সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বোরো ধানের বাম্পার ফলনেও কৃষকরা দুশ্চিন্তায়

বগুড়ার নন্দীগ্রামে পুরোদমে শুরু হয়েছে বোরো ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজ। তাই নন্দীগ্রাম উপজেলার কৃষকরা কষ্টার্জিত সোনালী ফসল ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছে। এবারো নন্দীগ্রাম উপজেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকদের মুখে স্বস্তির হাসির পরিবর্তে দেখা দিয়েছে দুশ্চিন্তা। এর কারণ ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়া, জ্বালানি তেলের সঙ্কট ও বৈরী আবহাওয়া। সবমিলিয়ে চরম অস্বস্তিতে রয়েছে নন্দীগ্রাম উপজেলার কৃষকরা। তবুও তাঁরা আশা করছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং ধানের বাজারমূল্য আরও বাড়লে সন্তোষজনক লাভের মুখ দেখা যাবে। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি বোরো মৌসুমে নন্দীগ্রাম উপজেলায় ১৮ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকরা বোরো ধানের ফলনের সুফল পাবে। উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় সবখানেই পুরোদমে বোরো ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজ চলছে। তবে কৃষকদের অভিযোগ, চাহিদামতো ডিজেল না পাওয়ায় তাদের ভোগান্তি বেড়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ধান মাড়াইয়ের খরচও বেশি হচ্ছে।

নন্দীগ্রাম উপজেলার হাটলাল গ্রামের কৃষক আফছার আলী বলেন, অনেক টাকা ব্যয় করে ২৪ বিঘা জমিতে মিনিকেট জাতের বোরো ধান চাষ করি। কিছুদিন আগে শিলাবৃষ্টিতে ধানের অনেক ক্ষতি হয়েছে। এরপরেও জমিতে যে ধান ছিলো তা কাটা-মাড়াই করা হয়েছে। শিলাবৃষ্টি না হলে ধানের ফলন আরও ভালো পেতাম। প্রতিবিঘা জমির ধান কাটতে ৪ থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। আবার ধান মাড়াইয়ের জন্য বেশি দামে তেল কিনতে হয়েছে। তবুও চাহিদামতো তেল পাওয়া যায়নি। এদিকে ধানের বাজারমূল্য কম। যেকারণে আমরা দুশ্চিন্তায় আছি। বর্তমানে মিনিকেট ধান প্রতিমণ ১২২০ থেকে ১২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যা আগের তুলনায় কিছুটা বেশি হলেও কৃষকদের মতে এই দর সন্তোষজনক নয়।

নন্দীগ্রামের কৃষক আব্দুস সাত্তার বলেন, নন্দীগ্রাম উপজেলার ফসলি জমির মাটি উর্বর হবার কারণে বছরে একবার রবিশস্য ও তিনবার ধানের চাষাবাদ করা যায়। প্রতিবিঘা জমিতে বোরো ধানের হালচাষ-চারা রোপণ থেকে ধান কাটা-মাড়াই পর্যন্ত ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা ব্যয় হয় (আবার কমবেশিও হতে পারে)। বর্তমান ধানের বাজারমূল্যে আমরা খুশি না। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বর্তমান ধানের বাজারমূল্যে আমরা আশানুরূপ লাভবান হতে পারছি না। ধানের দাম আরও কিছুটা বাড়লে স্বস্তি পেতাম।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গাজীউল হক বলেন, নন্দীগ্রাম উপজেলার কৃষকরা ধান উৎপাদনে পারদর্শী। তাই এ উপজেলায় ধানের উৎপাদন বেশি হয়। আর আমরাও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষকদের পরামর্শ এবং বিভিন্নভাবে সহায়তা দিয়ে আসছি। ইতোমধ্যেই নন্দীগ্রাম উপজেলায় পুরোদমে বোরো ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজ চলছে। বিগত বছরের মতো এবারও বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। আমরা মনে করি ধানের বাজারমূল্য ভালো রয়েছে। প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হলে কৃষকরা ভালোভাবে ধান ঘরে তুলতে পারবে। উল্লেখ্য, বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলে প্রতিবিঘায় ২০-২৫ মণ হারে ধান পাওয়া যায় (আবার কমবেশিও হতে পারে)। এই উপজেলার বেশিরভাগ কৃষক ধানের ওপর নির্ভরশীল। যেকারণে ধানের বাজারমূল্য আশানুরূপ পেলে কৃষকরা স্বস্তি পায় বা খুশি হয়।

