বৃদ্ধা ফাতেমা বেগম। ঝি’র কাজ করেই জীবিকা নির্বাহ তার পরিবারের। সুমন আকন্দ নামে রয়েছে এক সন্তান। এ সন্তানটি হারিয়েছে মানসিক ভারসাম্য। এ থেকে রেহাই পেতে কখনো তালাবদ্ধ ঘরে আবার কখনো শিকলে বেঁধে রাখতে হচ্ছে সুমনকে। ইতিমধ্যে অসুস্থ সন্তানকে সুস্থ করার চেষ্টায় ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকা। এখন অর্থাভাবে থমকে গেছে সুমনের চিকিৎসাসেবা।
বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের চিকনী গ্রামে দেখা যায়, পায়ে শিকলবন্দি সুমনের নানা উপদ্রুপ। এসময় মা ফাতেমা বেগম ঘরে বসে কাঁদছিলেন অঝোড়ে।
জানা যায়, ওই গ্রামের দিনমজুর আবু বক্কর সিদ্দিকের স্ত্রী ফাতেমা বেগম। দাম্পত্য জীবনে ১০ সন্তানের জননী। এর মধ্যে ৫ ছেলে ও ২ মেয়েসহ মোট ৭ সন্তান বিভিন্ন সময়ে মারা যায়। অবশিষ্ট তিন ছেলেকে নিয়ে জীবিকার তাগিদে কাজ করছেন ঢাকার পুরানপাড়া এলাকায়। সেখানে অন্যান্যের বাসা-বাড়িতে ঝি’র কাজ করে চলেছে ফাতেমা বেগম। আর ভ্যানযোগে কাঁচামাল ব্যবসা করছে তার স্বামী সিদ্দিক আকন্দ। তা দিয়ে কোনমতে সংসার চলছিল তাদের। এরই মধ্যে ফারুক আকন্দ নামের বড় ছেলেটি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে কয়েক বছর আগে নিখোঁজ হলেও এখনো মেলেনি তার সন্ধান। এরপর মেঝো ছেলে সুমন আকন্দের বয়স যখন ৮, তখন থেকে হারিয়ে ফেলে মানসিক ভারসাম্য। এই সুমনের বয়স এখন ১৭ বছর। এ ছেলে সুস্থ করতে বিভিন্ন চিকিৎসকের চিকিৎসাসেবা নেওয়া হয়। কিন্তু কিছুতেই আরগ্য হয়নি। এভাবেই দীর্ঘ ৯ বছর চিকিৎসা নেওয়া হয়েছে সুমনের। এর ব্যয় বহন করতে প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়েছে। এতে ঋণ করা হয় ৩ লাখ টাকা। এর ফলে সর্বশান্ত হয়েছে পরিবারটি। এখন খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে তাদের। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে অর্থাভাবে বন্ধ রয়েছে সুমনের সুচিকিৎসা।
এসব তথ্য নিশ্চিত করে ফাতেমা বেগম জানান, ছেলে সুমনকে নিয়ে নির্ঘুম রাত পোহাতে হচ্ছে। তার মানসিক সমস্যা বেড়ে গেলে ঘরবাড়ি ও আসবাপত্র ভাঙচুর করাসহ পরিবারের লোকজনকে মারপিট করে চলেছে। এমন পরিস্থিতিতে কখনো ঘরে তালাবন্দি আবার কখনো পায়ে শিকল বেঁধে রাখতে হচ্ছে সুমনকে।
তিনি আরও বলেন, আমরা গরীব মানুষ। মানুষের বাড়িতে কাজকর্ম করে খাই। একদিন কাজ না করলে ভাত যায় না পেটে। তার উপর ছেলেকে ডাক্তার দেখাতে ৫ লাখেরও বেশি টাকা খরচ হয়েছে। এর মধ্যে ধার-দেনা করা হয়েছে ৩ লাখ টাকা। এখন কীভাবে ছেলেকে সুস্থ করবো, এমন কোন সামর্থ নেই আমাদের।
জামালপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান মণ্ডল জানান, এ বিষয়টি জানা নেই। তবে খতিয়ে দেখা হবে।
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট 

















