দূর্যোগ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বলেছেন, রংপুরের পীরগঞ্জে রামনাথপুর ইউনিয়নের বড়করিমপুর কসবা জেলে পল্লীতে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন করতে সব ধরণের ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে সবকিছু মনিটরিং করছে।
আগুনে পুড়ে যাওয়া ক্ষতিগ্রস্তদের সংস্কার কার্যক্রম পরিদর্শণ শেষে শনিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে পীরগঞ্জের বটের হাট আরডিএস দাখিল মাদ্রাসা মাঠে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. এনামুর রহমান আরো বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পূনর্বাসন করতে সরকার সব ধরণের সহযোগীতা করবে। এ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো সরকারি ও বেসরকারী সংস্থার কার্যক্রমের বর্ণনা করেন।
তিনি জানান, ১৭ অক্টোবর ঘটনার পর গত ১৯ অক্টোবর জাতীয় সংসদের স্পিকার ও পীরগঞ্জের সংসদ সদস্য ড.শিরীন শারমীন চৌধুরী ১০০ বান্ডিল ঢেউটিন, নগদ ৩ লক্ষ টাকা, সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং ত্রাণ ও দূর্যোগ মন্ত্রণালয়ের প্রাপ্ত বরাদ্দ থেকে ৬৬ জনকে ১০ হাজার করে ৬ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা ও ১৫ জন জেলেকে জাল প্রদান করেন। ২০ অক্টোবর ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান এমপি ৩৩ জনকে ৫ হাজার টাকা করে, ২৮ জনকে ১০ হাজার টাকা করে ৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা, ২৫ প্যাকেট গো–খাদ্য, ৪০ প্যাকেট শিশু খাদ্য প্রদান করেন। একই দিনে রংপুর জেলা পরিষদ থেকে ২৫ জন কে ৫ হাজার টাকা করে প্রদান করেন। ২১ অক্টোবর দূর্যোগ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডাঃ এনামুর রহমান ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শণ শেষে ৬৬ টি পরিবারের মাঝে ২০০ প্যাকেট শুকনো খাবার, ৬৬ টি কম্বল, ৬৬ শাড়ী, ৬৬ লুঙ্গী বিতরণ করেন। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার এবং ২টি মন্দির সংস্কারের জন্য জেলা পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে ১১ লক্ষ টাকা বিতরণ করা হয়।
দূর্যোগ ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর মাঝে মোট ১৬৬ টি শাড়ী, ২৬৬ টি লুঙ্গী, ১৬৬ টি কম্বল, ৪০০ শুকনো খাবার প্যাকেট, ৪০ প্যাকেট শিশু খাদ্য, ১০০ বান্ডিল টিন, ১৫ জেলেকে মাছ ধরার জাল ও নগদ ২৫ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়াও জেলা প্রশাসনের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে বেসরকারী সংস্থা রেড ক্রিসেন্ট, বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন, আরডিআরএস এর পক্ষ থেকে ৩৪ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। অন্যদিকে আরো অনেক ব্যক্তি ও সংস্থা তাদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের সচিব মো: মোহসিন, জেলা প্রশাসক আসিব আহসান, পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিরোদা রানী রায়, উপজেলা আ’লীগের সাধারণ ও পৌর মেয়র তাজিমুল ইসলাম শামীম প্রমূখ।
উল্লেখ্য, গত ১৭ই অক্টোবর রোববার উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের বড় করিমপুর কসবা জেলে পল্লীর বাসিন্দা প্রশান্ত কুমারের ছেলে পরিতোষ কুমার (১৯) ফেসবুকের একটি পোস্টে মন্তব্যের ঘরে কাবাঘরের ব্যঙ্গ ছবি দেয়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে রাত ১০ টার পর দূর্বৃত্তরা কসবা জেলে পল্লীতে বাসিন্দাদের বাড়ীঘর লুটপাট ও ভাংচুর করে আগুন লাগিয়ে দেয় এতে ৫০ টির বেশি ঘর পুড়ে যায়।
সরকার বেলায়েত, করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, পীরগঞ্জ (রংপুর) 















