শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মানুষ তাকে রূপে নয়, গুণে চেনেন

মহিলা আমলাদের সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা হলে তিনি নির্দ্বিধায় প্রথম পুরস্কারটি নিয়ে যেতেন। যদিও মানুষ তাকে রূপে নয়, গুণে চেনেন। পদমর্যাদায় তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রীর সচিব। তবে সে রাজ্যের মানুষের দেওয়া একটি আদরের ডাক নামও আছে। তিনি তাদের চোখে ‘পিপলস অফিসার’ অর্থাৎ ‘জনতার প্রশাসক’।

‘ভালো’ নাম স্মিতা সভরবাল। স্মিতা বাঙালি কন্যা। পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিংয়ে জন্ম। বাবা-মা দুজনেই বাঙালি। তবে বাঙালি পরিবারে বড় হলেও স্মিতা বাংলায় থেকেছেন কম। বাবা কর্নেল প্রণব দাস সাবেক সেনা কর্মকর্তা। বাবার কর্মসূত্রেই দেশের বিভিন্ন রাজ্যে থেকেছেন। বিভিন্ন স্কুল-কলেজে পড়াশোনা করেছেন। সেকেন্দরাবাদে হাইস্কুল, হায়দরাবাদে কলেজ শেষ করেছিলেন স্মিতা।

তবে মেধাবী ছাত্রীর তাতে পড়াশোনায় ক্ষতি হয়নি। আইসিএসই পরীক্ষায় গোটা দেশে প্রথম হয়েছিলেন। ২২ বছর বয়সে ইউপিএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। সেই পরীক্ষাতেও দেশের মধ্যে চতুর্থ হয়েছিলেন স্মিতা। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে মহিলা আইএএস কর্তার নিয়োগ একটা সময়ে বিরল বিষয় ছিল। স্মিতাই প্রথম মহিলা আইএএস, যাকে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে নিয়োগ করা হয়।

তার আগে কুর্নুলের জয়েন্ট কালেক্টর, করিমনগর এবং মেডকের জেলা শাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল স্মিতাকে। সেসব এলাকায় একের পর এক পরিকাঠামোর উন্নয়ন করে জনতার সমর্থন সরকারের দিকে টেনে এনেছিলেন এই জেলা শাসক। তার সময়ে করিমনগরের ভোটদাতার সংখ্যা রেকর্ড ছুঁয়েছিল।

প্রশাসক হিসেবে স্মিতার জনপ্রিয়তার আরও একটি কারণ, তার বিভিন্ন বাস্তবমুখী সামাজিক প্রকল্প-ভাবনা। এলাকার মানুষের আর্থিক উন্নয়ন তো বটেই, সামাজিক অবস্থানগত উন্নতির জন্যও বিভিন্ন প্রকল্প এনেছিলেন স্মিতা। তার মধ্যে অন্যতম কয়েকটি হলো- ‘আম্মাললনা’, ‘প্রজাবাণী’, ‘ফান্ড ইয়োর সিটি’। এসব প্রকল্পে মানুষের সঙ্গে সরকারের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের এবং আমজনতার সমস্যা শুনে তা সমাধানের ব্যবস্থা করেছিলেন স্মিতা। সেসব প্রকল্প এখনও বেশ সফল তেলেঙ্গানায়।

স্মিতা প্রযুক্তি ভালোবাসেন। প্রযুক্তির সাহায্যেই দিনরাত যোগাযোগ রাখেন মানুষের সঙ্গে। মনে করেন, একজন প্রশাসকের শাসনদক্ষতার মূলে থাকে জনসংযোগই। সেই আদর্শ থেকেই স্মিতা ধৈর্য ধরে মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনেন। মানুষের সঙ্গে ব্যক্তিগত স্তরে যোগাযোগ রাখেন। তাকে দেওয়া ‘পিপলস অফিসার’ অভিধার আসল কারণ সেটাই।

