সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সবুজ পাতার ফাঁকে দুলছে শিক্ষিত যুবকের স্বপ্ন

তোফায়েল হোসেন জাকির: নিভৃত এলাকার এক স্বপ্নবাজ যুবক মিজানুর রহমান।করেছেন মাস্টার্স পাস।চেষ্টা করেও কপালে জোটেনি চাকুরি। এরপর বেকারত্ব ঘুচাতে নানা স্বপ্ন দেখেন। সেই স্বপ্নের বাস্তবরূপ দিতে গড়ে তুলেছেন বিশালাকৃতির লেবু বাগান। এ বাগানই আত্ননির্ভশীল তিনি। সম্প্রতি সবুজ পাতার ফাঁকে ঝুলছে থোকা থোকা লেবু।

সরেজমিনে শনিবার (১৪ আগস্ট) গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভা এলাকার বোয়ালিয়া(হাজীপাড়া) গ্রামের মাঠে দেখা যায় মিজানুর রহমানের লেবু বাগানের দৃশ্য। এসময় বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত ছিলেন তিনি। এরই মধ্যে অধিক ফসল ফলাতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ রেজা-ই-মাহমুদ পরামর্শ দিচ্ছিলেন কৃষক মিজানুরকে।

জানা যায়, বোয়ালিয় (হাজীপাড়া) গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে মিজানুর রহমান। শিক্ষাজীবনে ২০১৫ সালে মাস্টার্স পাস করে। এরপর কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ঘুরছিলেন চাকরির পিছনে। ভাগ্যক্রমে তার কপালে জোটেনি একটি চাকুরি। ফলে শুরু হয় বেকারত্ব জীবনের অভিশাপ। এ অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে নিজেকে আত্ননির্ভশীল করা জন্য নানাভাবে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। এরই একপর্যায়ে মিজানুরের এক বন্ধুর লেবু বাগানকে অনুসরণ করে। এ থেকে অনায়াসে স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব, এমনটি নিশ্চিত হয়ে ২০১৬ সালে প্রথমে তিনটি লেবু চারা কিনে রোপন করা হয়। এই চারাগুলো থেকেই উৎপাদন করা হয় আরও অধিক পরিমানের চারা। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে বাগানের পরিধি। কোন প্রশিক্ষণ ছাড়াই কর্তমানে এক একর জমিতে মিজানুর রহমান গড়ে তুলেছে লেবু বাগান। এ বাগানের লেবু বিক্রি করে ঘরিয়েছে ভাগ্যের চাকা। এখন ভুলে গেছে সেই প্রত্যাশীত চাকুরির কথা। নিজে বানিয়েছে সফল উদ্যোক্তা। এখন তারই বাগানে সৃষ্টি হচ্ছে অন্যান্য মানুষদের কর্মসংস্থান। লেবু বিক্রি করে মিজানুরের বার্ষিক আয় প্রায় ৩ লক্ষাধিক টাকা।

শিক্ষিত এই উদ্যোক্তা মিজানুর রহমান জাগো২৪.নেট-কে  জানান, তার নিজস্ব এক একর জমিতে লেবু বাগান রয়েছে। উৎপাদিত লেবুগুলো স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে থাকেন তিনি। এ থেকে সার-কীটনাশক-শ্রমিক ও অন্যান্য খরচ বাদে বার্ষিক প্রায় ৩ লক্ষাধিক টাকা লাভ থাকে তার।

তিনি আরও বলেন, আমি এখন অনেকটাই স্বাবলম্বী। এটি অত্যান্ত লাভজন ফসল। কোন শিক্ষিত যুব যদি চাকুরির পিছে না ঘুরে কৃষিতে আত্ননিয়োগ করে তাহলে নতুন দ্বিগন্তের দ্বার উন্মোচন করা সম্ভব।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্তকর্তা সৈয়দ রেজা-ই-মাহমুদ জাগো২৪.নেট-কে  বলেন, ওই লেবু চাষি মিজানুর রহমানকে অধিক লাভবান করতে সর্বাত্নকভাবে চেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়াও কেউ যদি কৃষিকে ঘিরে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির স্বপ্ন দেখে এবং সেটি  পরিকল্পিতভাবে করা হয়, নিশ্চয় তিনি স্বাবলম্বী হবেন।

