ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচিতে অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রমাণের ঘটনায় গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার সাবেক দুই যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করেছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর। একই সঙ্গে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের কেন চাকরি থেকে বরখাস্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তার জবাব আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (আগস্ট) দুপুরে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আজহারুল ইসলাম খান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। অভিযুক্তরা হলেন, সাদুল্লাপুর উপজেলার সাবেক যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ইউসুফ আলী ভূইয়া (বর্তমানে নরসিংদীর বেলাব উপজেলায়) কর্মরত ও হাসান আলী (বর্তমানে সৈয়দপুর, নীলফামারী) কর্মরত।
অফিস আদেশে বলা হয়েছে, ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচিতে অত্যান্ত সুকৌশলে অনিয়ম দুর্নীতি ও জালিয়াতির সঙ্গে সম্পৃক্ত তৎকালীন যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ইউসুফ আলী ভুইয়া ও হাসেন আলী। তারা উভয়ে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণে সাদুল্লাপুর উপজেলার ৪ হাজার ২৯৪ জনের অনুমোদিত তালিকা দিয়েই প্রশিক্ষণ শুরু করে ভুয়া বিল-ভাউচার ও তথ্য গোপন করাসহ নানা কৌশলে সরকারের চৌদ্দ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয় করেন। এ নিয়ে যমুনা টেলিভিশনে প্রচারিত প্রতিবেদনসহ স্থানীয়ভাবে উত্থাপিত নানা অভিযোগ প্রাথমিক তদন্তে সত্যতাও পায় মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি। এছাড়া তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বহিরাগত ইমরান হোসেনকে বিধিবহিভূতভাবে নিযোগ ও প্রভাষক শরিফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ১৮ জনকে জালিয়াতির মাধ্যমে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্তির অভিযোগের প্রমাণও উঠে এসেছে।
আদেশে অসদাচারণ ও দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত তৎকালীন যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ইউসুফ আলী ভুইয়া ও হাসেন আলী সরকারী কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা-২০১৮ এর ৩ (খ) ও ৩(ঘ) অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। সুতরাং কেন তাদের বরখাস্ত করা হবেনা তার জবাব আগামি ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আদেশে পত্রে।
এরআগে, চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারী যমুনা টেলিভিশনের ‘ইনভেস্টিগেশন ৩৬০ ডিগ্রীতে‘ন্যাশনাল সার্ভিসের ঊঁইপোকা’অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচার হয়। বিষয়টি নজরে আসায় দুর্নীতি তদন্তে পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। যুগ্ন সচিব বদরে মুনিরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গাইবান্ধা ও রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ন্যালনাল সার্ভিস কর্মসূচি সরেজমিনে তদন্ত করেন। তদন্তে ঘুষ, অনিয়ম ও দুর্নীতিসহ কর্মকর্তাদের নানামুখী জালিয়াতির বিস্তর তথ্য-প্রমাণ পায় কমিটি। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর।
জিল্লুর রহমান পলাশ 


















