিচারন করেন- প্রয়াত রিজনের স্ত্রী আল হামরা লায়লা শাপলা, সিপিবির সাবেক জেলা সভাপতি ওয়াজিউর রহমান র্যাফেল, সিপিবি গাইবান্ধা জেলা কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. মুরাদ জামান রব্বানী, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী গাইবান্ধা জেলা সংসদের সভাপতি অধ্যাপক জহুরুল কাইয়ুম, বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মশিউর রহমান মইশাল, গাইবান্ধা জেলা বারের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. সিরাজুল ইসলাম বাবু, বাংলাদেশ কৃষক সমিতির জেলা সাধারণ সম্পাদক সাদেকুল ইসলাম, সিপিবি নারী সেলের নেত্রী সুপ্রিয়া দেব, সিপিবি নেতা আব্দুল্লাহ আদিল নান্নু, ময়নুল কবীর মন্ডল, যোগেশ্বর বর্মন, আল মামুন মোবারক, গণসংগীত শিল্পী রণজিৎ সরকার, বাচিক শিল্পী দেবাশীষ দাশ দেবু. উদীচী জেলা সহ-সাধারণ সম্পাদক শিরিন আকতার, সময় টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার হেদায়েতুল ইসলাম বাবু, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শিক্ষক সমিতির জেলা সভাপতি নেয়ামুল ইসলাম পামেল, ইনডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের গাইবান্ধা প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম বাবু, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টিও জেলা নেতা মাসুদুর রহমান মাসুদ, একুশে টেলিভিশনের গাইবান্ধা প্রতিনিধি আফরোজা লুনা, কবি ও সাংবাদিক গৌতমাশিষ গুহ সরকার, গাইবান্ধা ডট নিউজের বার্তা প্রধান কায়সার রহমান রোমেল, জেলা বাসদ সমন্বয়ক গোলাম রব্বানী, বাসদ মার্কর্সবাদী জেলা নেতা কাজী আবু রাহেন শফিউল্লাহ খোকন, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের জেলা নেতা রানু সরকার, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন গাইবান্ধা জেলা সংসদের সভাপতি ওয়ারেছ সরকার প্রমুখ।অনুষ্ঠানে গাইবান্ধা বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ২৭ এপ্রিল হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে গাইবান্ধা শহরের মধ্যপাড়ার নিজ বাসবভনে মাহমুদুল গণি রিজন মৃত্যুবরন করেন। কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা মরহুম সুজা উদ দৌলা বাদশা মিয়ার তৃতীয় সন্তান মাহমুদুল গণি রিজন ১৯৬৮ সালের ১৮ জানুয়ারী গাইবান্ধা সদরের ঘাগোয়া ইউনিয়নের বারইপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। নি:সন্তান রিজন দীর্ঘদিন ধরে জেলা শহরের মধ্যপাড়ায় নিজ বাড়িতে স্কুল শিক্ষক স্ত্রী শাপলাকে নিয়ে বাস করছিলেন। তিনি দৈনিক সংবাদ, সাপ্তাহিক একতা, মাসিক দলিত কণ্ঠ এবং রেডিও টুডে-র গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি গাইবান্ধা থিয়েটারের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, আমরা ৯০-এর যোদ্ধা গাইবান্ধার আহŸায়ক ছিলেন।
করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, গাইবান্ধা 
