সবুজ পাতার ফাঁকে দুলছে শিক্ষিত যুবকের স্বপ্ন

প্রকাশের সময়: ১১:৪৮:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২১

তোফায়েল হোসেন জাকির: নিভৃত এলাকার এক স্বপ্নবাজ যুবক মিজানুর রহমান।করেছেন মাস্টার্স পাস।চেষ্টা করেও কপালে জোটেনি চাকুরি। এরপর বেকারত্ব ঘুচাতে নানা স্বপ্ন দেখেন। সেই স্বপ্নের বাস্তবরূপ দিতে গড়ে তুলেছেন বিশালাকৃতির লেবু বাগান। এ বাগানই আত্ননির্ভশীল তিনি। সম্প্রতি সবুজ পাতার ফাঁকে ঝুলছে থোকা থোকা লেবু।

সরেজমিনে শনিবার (১৪ আগস্ট) গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভা এলাকার বোয়ালিয়া(হাজীপাড়া) গ্রামের মাঠে দেখা যায় মিজানুর রহমানের লেবু বাগানের দৃশ্য। এসময় বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত ছিলেন তিনি। এরই মধ্যে অধিক ফসল ফলাতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ রেজা-ই-মাহমুদ পরামর্শ দিচ্ছিলেন কৃষক মিজানুরকে।

জানা যায়, বোয়ালিয় (হাজীপাড়া) গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে মিজানুর রহমান। শিক্ষাজীবনে ২০১৫ সালে মাস্টার্স পাস করে। এরপর কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ঘুরছিলেন চাকরির পিছনে। ভাগ্যক্রমে তার কপালে জোটেনি একটি চাকুরি। ফলে শুরু হয় বেকারত্ব জীবনের অভিশাপ। এ অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে নিজেকে আত্ননির্ভশীল করা জন্য নানাভাবে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। এরই একপর্যায়ে মিজানুরের এক বন্ধুর লেবু বাগানকে অনুসরণ করে। এ থেকে অনায়াসে স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব, এমনটি নিশ্চিত হয়ে ২০১৬ সালে প্রথমে তিনটি লেবু চারা কিনে রোপন করা হয়। এই চারাগুলো থেকেই উৎপাদন করা হয় আরও অধিক পরিমানের চারা। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে বাগানের পরিধি। কোন প্রশিক্ষণ ছাড়াই কর্তমানে এক একর জমিতে মিজানুর রহমান গড়ে তুলেছে লেবু বাগান। এ বাগানের লেবু বিক্রি করে ঘরিয়েছে ভাগ্যের চাকা। এখন ভুলে গেছে সেই প্রত্যাশীত চাকুরির কথা। নিজে বানিয়েছে সফল উদ্যোক্তা। এখন তারই বাগানে সৃষ্টি হচ্ছে অন্যান্য মানুষদের কর্মসংস্থান। লেবু বিক্রি করে মিজানুরের বার্ষিক আয় প্রায় ৩ লক্ষাধিক টাকা।

শিক্ষিত এই উদ্যোক্তা মিজানুর রহমান জাগো২৪.নেট-কে  জানান, তার নিজস্ব এক একর জমিতে লেবু বাগান রয়েছে। উৎপাদিত লেবুগুলো স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে থাকেন তিনি। এ থেকে সার-কীটনাশক-শ্রমিক ও অন্যান্য খরচ বাদে বার্ষিক প্রায় ৩ লক্ষাধিক টাকা লাভ থাকে তার।

তিনি আরও বলেন, আমি এখন অনেকটাই স্বাবলম্বী। এটি অত্যান্ত লাভজন ফসল। কোন শিক্ষিত যুব যদি চাকুরির পিছে না ঘুরে কৃষিতে আত্ননিয়োগ করে তাহলে নতুন দ্বিগন্তের দ্বার উন্মোচন করা সম্ভব।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্তকর্তা সৈয়দ রেজা-ই-মাহমুদ জাগো২৪.নেট-কে  বলেন, ওই লেবু চাষি মিজানুর রহমানকে অধিক লাভবান করতে সর্বাত্নকভাবে চেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়াও কেউ যদি কৃষিকে ঘিরে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির স্বপ্ন দেখে এবং সেটি  পরিকল্পিতভাবে করা হয়, নিশ্চয় তিনি স্বাবলম্বী হবেন।