বোরো ধানের বাম্পার ফলনেও কৃষকরা দুশ্চিন্তায়

প্রকাশের সময়: ০৪:৪৯:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

বগুড়ার নন্দীগ্রামে পুরোদমে শুরু হয়েছে বোরো ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজ। তাই নন্দীগ্রাম উপজেলার কৃষকরা কষ্টার্জিত সোনালী ফসল ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছে। এবারো নন্দীগ্রাম উপজেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকদের মুখে স্বস্তির হাসির পরিবর্তে দেখা দিয়েছে দুশ্চিন্তা। এর কারণ ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়া, জ্বালানি তেলের সঙ্কট ও বৈরী আবহাওয়া। সবমিলিয়ে চরম অস্বস্তিতে রয়েছে নন্দীগ্রাম উপজেলার কৃষকরা। তবুও তাঁরা আশা করছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং ধানের বাজারমূল্য আরও বাড়লে সন্তোষজনক লাভের মুখ দেখা যাবে। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি বোরো মৌসুমে নন্দীগ্রাম উপজেলায় ১৮ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকরা বোরো ধানের ফলনের সুফল পাবে। উপজেলার বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় সবখানেই পুরোদমে বোরো ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজ চলছে। তবে কৃষকদের অভিযোগ, চাহিদামতো ডিজেল না পাওয়ায় তাদের ভোগান্তি বেড়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ধান মাড়াইয়ের খরচও বেশি হচ্ছে।

নন্দীগ্রাম উপজেলার হাটলাল গ্রামের কৃষক আফছার আলী বলেন, অনেক টাকা ব্যয় করে ২৪ বিঘা জমিতে মিনিকেট জাতের বোরো ধান চাষ করি। কিছুদিন আগে শিলাবৃষ্টিতে ধানের অনেক ক্ষতি হয়েছে। এরপরেও জমিতে যে ধান ছিলো তা কাটা-মাড়াই করা হয়েছে। শিলাবৃষ্টি না হলে ধানের ফলন আরও ভালো পেতাম। প্রতিবিঘা জমির ধান কাটতে ৪ থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। আবার ধান মাড়াইয়ের জন্য বেশি দামে তেল কিনতে হয়েছে। তবুও চাহিদামতো তেল পাওয়া যায়নি। এদিকে ধানের বাজারমূল্য কম। যেকারণে আমরা দুশ্চিন্তায় আছি। বর্তমানে মিনিকেট ধান প্রতিমণ ১২২০ থেকে ১২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যা আগের তুলনায় কিছুটা বেশি হলেও কৃষকদের মতে এই দর সন্তোষজনক নয়।

নন্দীগ্রামের কৃষক আব্দুস সাত্তার বলেন, নন্দীগ্রাম উপজেলার ফসলি জমির মাটি উর্বর হবার কারণে বছরে একবার রবিশস্য ও তিনবার ধানের চাষাবাদ করা যায়। প্রতিবিঘা জমিতে বোরো ধানের হালচাষ-চারা রোপণ থেকে ধান কাটা-মাড়াই পর্যন্ত ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা ব্যয় হয় (আবার কমবেশিও হতে পারে)। বর্তমান ধানের বাজারমূল্যে আমরা খুশি না। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বর্তমান ধানের বাজারমূল্যে আমরা আশানুরূপ লাভবান হতে পারছি না। ধানের দাম আরও কিছুটা বাড়লে স্বস্তি পেতাম।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গাজীউল হক বলেন, নন্দীগ্রাম উপজেলার কৃষকরা ধান উৎপাদনে পারদর্শী। তাই এ উপজেলায় ধানের উৎপাদন বেশি হয়। আর আমরাও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষকদের পরামর্শ এবং বিভিন্নভাবে সহায়তা দিয়ে আসছি। ইতোমধ্যেই নন্দীগ্রাম উপজেলায় পুরোদমে বোরো ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজ চলছে। বিগত বছরের মতো এবারও বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। আমরা মনে করি ধানের বাজারমূল্য ভালো রয়েছে। প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হলে কৃষকরা ভালোভাবে ধান ঘরে তুলতে পারবে। উল্লেখ্য, বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলে প্রতিবিঘায় ২০-২৫ মণ হারে ধান পাওয়া যায় (আবার কমবেশিও হতে পারে)। এই উপজেলার বেশিরভাগ কৃষক ধানের ওপর নির্ভরশীল। যেকারণে ধানের বাজারমূল্য আশানুরূপ পেলে কৃষকরা স্বস্তি পায় বা খুশি হয়।