স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও তেলেঙ্গানায় স্মিতার কাজ প্রশংসিত হয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা এক বাক্যে মেনে নিয়েছেন, স্মিতা জেলা শাসক থাকাকালীন তেলেঙ্গানার বিভিন্ন জেলার পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য পরিষেবা উন্নত হয়েছে। প্রত্যন্ত গ্রামের মহিলারা সংস্কারবশত হাসপাতালে যেতে চাইতেন না একটা সময়। স্মিতা তাদের বুঝিয়ে স্বাস্থ্য সচেতন করেছেন।

পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি তার শাসন দক্ষতায় জেলাগুলোর নারী এবং শিশু মৃত্যুর হারও অনেকটা কমে যায়। এমনকি সফটওয়্যারের সাহায্য নিয়ে সরকারি স্কুলগুলোর পড়াশোনার ওপরেও নিয়মিত নজর রাখার উপায় বের করেছিলেন তিনি। ২০১২ সালে প্রধানমন্ত্রী মনোনীত সেরা জেলা হিসেবে নির্বাচিত হয় তার শাসনে থাকা করিমনগর।

তবে এসব সামলেও স্মিতা পুরোদমে সংসার করেন। বিয়ে করেছেন অবাঙালিকে। তার স্বামী আকুন সভরবাল একজন আইপিএস অফিসার। দুই সন্তানও আছে এই সুন্দরী আমলার। তাদের নাম নানক এবং ভুবিস সভরবাল। অবসরে বেড়াতে ভালোবাসেন স্মিতা। কিন্তু এত কিছু সামলানোর অনুপ্রেরণা পান কোথা থেকে? স্মিতা জানিয়েছেন, সাফল্যই তার অনুপ্রেরণা। যখন দেখেন, স্বপ্নের পেছনে তার ছোটা ব্যর্থ হয়নি। তখনই আরও দৌড়ানোর জোর পান।

জনপ্রিয়

সাদুল্লাপুরে এমপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে যুবদল নেতার পাল্টা সংবাদ সম্মেলন

মানুষ তাকে রূপে নয়, গুণে চেনেন

প্রকাশের সময়: ০৭:০১:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১

মহিলা আমলাদের সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা হলে তিনি নির্দ্বিধায় প্রথম পুরস্কারটি নিয়ে যেতেন। যদিও মানুষ তাকে রূপে নয়, গুণে চেনেন। পদমর্যাদায় তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রীর সচিব। তবে সে রাজ্যের মানুষের দেওয়া একটি আদরের ডাক নামও আছে। তিনি তাদের চোখে ‘পিপলস অফিসার’ অর্থাৎ ‘জনতার প্রশাসক’।

‘ভালো’ নাম স্মিতা সভরবাল। স্মিতা বাঙালি কন্যা। পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিংয়ে জন্ম। বাবা-মা দুজনেই বাঙালি। তবে বাঙালি পরিবারে বড় হলেও স্মিতা বাংলায় থেকেছেন কম। বাবা কর্নেল প্রণব দাস সাবেক সেনা কর্মকর্তা। বাবার কর্মসূত্রেই দেশের বিভিন্ন রাজ্যে থেকেছেন। বিভিন্ন স্কুল-কলেজে পড়াশোনা করেছেন। সেকেন্দরাবাদে হাইস্কুল, হায়দরাবাদে কলেজ শেষ করেছিলেন স্মিতা।

তবে মেধাবী ছাত্রীর তাতে পড়াশোনায় ক্ষতি হয়নি। আইসিএসই পরীক্ষায় গোটা দেশে প্রথম হয়েছিলেন। ২২ বছর বয়সে ইউপিএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। সেই পরীক্ষাতেও দেশের মধ্যে চতুর্থ হয়েছিলেন স্মিতা। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে মহিলা আইএএস কর্তার নিয়োগ একটা সময়ে বিরল বিষয় ছিল। স্মিতাই প্রথম মহিলা আইএএস, যাকে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে নিয়োগ করা হয়।

তার আগে কুর্নুলের জয়েন্ট কালেক্টর, করিমনগর এবং মেডকের জেলা শাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল স্মিতাকে। সেসব এলাকায় একের পর এক পরিকাঠামোর উন্নয়ন করে জনতার সমর্থন সরকারের দিকে টেনে এনেছিলেন এই জেলা শাসক। তার সময়ে করিমনগরের ভোটদাতার সংখ্যা রেকর্ড ছুঁয়েছিল।

প্রশাসক হিসেবে স্মিতার জনপ্রিয়তার আরও একটি কারণ, তার বিভিন্ন বাস্তবমুখী সামাজিক প্রকল্প-ভাবনা। এলাকার মানুষের আর্থিক উন্নয়ন তো বটেই, সামাজিক অবস্থানগত উন্নতির জন্যও বিভিন্ন প্রকল্প এনেছিলেন স্মিতা। তার মধ্যে অন্যতম কয়েকটি হলো- ‘আম্মাললনা’, ‘প্রজাবাণী’, ‘ফান্ড ইয়োর সিটি’। এসব প্রকল্পে মানুষের সঙ্গে সরকারের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের এবং আমজনতার সমস্যা শুনে তা সমাধানের ব্যবস্থা করেছিলেন স্মিতা। সেসব প্রকল্প এখনও বেশ সফল তেলেঙ্গানায়।

স্মিতা প্রযুক্তি ভালোবাসেন। প্রযুক্তির সাহায্যেই দিনরাত যোগাযোগ রাখেন মানুষের সঙ্গে। মনে করেন, একজন প্রশাসকের শাসনদক্ষতার মূলে থাকে জনসংযোগই। সেই আদর্শ থেকেই স্মিতা ধৈর্য ধরে মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনেন। মানুষের সঙ্গে ব্যক্তিগত স্তরে যোগাযোগ রাখেন। তাকে দেওয়া ‘পিপলস অফিসার’ অভিধার আসল কারণ সেটাই।

স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও তেলেঙ্গানায় স্মিতার কাজ প্রশংসিত হয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা এক বাক্যে মেনে নিয়েছেন, স্মিতা জেলা শাসক থাকাকালীন তেলেঙ্গানার বিভিন্ন জেলার পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য পরিষেবা উন্নত হয়েছে। প্রত্যন্ত গ্রামের মহিলারা সংস্কারবশত হাসপাতালে যেতে চাইতেন না একটা সময়। স্মিতা তাদের বুঝিয়ে স্বাস্থ্য সচেতন করেছেন।

পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি তার শাসন দক্ষতায় জেলাগুলোর নারী এবং শিশু মৃত্যুর হারও অনেকটা কমে যায়। এমনকি সফটওয়্যারের সাহায্য নিয়ে সরকারি স্কুলগুলোর পড়াশোনার ওপরেও নিয়মিত নজর রাখার উপায় বের করেছিলেন তিনি। ২০১২ সালে প্রধানমন্ত্রী মনোনীত সেরা জেলা হিসেবে নির্বাচিত হয় তার শাসনে থাকা করিমনগর।

তবে এসব সামলেও স্মিতা পুরোদমে সংসার করেন। বিয়ে করেছেন অবাঙালিকে। তার স্বামী আকুন সভরবাল একজন আইপিএস অফিসার। দুই সন্তানও আছে এই সুন্দরী আমলার। তাদের নাম নানক এবং ভুবিস সভরবাল। অবসরে বেড়াতে ভালোবাসেন স্মিতা। কিন্তু এত কিছু সামলানোর অনুপ্রেরণা পান কোথা থেকে? স্মিতা জানিয়েছেন, সাফল্যই তার অনুপ্রেরণা। যখন দেখেন, স্বপ্নের পেছনে তার ছোটা ব্যর্থ হয়নি। তখনই আরও দৌড়ানোর জোর পান।